পথের পাঁচালীর খরচ সড়ক উন্নয়ন খাতে দেখানো হয়েছে (১ম পর্ব )

সরোজ ঘোষ:

এক সময় টাকার জন্য ডঃ বিধান চন্দ্র রায়ের মারফৎ পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কাছে আবেদন করলেন। ডা. রায়ের সঙ্গে সত্যজিৎ এর পরিবারের পূর্ব পরিচিতি ছিল। এই দুই পরিবারই ব্রাহ্ম ছিলেন। যাই হোক, বিধানচন্দ্রের মহানুভবতায় ‘পথের পাঁচালী’র জন্য সরকারি কোষাগার থেকে অর্থের যোগান এল। ১৯৫৫তে ‘পথের পাঁচালী’ মুক্তি পেল। সেই সঙ্গে জাতীয় পুরস্কার সহ ১২ টি আন্তর্জাতিক পুরস্কার। সত্যজিৎ রায় কথা রেখেছেন। ডা. রায় যে লোক চিনতে ভুল করেন না তা আরেকবার প্রমাণিত হলো। এই অবধি সব ঠিকঠাক ছিল। গোলযোগ বাঁধলো বর্ষ শেষের অডিটের সময়। তখন সিনেমার জন্য সরকারি তহবিল থেকে আর্থিক অনুদান দেওয়ার ব্যবস্থা ছিল না। ফলে অর্থ দপ্তরের আধিকারিকরা ডা. রায়ের কাছে জানতে এলেন সত্যজিৎ রায়ের ‘পথের পাঁচালী’র জন্য দেয় সরকারি অর্থের হিসাব কোন একাউন্টে দেখানো হবে? ডক্টর রায় একটু ভেবে আধিকারিকদের পাল্টা প্রশ্ন করলেন, ‘ছবিটার নাম কি যেন ছিল’? উত্তর এলো, পথের পাঁচালী। সঙ্গে সঙ্গে বিধান চন্দ্র রায় বিধান দিলেন, ‘পথের পাঁচালী’ যখন, এটা যাবে পথ উন্নয়ন খাতে অর্থাৎ পি ডব্লু ডির ‘রোডস্ একাউন্টে’। বাস্তবে এটাই হয়েছিল । পথের পাঁচালীর প্রযোজক হিসেবে এই ছবির মাদার প্রিন্ট পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সড়ক উন্নয়ন দপ্তরের দীর্ঘদিন রক্ষিত ছিল। এখন পথের পাঁচালীর তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তর এর সম্পত্তি।