ওয়েব ডেস্ক ; ১৯ নভেম্বর : অযথা চেন টানার (Automatic Chain Pulling) ফলে ট্রেন সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছাতে দেরি হয়। কিন্তু আগে বুঝতে হবে, চেন পুলিং কী?
কোন বিশেষ জরুরি কারণে কোন যাত্রীর ট্রেন থামানোর প্রয়োজন হলে ট্রেনে প্রত্যেকটি কোচের একটি বিশেষ ধরনের চেইনের ব্যবস্থা করা থাকে সেটিকে টানলে ট্রেনটি দাঁড়িয়ে যায়। একেই বলে চেন পুলিং । কিন্তু অযথা এই চেনটির ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ, কারণ এর ফলে ট্রেনের অন্যান্য যাত্রীদের অযথা সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। আপনি কি কখনও ভেবে দেখেছেন, আপনার এই কাজটি কতোজনের অসুবিধার কারণ হতে পারে?
প্রতিদিন অসংখ্য লোক চেন পুলিংয়ের অপরাধে ধরা পড়ছেন। তাদের মধ্যে অনেককে উপযুক্ত জরিমানা দিতে হচ্ছে এবং কিছু ক্ষেত্রে জেল পর্যন্ত যেতে হচ্ছে। রেলযাত্রা সকলের জন্য নিরাপদ, স্বাচ্ছন্দ্যময় এবং সময়মতো পৌঁছানোর প্রতিশ্রুতি বহন করে।
আমাদের অনুরোধ, যারা অযথা চেন টানার মতো কাজ করছেন, দয়া করে তা থেকে বিরত থাকুন। কারণ, শুধুমাত্র এই কাজের জন্য ট্রেন পরিষেবার স্বাভাবিক গতিশীলতায় বাধা সৃষ্টি হয়, যা লক্ষাধিক যাত্রীর যাত্রাপথকে বিঘ্নিত করে। । সবার সহায়তায়ই সময়ানুবর্তী ট্রেন পরিষেবা সম্ভব।
অযথা চেন টানার অপব্যবহারের প্রভাব:
১. সময়সূচি লঙ্ঘন: ট্রেনের অনিয়মিত থামার কারণে ট্রেন পরিষেবার নির্ধারিত সময়সূচি বিঘ্নিত হয়।
২. অন্য যাত্রীদের অসুবিধা: যাত্রীদের গন্তব্যে পৌঁছানোর সময় বিলম্ব ঘটে, যা কর্মক্ষেত্র, শিক্ষা, চিকিৎসা বা অন্যান্য জরুরি প্রয়োজনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
৩. ট্রেন চলাচলের নিরাপত্তা: অপ্রয়োজনীয়ভাবে চেন টানা ট্রেন চলাচলের নির্গম গতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
৪. আইনানুগ শাস্তি: রেল সুরক্ষা আইন, ১৯৮৯, ধারা ১৪১ অনুযায়ী, বিনা প্রয়োজনে অযথা চেন টানা একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এজন্য অপরাধীর জরিমানা অথবা কারাদণ্ডের মতো শাস্তি ও হতে পারে।
চেন টানার বৈধ প্রয়োগ:
চেন টানা শুধুমাত্র জরুরি অবস্থায় প্রয়োগ করার জন্য, যেমন:
দুর্ঘটনা বা অসুস্থতার কারণে তৎক্ষণাত সাহায্যের প্রয়োজন।
শিশুরা বা বিশেষ প্রয়োজনের যাত্রী ট্রেনে ওঠা বা নামার সময় গাফিলতির শিকার হলে।
যাত্রীদের প্রতি আবেদন:
১. ট্রেনে ভ্রমণের সময় দায়িত্বশীল আচরণ করুন।
২. ট্রেনের কর্মী বা রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া শৃঙ্খল টানবেন না।
৩. কোনো জরুরি পরিস্থিতি থাকলে নিকটস্থ রেলওয়ে স্টাফদের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।
৪. অন্যায়ভাবে শৃঙ্খল টানা থেকে বিরত থাকার মাধ্যমে অন্য যাত্রীদের সময় ও নিরাপত্তার প্রতি সম্মান জানান।
অপারেশন সময় পালন-এর অধীনে, রেলওয়ে প্রোটেকশন ফোর্স (আরপিএফ)/পূর্ব রেলওয়ে ১ থেকে ১৫ নভেম্বর ২০২৪ তারিখের মধ্যে বিনা কারণের চেইন টানার অপরাধে ১৬৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। এদের মধ্যে হাওড়া ডিভিশনে ৫৩ জন, শিয়ালদহ ডিভিশনে ৯ জন, মালদা ডিভিশনে ৪৭ জন এবং আসানসোল ডিভিশনে ৫৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
রেলওয়ে সেবা উন্নত রাখতে আমরা সকল যাত্রীদের সহযোগিতা কামনা করছি। আপনার সচেতনতা এবং দায়িত্বশীলতা রেলপথের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং যাত্রা স্বাচ্ছন্দ্যময় করতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে।
