ওয়েব ডেস্ক; ১০ মার্চ: রিপোর্ট অনুযায়ী দেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দুর্যোগ যে সমস্ত কোস্টাল এরিয়া রয়েছে তার মধ্যে সুন্দরবন অন্যতম। প্রায় ১২ লক্ষ মানুষ এই দুর্যোগের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে। আগামী দিনে এই দুর্যোগ যে আরো বাড়তে পারে সেই বিষয়ে ইঙ্গিত দিয়েছে জাতিসংঘ।
এই দুর্যোগ থেকে মানুষকে বাঁচাতে হলদিয়া পেট্রোকেমিক্যাল লিমিটেডের সিএসআর সহায়তায় এবং স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা এনভারমেন্ট গভনর্ড ইন্টিগ্রেটেড অর্গানাইজেশন বা ইএনজিআইও এবং রাজ্য সরকারের নজরদারিতে দক্ষিণ ২৪ পরগনা গোসাবা ব্লকের কুমিরমারি দ্বীপে স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েতের সাথে মিলে সেখানকার একটি স্কুলকে মডেল ” উন্নত অস্থায়ী দুর্যোগ আশ্রয় কেন্দ্র” তৈরি করতে উদ্যোগী হয়েছে।
সুন্দরবন এলাকার কুমিরমারি সবচেয়ে দূরবর্তী এবং অত্যন্ত জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলের মধ্যে একটি।
সম্প্রতি কলকাতা প্রেসক্লাবে এই প্রকল্পটির সূচনা করেন রাজ্যের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এবং বেসামরিক প্রতিরক্ষা দপ্তরের মন্ত্রী জাভেদ আহমেদ খান। এছাড়াও unicef এর রাজ্য প্রধান প্রভাত কুমার এবং কলকাতার প্রধান শারিফ ডা. দুলাল বোস উপস্থিত ছিলেন।
মন্ত্রী বলেন, ” সুন্দরবন অঞ্চলের বেশির ভাগ মানুষ ফিশিং এবং এগ্রিকালচার এর ওপর তাদের জীবিকা নির্বাহ করেন। আগে থেকে অনেক উন্নয়ন হয়েছে এইখানে। আগে বহু জায়গায় সরকার পৌঁছাতে পারতো না কিন্তু এখন তা নয়, প্রত্যন্ত অঞ্চলে গিয়ে আমরা কাজ করছি। সেখানকার প্রত্যেক ব্লকে সিভিল ডিফেন্সের টিম রয়েছে। সাধারণ মানুষের কাছে আমার আর্জি সরকারের সাথে হাতে হাত মিলিয়ে কাজ করতে হবে।”
প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী আরো জানান কোন বেসরকারি সংস্থা আগামী দিনে যদি এই ধরনের উদ্যোগ নিয়ে সরকারের কাছ থেকে আসে তার জন্য তাদের স্বাগত। সরকারি বেসরকারি উদ্যোগে আগামী দিনে অস্থায়ীভাবে দুর্যোগ আশ্রয় কেন্দ্র যে তৈরি হবে সেই ব্যাপারে নিশ্চিত মন্ত্রী।
সংস্থা তরফে জানানো হয় এই বিষয়টি রূপায়ণ করতে রাজ্যের বিপর্যয় ব্যবস্থাপনা দপ্তর, সুন্দরবন বিষয়ক দপ্তর, স্থানীয় জেলা পরিষদ/ পঞ্চায়েত এবং পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অন্যান্য বিভাগগুলি সহ বিশেষজ্ঞ সংস্থা এবং কমিউনিটি গ্রুপের সাহায্য নেওয়া হবে।
দুর্যোগ চলাকালীন এবং তারপরে স্থানীয় মানুষ যে স্কুল বাড়িগুলিতে আশ্রয় নেন সেখানে যাতে যথেষ্ট নিরাপত্তা থাকে সেই ব্যাপারে নজর দেওয়া হবে। এই প্রকল্পের জন্য সুন্দরবনের কুমিরমারী নরেন্দ্রপুর প্রাইমারি স্কুল কে ‘উন্নত অস্থায়ী দুর্যোগ আশ্রয় কেন্দ্র’ মডেল হিসাবে তৈরি করা হবে।
জানা গেছে, আগামী দু মাসের মধ্যে এই প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে । যেখানে ৫০০ থেকে ১ হাজার জন মানুষ দুর্যোগের সময় আশ্রয় নিতে পারবেন।
এছাড়াও সেখানকার স্থানীয় মানুষকে দুর্যোগ এবং জলবায়ু সম্পর্কে শিক্ষিত করতে হবে। সরকারের সাথে হাতে হাত মিলিয়ে কাজ করার জন্য এগিয়ে আসতে হবে এই বার্তা পাওয়া যায় সংস্থার তরফ থেকে।
