কারোর বয়স ৬০ বছর, ৭০ কেউ বা ৮০ কে ছুয়ে ফেলেছেন। এমন সব মানুষেরা যারা এমপ্লয়িজ প্রভিডেন্ট ফান্ডের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন অবসর গ্রহণের পর তাদের হাতে সর্বোচ্চ হাজার টাকা করে মাসিক পেনশন হাতে আসছে। তার মধ্যে যেমন জুট কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়া কর্মী রয়েছেন। তেমনি রয়েছে ওএনজিসির কর্মীরাও। আজ কলকাতা প্রেসক্লাবে ‘ইপিএস 95 ন্যাশনাল এজিটেশন কমিটি’ পশ্চিমবঙ্গ শাখা এক সাংবাদিক সম্মেলনে তাদের দুর্দশার কথা তুলে ধরলেন।

সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত পশ্চিমবঙ্গ শাখার সভাপতি তপন দত্ত মহাশয় বলেন, ২০১৩ সালে কুশারী কমিটি ৫,০০০ টাকা মাসিক পেনশন এর কথা এবং তার সাথে মহার্ঘ ভাতা দেবার কথা বলেছিলেন। পরবর্তীকালে ‘হাই পেনশন কমিটি’ও একই কথা বলেছিলেন। কিন্তু সরকারি সংস্থার টনক নড়েনি। ফলে ২০২০, ৪ মার্চ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সাথে তাদের দেখা করার এক সুযোগ ঘটে। মাত্র দশ মিনিট কথা বলার সুযোগ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদী এই বরিষ্ঠ নাগরিকদের বক্তব্য শোনেন প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে। সেদিন তাদের পাশে ছিলেন আরেক ব্যক্তিত্ব জিতেন্দ্র প্রসাদ সিং। কিন্তু পরবর্তীতে অর্থমন্ত্রী বলেন, যে তাদের কাছে এই পেনশনভোগীদের পয়সা দেওয়ার মত টাকা নেই।
তপনবাবু বলেন, সরকারের খাজানাতে ৪ লক্ষ কোটি টাকা আনক্লেমন্ড হয়ে পড়ে আছে। অন্যদিকে সরকার প্রায় দু লক্ষ কোটি টাকা ভুলভাবে বিনিয়োগ করে লোকসানের মুখে পড়েছেন।
সংগঠনের ওয়ার্কিং প্রেসিডেন্ট পঙ্কজ মিশ্রা বলেন, এই মুহূর্তে দেশে ৬৫ লক্ষেরও বেশি পেনশনারর্স রয়েছেন। তাদের এই সংগঠন ২৭ টি রাজ্যের ৭৬০টি জেলাতে রয়েছে। পঙ্কজ বাবু বলেন যে এই ৬৫ লক্ষ পেনশনভোগীদের মধ্যে আড়াই লক্ষ পেনশনভোগী দাবি করেছেন ‘পেনশন অন একচুয়াল স্যালারি’তে। তবে তাদের আশা ৩১ মার্চের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তাদের অবশ্যই কোন সুখবর শোনাবেন।

সংগঠন থেকে দাবি করা হয়েছে, ন্যূনতম পেনশন যেন সাড়ে সাত হাজার টাকা হয় তার সাথে যেন মহার্ঘ ভাতা দেওয়া হয়। এছাড়া এই পেনশনভোগীরা যখন কোনো চিকিৎসা সুবিধা সরকার থেকে পাচ্ছেন না তাই তাদেরকে যেন আয়ুস্মান ভারত যোজনাতে যুক্ত করা হয়। আগামী ১৩ মার্চ এই সংগঠনের কেন্দ্রীয় রিজিওনাল মিটিং হবে বলে তারা জানালেন। একইরকমভাবে মহারাষ্ট্র এবং কলকাতাতেও এই মিটিং সম্পন্ন হবে। যদি 31 তারিখের মধ্যে তাদের দাবি-দাওয়া মেনে নেওয়া না হয়, তবে এই বরিষ্ঠ নাগরিকরা রানী রাসমণি রোডে দীর্ঘসময় অনশনের পথে হাঁটবেন।
যদিও নরেন্দ্র মোদির সাথে দেখা করার পর থেকেই তারা প্রতীকী অনশন হিসেবে প্রত্যেকে দৈনিক ১২ ঘন্টা অনশন করছেন বাড়িতে।

প্রশ্ন হচ্ছে দেশের চারদিকে যখন নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে সরকার এবং সাধারন মানুষ মাথা তুলে দাঁড়াচ্ছেন, যখন বরিষ্ঠ নাগরিকদের সম্মান করার কথা বলা হচ্ছে, তখন এই বরিষ্ঠ নাগরিকরা কেন এমন বিপর্যয়ের মুখে থাকবে!! তাহলে কি রাম রাজত্বে গল্পটা শুধুমাত্র কাগজে এবং বক্তব্যই থাকবে, নাকি বাস্তবে তা সম্পন্ন হবে পাশ থেকে টিপ্পনী কাটলেন সংগঠনের সদস্য। যদিও এই সংগঠনে কোনো রাজনৈতিক দলের সাথে যুক্ত নয় বলেই দাবি করে এসেছে।