ওয়েব ডেস্ক; ১২ আগস্ট: সম্প্রতি লোকসভায় সাংসদ মহুয়া মৈত্রের এক প্রশ্নের লিখিত জবাবে, যেখানে তিনি জানতে চেয়েছিলেন—অর্থ মন্ত্রকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের এপ্রিল-সেপ্টেম্বর সময়কালে মহাত্মা গান্ধী জাতীয় গ্রামীণ রোজগার নিশ্চয়তা প্রকল্প (এমজিএনআরইজিএস)-এর ব্যয় বার্ষিক বরাদ্দের ৬০ শতাংশে সীমাবদ্ধ রাখার সিদ্ধান্ত কি প্রথমবার নেওয়া হল বাজেট অতিব্যয় রুখতে, তবে একইসঙ্গে এই আইন দ্বারা সুনিশ্চিত, চাহিদা-ভিত্তিক প্রকল্পটির সার্বজনীনতা ও কার্যকারিতা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি করছে কি না, এবং প্রকল্পের আইনানুগ অধিকার যা ২০০৫ সালের এমজিএনআরইজিএ আইন-এর ধারা ৩ এবং তফসিল ২, অনুচ্ছেদ ২৯ এবং সুপ্রিম কোর্টের স্বরাজ অভিযান বনাম ইউনিয়ন অব ইন্ডিয়া (২০১৬) ও পশ্চিমবঙ্গ ক্ষেত মজদুর সমিতি বনাম পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য (১৯৯৬) মামলার রায় অনুসারে স্বীকৃত — সেগুলি লঙ্ঘিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে কি না এবং এই সীমার কারণে কাজের অস্বীকৃতি বা মজুরি প্রদানে বিলম্ব হওয়ার ঝুঁকি আছে কি না, বা সরকার কি এই সীমার ফলে এমজিএনআরইজিএস প্রকল্পের গ্রামীণ সঙ্কটে একটি স্বয়ংক্রিয় স্থিতিশীলকারী উদ্যোগ হিসেবে কাজ করার ক্ষমতা খর্ব হওয়ার ঝুঁকি মূল্যায়ন করেছে কি না— যেমন ২০২৩ সালের জুলাই-আগস্ট তাপপ্রবাহে ২০% চাহিদা বৃদ্ধির উদাহরণ উল্লেখ করা হয়েছে, এবং বর্তমান ও পূর্ববর্তী অর্থবছরে গড় মাসিক বকেয়া কী পরিমাণে নিষ্পত্তি হয়েছে, এবং নতুন বরাদ্দের কত শতাংশ বকেয়া পরিশোধে ব্যবহার হয়েছে— সেই প্রশ্নগুলির উত্তরে কেন্দ্রীয় গ্রামীণ উন্নয়ন প্রতিমন্ত্রী কমলেশ পাসওয়ান জানান:

মহাত্মা গান্ধী এনআরইজিএস একটি চাহিদা-ভিত্তিক প্রকল্প এবং ভারত সরকার রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিতে মজুরি ও কাজের চাহিদা অনুসারে পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

তিনি এও জানান, উন্নত আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও পরিকল্পনার স্বার্থে, অর্থ মন্ত্রকের ব্যয় বিভাগ ২৯.০৫.২০২৫ তারিখের অফিস মেমোরান্ডামের মাধ্যমে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথমার্ধে (এপ্রিল-সেপ্টেম্বর) প্রকল্পটির জন্য বার্ষিক বরাদ্দের ৬০ শতাংশ পর্যন্ত ব্যয় অনুমোদন করেছে, যা আর্থিক নির্দেশিকাগুলি প্রয়োগযোগ্যতার আওতাযধীন।

মন্ত্রী আরও বলেন, এমজিএনআরইজিএস-এর অধীনে কাজের চাহিদা ঋতুভিত্তিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যায়। বছরের প্রথম প্রান্তিকে (গ্রীষ্ম ও কৃষির অবসর ঋতু) তুলনামূলকভাবে বেশি মানুষ-দিন তৈরি হয়, কিন্তু বর্ষার আগমনের পর ও কৃষিকাজ শুরু হলে দ্বিতীয় প্রান্তিক থেকে চাহিদা হ্রাস পায়।

মন্ত্রী জানান, বর্তমানে কাজের চাহিদা মেটাতে অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দের জন্য গ্রামীণ উন্নয়ন দপ্তর ইতিমধ্যে অর্থ মন্ত্রকের ব্যয় বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। তিনি বলেন, ১ এপ্রিল, ২০২৫ পর্যন্ত ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে ১৭,২৫৯.৫৬ কোটি টাকা মজুরি বাবদ ও ১৫,৬৪১.৫৬ কোটি টাকা উপকরণ বাবদ বকেয়া ছিল। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের শুরুতেই এই বকেয়ার ১০০% মজুরি এবং ৫০% উপকরণ খাতে রাজ্য/কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিকে দিয়ে দেওয়া হয়েছে।