ওয়েব ডেস্ক; ৩ আগস্ট: অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ (এবিভিপি)-এর কেন্দ্রীয় কার্যসমিতির বৈঠক ১ ও ২ আগস্ট, জগদ্গুরু আদি শঙ্করাচার্যের পবিত্র জন্মভূমি এর্নাকুলাম, কেরলে সফলভাবে অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে সংগঠনের কার্যক্রমের পর্যালোচনা, সমসাময়িক জাতীয় বিষয় এবং আগামী বছরের কর্মপরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
এই কেন্দ্রীয় কার্যসমিতির বৈঠকের মাধ্যমে এবিভিপি স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে ঝাড়খণ্ড পাবলিক সার্ভিস কমিশন (JPSC), বিহার পাবলিক সার্ভিস কমিশন (BPSC), কর্ণাটক পাবলিক সার্ভিস কমিশন (KPSC), পাঞ্জাবসহ দেশের বিভিন্ন রাজ্যের প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবি এবং তাঁদের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের প্রতি সংগঠন সম্পূর্ণ সমর্থন জানায়। পাশাপাশি সমাজের বিভিন্ন সংগঠন ও সচেতন নাগরিকদেরও এই শিক্ষার্থী আন্দোলনে অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে। এবিভিপির মতে, প্রতিটি শিক্ষার্থীর নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও বিশ্বাসযোগ্য পরীক্ষা ব্যবস্থা পাওয়া তার মৌলিক অধিকার।
এই লক্ষ্যেই ঝাড়খণ্ডে প্রশ্নপত্র ফাঁসের খবর প্রকাশ্যে আসার পরপরই এবিভিপি সর্বপ্রথম রাজ্যপালের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করে, স্বাক্ষর অভিযান চালায় এবং রাজ্যের সমস্ত জেলা সদর দফতরে বিক্ষোভ কর্মসূচি আয়োজন করে। শিক্ষার্থীদের শিক্ষাগত অধিকার, স্বচ্ছ পরীক্ষা ব্যবস্থা ও নিরপেক্ষ নিয়োগ প্রক্রিয়ার পক্ষে এবিভিপি অতীতেও আন্দোলন করেছে এবং ভবিষ্যতেও প্রতিটি ন্যায্য দাবিতে শিক্ষার্থীদের পাশে দৃঢ়ভাবে থাকবে। সংগঠনের মতে, পরীক্ষা ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ, নির্ভরযোগ্য ও ত্রুটিমুক্ত করতে এখনও একাধিক প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার প্রয়োজন। সেই উদ্দেশ্যেই NEET পরীক্ষায় অনিয়মের পর গঠিত উচ্চস্তরীয় কমিটির কাছে এবিভিপি তাদের বিস্তারিত প্রস্তাব ও সুপারিশ পেশ করবে, যাতে দেশে একটি নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও ত্রুটিমুক্ত পরীক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা যায়।
বৈঠকে এবিভিপির জাতীয় পর্যায়ের বিভিন্ন অভিযানের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনাও নির্ধারণ করা হয়। ‘স্ক্রিন টাইম টু অ্যাক্টিভিটি টাইম’-এর পাশাপাশি ‘বন্দে মাতরম @১৫০ বছর : ক্যাম্পাস টু ক্যাম্পাস বন্দে মাতরম’ অভিযান দেশের প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ব্যাপকভাবে পৌঁছে দেওয়ার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এছাড়াও স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে তিরঙ্গা র্যালি, ‘এক গ্রাম–এক তিরঙ্গা’ অভিযান এবং সমবেতভাবে ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়ার কর্মসূচিরও পরিকল্পনা করা হয়েছে।
বৈঠকে সংসদ কর্তৃক জাতীয় সম্মান অবমাননা প্রতিরোধ (সংশোধনী) বিল, ২০২৬ পাস করে জাতীয় সঙ্গীত ‘বন্দে মাতরম’-এর মর্যাদাকে আইনগত সুরক্ষা দেওয়াকে স্বাগত জানিয়ে একে ভারতের জাতীয় চেতনা, স্বাধীনতা সংগ্রামের ঐতিহ্য এবং সাংস্কৃতিক আত্মপরিচয় রক্ষার ক্ষেত্রে একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ বলে অভিহিত করা হয়। পাশাপাশি সন্ত শিরোমণি রবিদাসজির ৬৫০তম আবির্ভাব বর্ষ, শ্রী গুরু তেগবাহাদুরজির শহিদত্বের ৩৫০ বছর, জরুরি অবস্থাবিরোধী আন্দোলনের ৫০ বছর, সর্বভারতীয় ছাত্রাবাস সমীক্ষা, ৭২তম জাতীয় অধিবেশন, SEIL@60, প্রফেসর যশবন্তরাও কেলকর যুব পুরস্কার, আন্তর্জাতিক ছাত্র সংযোগ, ওভারসিজ কার্যক্রম, সাংগঠনিক সম্প্রসারণ এবং কর্মশালা সংস্কৃতি নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা ও কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়।
এবিভিপির সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ড. বীরেন্দ্র সিং সোলাঙ্কি বলেন, “এর্নাকুলামে অনুষ্ঠিত কেন্দ্রীয় কার্যসমিতির বৈঠকে শিক্ষা, সংগঠন, সমসাময়িক জাতীয় বিষয় এবং আগামী বছরের কর্মপরিকল্পনা নিয়ে ব্যাপক ও ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। ঝাড়খণ্ড, বিহার, কর্ণাটক ও পাঞ্জাবে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা দেশের পরীক্ষা ব্যবস্থার উপর গুরুতর প্রশ্নচিহ্ন সৃষ্টি করেছে। এবিভিপি শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবি ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনের পূর্ণ সমর্থন করে। প্রতিটি শিক্ষার্থীর নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ, বিশ্বাসযোগ্য ও ত্রুটিমুক্ত পরীক্ষা ব্যবস্থা পাওয়া তার অধিকার। সেই লক্ষ্যেই উচ্চস্তরীয় কমিটির কাছে আমরা আমাদের বিস্তারিত সুপারিশ পেশ করব। সংসদের মাধ্যমে ‘বন্দে মাতরম’-এর মর্যাদাকে আইনগত সুরক্ষা প্রদান ভারতের জাতীয় চেতনা, স্বাধীনতা সংগ্রামের গৌরবময় ঐতিহ্য এবং সাংস্কৃতিক আত্মপরিচয় রক্ষার ক্ষেত্রে এক ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত। ‘বন্দে মাতরম’ শুধু জাতীয় সঙ্গীত নয়, এটি ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের অনুপ্রেরণা এবং জাতীয় আত্মমর্যাদার এক চিরন্তন প্রতীক। এই ভাবনাকে সামনে রেখে এবিভিপি দেশজুড়ে ‘বন্দে মাতরম @১৫০ বছর : ক্যাম্পাস টু ক্যাম্পাস বন্দে মাতরম’, ‘এক গ্রাম–এক তিরঙ্গা’, তিরঙ্গা র্যালি এবং সমবেত বন্দে মাতরম গাওয়ার মাধ্যমে দেশপ্রেম, জাতীয় ঐক্য ও সাংবিধানিক কর্তব্য সম্পর্কে ব্যাপক জনসচেতনতা গড়ে তুলবে। কেন্দ্রীয় কার্যসমিতির বৈঠক কেরলে অনুষ্ঠিত হওয়ায় রাজ্যে সংগঠনের সম্প্রসারণেরও বিশেষ সংকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। আগামী দিনে কেরলের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে ‘ক্যাম্পাস টু ক্যাম্পাস বন্দে মাতরম’ এবং ‘স্ক্রিন টাইম টু অ্যাক্টিভিটি টাইম’ অভিযান বিশেষভাবে পরিচালিত হবে, যাতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে দেশপ্রেম, ইতিবাচক ক্যাম্পাস সংস্কৃতি, নেতৃত্বের বিকাশ এবং সক্রিয় জনঅংশগ্রহণ আরও শক্তিশালী হয়। কেন্দ্রীয় কার্যসমিতিতে গৃহীত কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী এবিভিপির প্রতিটি কার্যকর্তা এই সকল অভিযানে জনঅংশগ্রহণ নিশ্চিত করে ‘ছাত্রশক্তিই রাষ্ট্রশক্তি’—এই সংকল্পকে আরও সুদৃঢ় করবে।”
