ওয়েব ডেস্ক; ৫ আগস্ট: ভূ-বিজ্ঞান মন্ত্রকের অধীন ভারতীয় আবহাওয়া দপ্তর ভারতের গ্রীষ্মকালীন মৌসুমি বৃষ্টিপাতের ওপর এল নিনোর সম্ভাব্য প্রভাব পর্যালোচনা করে থাকে। সাধারণত, এল নিনোর প্রভাবে ভারতে গ্রীষ্মকালীন মৌসুমি বায়ু স্বাভাবিকের চেয়ে দুর্বল থাকে এবং মৌসুমি বায়ুর ওপর এর প্রভাব কতটা হবে, তা এল নিনোর তীব্রতার ওপর নির্ভর করে। ১৯৫০ সাল থেকে এ পর্যন্ত ১৬টি এল নিনো বছর দেখা গেছে; এর মধ্যে ৭টি বছরে ভারতে বৃষ্টিপাত স্বাভাবিকের চেয়ে কম ছিল। তবে, মৌসুমি বায়ু ঋতুর দ্বিতীয়ার্ধে (বিশেষ করে সেপ্টেম্বরের বৃষ্টিপাতের ক্ষেত্রে) এল নিনো এবং বৃষ্টিপাতের মধ্যে একটি শক্তিশালী বিপরীতমুখী সম্পর্ক লক্ষ্য করা যায়।

আবহাওয়া দফতর নিয়মিতভাবে বৃষ্টিপাত ও তাপমাত্রার বিষয়ে ঋতুভিত্তিক ও মাসিক পূর্বাভাস প্রদান করে থাকে। সংস্থাটি ২০২৬ সালের দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর সময় স্বাভাবিকের চেয়ে কম বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দিয়েছিল। ১৩ এপ্রিল ২০২৬-এ প্রকাশিত তাদের ‘প্রথম পর্যায়ের দীর্ঘমেয়াদী পূর্বাভাস’-এ আবহাওয়া দফতর জানিয়েছিল যে, ঋতুভিত্তিক বৃষ্টিপাত ‘দীর্ঘমেয়াদী গড়’-এর ৯২ শতাংশ হবে (মডেলের ত্রুটির মাত্রা ±৫%)। পরবর্তীতে, ‘দ্বিতীয় পর্যায়ের দীর্ঘমেয়াদী পূর্বাভাস’-এ আবহাওয়া দফতর এই পূর্বাভাস সংশোধন করে জানায় যে, বৃষ্টিপাত এলপিএ-র ৯০ শতাংশ হবে (মডেলের ত্রুটির মাত্রা ±৪%)।

এছাড়াও, আইএমডি মৌসুমি বৃষ্টিপাত সম্পর্কে প্রতিদিন এবং এল নিনো পরিস্থিতি সম্পর্কে প্রতি মাসে নিয়মিত তথ্য ও আপডেট প্রদান করে থাকে।

২০২৬ সালে এল নিনোর প্রভাব মোকাবিলায় ভূ বিজ্ঞান মন্ত্রক রাজ্যগুলির জন্য
জেলা-ভিত্তিক কোনও ঝুঁকি ও প্রভাব মূল্যায়ন সংক্রান্ত নির্দেশিকা জারি করেনি।

তবে, ভূ-বিজ্ঞান মন্ত্রকের অধীনস্থ ‘ভারতীয় আবহাওয়া দপ্তর’ নিয়মিতভাবে আবহাওয়া ও জলবায়ুর পূর্বাভাস, ঋতুভিত্তিক পরিস্থিতি এবং বৃষ্টিপাত, তাপপ্রবাহ ও অন্যান্য চরম আবহাওয়া সংক্রান্ত আগাম সতর্কতা জারি করে থাকে। প্রস্তুতি ও যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণের সুবিধার্থে এই তথ্য সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রীয় মন্ত্রক, রাজ্য সরকার এবং অন্যান্য অংশীজনদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়।

লোকসভায় এক প্রশ্নের লিখিত জবাবে ভূ-বিজ্ঞান মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী (স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত) ড. জিতেন্দ্র সিং এই তথ্য জানিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *