ওয়েব ডেস্ক; ২০ জুলাই : শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি বন্দর, কলকাতা (এসএমপি, কলকাতা) এবং টি.এন.এস লজি-পার্ক প্রাইভেট লিমিটেড একসাথে ঐতিহাসিক দই ঘাটকে নতুন রূপে গড়ে তোলার যাত্রা শুরু করল। টি.এন.এস লজি-পার্ক প্রাইভেট লিমিটেডের কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (সিএসআর)-র অংশ হিসেবে এই গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতাপত্র (মৌ) স্বাক্ষরিত হয়, যা ঘাটটির পুনরুন্নয়ন, সংস্কার ও সৌন্দর্যায়নের এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে।

হুগলি নদীর তীরে, আদিগঙ্গার মূল ধারা যেখানে মিলিত হয়েছে, তার বিপরীতে হাওড়ার সামনে অবস্থিত দই ঘাটের নাম বাংলার ‘দই’ শব্দ থেকে উদ্ভূত, যা এই স্থানের ঐতিহাসিক দুগ্ধ বাণিজ্যের সঙ্গে সংযোগ নির্দেশ করে। একসময় এটি ছিল একটি ব্যস্ততম অবতরণ ঘাট, যেখানে হাওড়া- সহ বিভিন্ন অঞ্চল থেকে কাঁচা মাটির পাত্রে দই ও অন্যান্য দ্রব্য এসে পৌঁছাত এবং একটি ছোট বাজার-ও গড়ে উঠেছিল। আদিগঙ্গার মিলনস্থলে অবস্থিত হওয়ায় এটি গ্রামীণ বাংলা ও ক্রমবর্ধমান কলকাতার মধ্যে নিত্য বাণিজ্যিক যোগাযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র ছিল।

এই রূপান্তরমূলক সমঝোতা পত্রেরর স্বাক্ষর অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয় এসএমপি, কলকাতার প্রধান কার্যালয়, স্ট্র্যান্ড রোডে, এক আশাব্যঞ্জক পরিবেশে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শ্রী রথেন্দ্র রমন, চেয়ারম্যান, এসএমপি কলকাতা, যাঁর দূরদৃষ্টিসম্পন্ন নেতৃত্ব এই পথচলাকে আলোকিত করেছে। তাঁর সঙ্গে ছিলেন শ্রী সম্রাট রাহী, ডেপুটি চেয়ারম্যান, এসএমপি কলকাতা এবং টি.এন.এস লজি-পার্ক প্রাইভেট লিমিটেডের বিশিষ্ট প্রতিনিধি—শ্রী আর.পি. সিং (সিইও), আদিত্য রায় (সিএফও), বিশাল সিং (অপারেশনস প্রধান) এবং এসএমপি কলকাতার অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ আধিকারিকরা।

এর আগে এসএমপি, কলকাতা কুমোরটুলি ও নিমতলা ঘাট পুনরুন্নয়নের লক্ষ্যে আদানি গ্রুপ প্রাইভেট লিমিটেড এবং পিএস রিয়েলটি গ্রুপ প্রাইভেট লিমিটেডের সঙ্গে সমঝোতাপত্র স্বাক্ষরিত হয়।

শ্রী রমন বলেন, “এই উদ্যোগ আমাদের শহুরে উন্নয়ন এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতি অটল প্রতিশ্রুতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। দই ঘাট শুধুমাত্র ঐতিহাসিক দিক থেকেই নয়, পুরনো কলকাতার স্থানীয় দুগ্ধ বাণিজ্যের একটি কেন্দ্র হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ। এই ঘাটের সংস্কার হুগলি নদীতীর উন্নয়নের এসএমপি কলকাতার বৃহত্তর প্রয়াসের এক অংশ। একটি সমাজবদ্ধ, দায়িত্ববান সংস্থা হিসেবে টি.এন.এস লজি-পার্ক প্রাইভেট লিমিটেড আমাদের এই মহান উদ্যোগে যোগ দেওয়ায় আমরা অত্যন্ত আনন্দিত।”

এই উপলক্ষে আর.পি. সিং, সিইও, টি.এন.এস লজি-পার্ক বলেন, “ঐতিহাসিক দই ঘাটের পুনরুন্নয়নে অংশগ্রহণ করতে পেরে আমরা সম্মানিত ও গর্বিত। এই ঘাট একসময় দুধ, চিনি ও লবণের বাণিজ্যের জন্য বিখ্যাত ছিল। আমরা এর সৌন্দর্য বৃদ্ধি ও পরিকাঠামোগত আধুনিকায়নের মাধ্যমে এই প্রতীকী স্থানটিকে আরও উজ্জ্বল ভবিষ্যতের পথে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই।”

এই সমঝোতার শর্তানুযায়ী, এসএমপি, কলকাতা বিদ্যুৎ, জল এবং নিরাপত্তা-সহ প্রয়োজনীয় সকল পরিকাঠামো সরবরাহ করে নির্মাণকাজের নির্বিঘ্ন অগ্রগতিতে সহায়তা করবে। প্রকল্পের সাফল্যের পর, নতুনভাবে উন্নীত ঘাটটির রক্ষণাবেক্ষণ ও তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব থাকবে এসএমপি কলকাতার উপর। পাশাপাশি, এসএমপি প্রয়োজনীয় সব আইনি ছাড়পত্র ও নিকাশী ব্যবস্থায়ও সহায়তা প্রদান করবে।

এই অংশীদারিত্ব সরকার ও বেসরকারি অংশীদারিত্বের শক্তিকে নতুনভাবে উজ্জ্বল করে তোলে, যা আমাদের নাগরিক ঐতিহ্য রক্ষায় ও জনজীবনের মানোন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা রাখবে। একই সাথে, এটি এসএমপি কলকাতার সুস্থায়ী উন্নয়ন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিকাঠামো নির্মাণের অঙ্গীকারকে পুনর্নিশ্চিত করে, যা এলাকাটির সৌন্দর্য বৃদ্ধির পাশাপাশি, পর্যটন ও জনসচেতনতাও বাড়াবে।