ওয়েব ডেস্ক; ১১ মার্চ : প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর পৌরোহিত্যে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার অর্থনীতি বিষয়ক কমিটি রেল মন্ত্রকের দুটি প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছে। এই প্রকল্পগুলি বাস্তবায়নে ব্যয় হবে প্রায় ৪,৪৭৪ কোটি টাকা। এই প্রকল্পগুলি হল –
(ক) সাঁইথিয়া ও পাকুড়ের মধ্যে চতুর্থ লাইন
(খ) সাঁতরাগাছি ও খড়্গপুরের মধ্যে চতুর্থ লাইন
অতিরিক্ত লাইন বসানোর ফলে ভারতীয় রেলের পরিষেবা আরও ভরসাযোগ্য ও উন্নত হবে। এই প্রকল্পগুলি ট্রেনের অতিরিক্ত চাপ কমাতে সাহায্য করবে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নতুন ভারত গড়ার পরিকল্পনার সঙ্গে সাযুজ্য রেখে সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের সর্বাঙ্গীণ উন্নয়ন সাধিত হবে। ফলস্বরূপ, ঐ অঞ্চলে আরও বেশি কর্মসংস্থান এবং স্বনির্ভর হয়ে ওঠার সুযোগ তৈরি হবে।
পিএম-গতি শক্তি ন্যাশনাল মাস্টার প্ল্যানের সঙ্গে সাযুজ্য রেখে এই প্রকল্প দুটি বাস্তবায়িত হবে। এগুলি পরিকল্পনা করার সময় পণ্য পরিবহণের সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলির পরামর্শ নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট প্রকল্পগুলি যাত্রী ও পণ্য পরিষেবা প্রদানের ক্ষেত্রে আরও বেশি সহায়ক হবে।
এই দুটি প্রকল্পের সুফল পশ্চিমবঙ্গ ও ঝাড়খণ্ডের পাঁচটি জেলার জনগণ পাবেন। প্রকল্পগুলি বাস্তবায়িত হলে ভারতীয় রেলে আরও ১৯২ কিলোমিটার রেললাইন যুক্ত হবে। সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের ৫,৬৫২টি গ্রামের ১ কোটি ৪৭ লক্ষ নাগরিক এর ফলে উপকৃত হবেন। প্রকল্পগুলি বাস্তবায়িত হলে বোলপুর-শান্তিনিকেতন, পটচিত্র গ্রাম, ধাদিকা বনাঞ্চল, ভিমবাঁধ অভয়ারণ্য, রামেশ্বর কুণ্ড, দুটি শক্তিপীঠ – নন্দীকেশ্বরী মন্দির ও তারাপীঠ মন্দির যেতে আরও সুবিধা হবে।
এই প্রকল্পগুলি কয়লা, পাথর, ডলোমাইট, সিমেন্ট, জিপসাম, লোহা, ইস্পাত, খাদ্যশস্য সহ বিভিন্ন সামগ্রী পরিবহণে আরও সহায়ক হবে। প্রকল্প দুটি বাস্তবায়িত হলে প্রতি বছর আরও ৩ কোটি ১০ লক্ষ টন পণ্য পরিবহণ করা যাবে। পরিবেশ-বান্ধব রেল পরিবহণের ফলে জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিরোধে দেশে যে পরিকল্পনা করা হয়েছে তা রূপায়ণে আরও একধাপ এগোনো সম্ভব হবে। দুটি প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে ৬ কোটি লিটার কম তেল আমদানি করা যাবে। এছাড়াও, ২৮ কোটি কেজি কম কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসৃত হবে। ১ কোটি গাছ এই পরিমাণ কার্বন ডাই-অক্সাইড প্রতি বছর শোষণ করে।
