ওয়েব ডেস্ক; ১০ নভেম্বর : কেন্দ্রীয় কয়লা ও খনিজ মন্ত্রী জি. কিশন রেড্ডি ভিডিও কনফারেন্সিং-এর মাধ্যমে কলকাতায় অনুষ্ঠিত এক আন্তর্জাতিক সেমিনারে ভাষণ দেন। এই সেমিনারটি হিন্দুস্তান কপার লিমিটেড (এইচসিএল)-এর ৫৯-তম প্রতিষ্ঠা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত হয়।

মন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার শতবর্ষে ২০৪৭ সালের মধ্যে ভারত একটি উন্নত অর্থনীতি হয়ে উঠবে। এই রূপান্তরের মূল চালিকাশক্তি হবে কোবাল্ট ও নিকেলের মতো গুরুত্বপূর্ণ খনিজ পদার্থ।

তিনি জানান, সরকার ইতিমধ্যেই জাতীয় ক্রিটিক্যাল মিনারেলস মিশনের আওতায় ৩২,০০০ কোটি টাকার বাজেট বরাদ্দ করেছে। এই উদ্যোগের লক্ষ্য গুরুত্বপূর্ণ খনিজ পদার্থের অনুসন্ধান, প্রক্রিয়াকরণ ও মূল্য সংযোজনের কাজকে গতিশীল করা।

মন্ত্রী আরও বলেন, অস্ট্রেলিয়া, আর্জেন্টিনা, চিলি এবং জাম্বিয়ার সঙ্গে ভারতের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি পেয়েছে। পাশাপাশি, সাতটি সেন্টার অফ এক্সেলেন্স শিক্ষাঙ্গন, সরকারি সংস্থা ও বেসরকারি অংশীদারদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা গড়ে তুলতে গঠিত হয়েছে ।

কয়লা ও খনিজ প্রতিমন্ত্রী সতীশ চন্দ্র দুবে বলেন, খনিজ আত্মনির্ভরতার মাধ্যমে বিকশিত ভারত ২০৪৭-এর লক্ষ্যে পৌঁছতে সরকার সম্পূর্ণভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন খনিসুরক্ষা দপ্তরের মহাপরিচালক উজ্জ্বল তাহ, ভারতীয় খনি ব্যুরোর কন্ট্রোলার জেনারেল পঙ্কজ কুলশ্রেষ্ঠ, ভূতত্ত্ব জরিপ দপ্তরের মহাপরিচালক অসিত সাহা এবং হিন্দুস্তান কপার লিমিটেডের চেয়ারম্যান সঞ্জীব কুমার সিং।

এই অনুষ্ঠানে এইচসিএলের কর্পোরেট পতাকা ও থিম গানের উদ্বোধন করা হয়। মালাঞ্জখণ্ড কপার ফিল্ডে কোলিহান সার্ভিস শ্যাফট উইন্ডার এবং ইলেকট্রিক লোড হোল্ড ডাম্পার প্রকল্পেরও উদ্বোধন করা হয়। এছাড়া, এইচসিএলের সিএসআর উদ্যোগের আওতায় সহযোগিতা প্রাপ্ত বিশিষ্ট মহিলাদের সম্মানিত করা হয় এবং সংস্থার শ্রেষ্ঠ কর্মী ও তরুণ কর্মকর্তাদের অসামান্য অবদানের জন্য পুরস্কৃত করা হয়।

১৯৬৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হিন্দুস্তান কপার লিমিটেড ভারতের একমাত্র প্রধান সরকারি তামা উৎপাদনকারী সংস্থা। এটি খনন, বেনিফিসিয়েশন, গলন, পরিশোধন এবং ঢালাইয়ের সমস্ত ধাপ সম্পূর্ণ অভ্যন্তরীণভাবে পরিচালনা করে।

খনিজ মন্ত্রকের অধীন একটি সরকারি সংস্থা হিসেবে এইচসিএল দেশের তামা সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ও কৌশলগত খনিজ লক্ষ্যে অগ্রগতি সাধনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। গত পাঁচ দশকে সংস্থাটি ভারতের খনন ক্ষেত্রের বিকাশে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছে এবং সুস্থায়ী ও সম্পদ দক্ষ শিল্পোন্নয়ন বাস্তবায়নে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে।