সোহিনী ঘোষ, শুভাবরি ওয়েব ডেস্ক , ব্যাঙ্গালোর : যখন অঞ্জনা দেবী ভগবান শিবের কাছে এক সন্তানের জন্য প্রার্থনা করেছিলেন, তখন শিবের আশীর্বাদ এবং বায়ুদেবের কৃপায় সেই বর পূর্ণ হয়। এভাবেই জন্ম নেন হনুমান—যিনি স্বয়ং শিবেরই এক অবতাররূপে পূজিত হন।
শিবকে অনেক সময় “কাল” বলা হয়—যিনি সময়ের অতীত, অনন্ত এবং গাঢ় অন্ধকারের প্রতীক। তাই বহু প্রাচীন বিশ্বাসে বলা হয়, হনুমানের আসল রূপও ছিল শ্যাম বা কৃষ্ণবর্ণ, যা তাঁর শিবসত্তা ও অসীম শক্তির প্রতীক।
শৈশব থেকেই তাঁর এই কৃষ্ণবর্ণ রূপকে রক্ষাকবচ হিসেবে দেখা হতো। লোকবিশ্বাস ছিল, যেমন কালো রং সব তাপ ও আলো শোষণ করে, তেমনই হনুমান তাঁর এই রূপে সকল অশুভ শক্তি, নেতিবাচকতা, অভিশাপ ও দুষ্ট প্রভাব নিজের মধ্যে ধারণ করে ভক্তদের রক্ষা করেন।
সেই কারণেই দক্ষিণ ভারতে তাঁকে স্নেহভরে “করুপ্পু আঞ্জনেয়া” (Karuppu Anjaneya) বা “কালো হনুমান” নামে পূজা করা হয়। বিশেষ করে অশুভ শক্তি, নজরদোষ এবং শনি দেবের কূ প্রভাব থেকে রক্ষার জন্য তাঁর আরাধনা অত্যন্ত জনপ্রিয়।
পরবর্তীতে, যখন হনুমানের সঙ্গে ভগবান শ্রীরামের সাক্ষাৎ হয়, তখন তাঁর ভক্তি এতটাই গভীর হয়ে ওঠে যে তিনি নিজের সমগ্র দেহে সিঁদুর মেখে নেন। এটি শ্রী রামচন্দ্রের প্রতি তাঁর সীমাহীন ভালোবাসা ও আত্মসমর্পণের প্রতীক হিসেবে দেখা হয়। সেই থেকেই তাঁর রূপকে গেরুয়া বা সিঁদুরে রাঙা হিসেবে দেখা হয়।
সাধু-সন্তেদের মতে, সেই গেরুয়া আভরণের অন্তরালেই আজও বিরাজমান তাঁর আদিম কৃষ্ণবর্ণ রূপ—যে রূপ ভয়ংকর, রক্ষাকর্তা এবং শিবস্বরূপ।
আজও দক্ষিণ ভারতের বহু মন্দিরে কালো পাথরের হনুমান মূর্তি দেখা যায়। এই রূপ কেবল পাথরের রং নয়, বরং তাঁর সেই প্রাচীন শিবস্বরূপেরই স্মারক—যিনি রাতের মতো গভীর, অথচ অন্তরে অসীম জ্যোতি ও শক্তির আধার।
তাই হনুমান একই সঙ্গে দুই রূপে বিরাজমান—একদিকে সিঁদুরে রাঙা, প্রেম ও ভক্তির প্রতীক; অন্যদিকে কৃষ্ণবর্ণ, শিবের শক্তি থেকে জন্ম নেওয়া এক দুর্জয় রক্ষাকর্তা, যিনি সকল অন্ধকারকে নিজের মধ্যে ধারণ করে ভক্তদের জীবনে আলো ছড়িয়ে দেন।
