ওয়েব ডেস্ক; ৯ নভেম্বর : কেন্দ্রীয় সরকার ব্লু ইকোনমি বা মহাসাগর ভিত্তিক অর্থনীতিকে আরও সমৃদ্ধশালী করে তুলতে “বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে সুস্থায়ী মৎস্য পালন” – সাস্টেনেবেল হারনেসিং অফ ফিসারিজ ইন দ্য এক্সক্লুসিভ ইকোনমিক জোন-এর জন্য কিছু নিয়মাবলী ঘোষণা করেছে। ভারতের মৎস্য পালন ক্ষেত্রের বিভিন্ন সম্ভাবনাকে খুঁজে পেতে এবং সেগুলিকে কাজে লাগাতে ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের বাজেটে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর অনুপ্রেরণায় যে ঘোষণা করা হয়েছিল তার সঙ্গে সাযুজ্য রেখে এই সিদ্ধান্ত। এক্ষেত্রে আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ, লাক্ষ্মাদ্বীপ, বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

বিভিন্ন সমবায় সমিতি এবং মৎস্যজীবীদের উদ্যোগকে শক্তিশালী করা :

এই নিয়মাবলীতে মৎস্যজীবীদের সমবায় সমিতি এবং মৎস্য উৎপাদক সংগঠন বা ফিশ ফারমার প্রডিউসার অর্গানাইজেশন – এফএফপিও-গুলিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলি গভীর সমুদ্রে যাতে উন্নত প্রযুক্তির নৌযান ব্যবহার করে মাছ ধরতে পারে, তার জন্য বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলি গভীর সমুদ্রে মাছ ধরার পাশাপাশি সি-ফুড জাতীয় খাবার যাতে আরও বেশি রপ্তানি করতে পারে, নতুন এই নিয়মাবলীতে সেই বিষয়েও গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। এর ফলে ভারতীয় মৎস্য চাষীরা উপকৃত হবেন। নতুন ব্যবস্থাপনায় মাঝ সমুদ্রে উন্নত নজরদারি চালাতে ‘মাদার অ্যান্ড চাইল্ড ভেসেল’ ব্যবস্থাপনাকে কার্যকর করা হবে। আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ এবং লাক্ষাদ্বীপে ভারতের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলির ৪৯ শতাংশ অঞ্চল অবস্থিত। এই দুই কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে ‘মাদার অ্যান্ড চাইল্ড ভেসেল’-এর ব্যবহার গুরুত্বপূর্ণ।

সুসংহত সহায়তা ও দক্ষতা বিকাশ :

কেন্দ্রীয় সরকার প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ, বিদেশ সফর এবং দক্ষতা বিকাশের বিভিন্ন পদক্ষেপের মাধ্যমে মৎস্যজীবী এবং তাঁদের সংগঠনগুলিকে সুসংহত সহায়তা প্রদান করবে। প্রধানমন্ত্রী মৎস্য সম্পদ যোজনা এবং ফিসারিজ অ্যান্ড অ্যাকুয়াকালচার ইনফ্রাস্ট্রাকটার ডেভেলপমেন্ট ফান্ডের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট সংস্থা যাতে সহজেই ঋণ পায় সেই ব্যবস্থা করা হবে।

মাছ ধরার ক্ষেত্রে বিভিন্ন ক্ষতিকারক পদ্ধতি বন্ধ করা এবং সুস্থায়ীভাবে মৎস্য উত্তোলনে উৎসাহিত করা :

নতুন এই নিয়মাবলীতে মাছ ধরার সময় এলইডি লাইট ব্যবহার, পেয়ার ট্রলিং এবং বুল ট্রলিং-এর মতো ক্ষতিকর পন্থাপদ্ধতিগুলির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মৎস্য চাষের ক্ষেত্রে যাতে সকলে সমান সুযোগ পান তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্রকে রক্ষা করা হবে। এর জন্য সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের সঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকার মত বিনিময় করে ফিসারিজ ম্যানেজমেন্ট প্ল্যান তৈরি করবে। গভীর সমুদ্রে সি-কেজ ফার্মিং এবং সি উইড চাষে উৎসাহিত করা হবে।

বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলির পরিচালনায় ডিজিটাল ও স্বচ্ছ ব্যবস্থাপনা :

নতুন নিয়ম অনুসারে অনলাইনে রিয়েলক্যাফট পোর্টালের মাধ্যমে বিনামূল্যে যন্ত্রচালিত বৃহৎ আকার মাছ ধরার নৌকো পাওয়া যাবে। এই পুরো ব্যবস্থাপনাটি ডিজিটাল পদ্ধতিতে করা হবে। এক্ষেত্রে মাছ ধরার নৌকাগুলির মালিকদের ন্যূনতম নথি জমা দিতে হবে। এই ধরনের নৌকা পেতে হলে একটি অ্যাক্সেস পাস সংগ্রহের প্রয়োজন। তবে, বিদেশী মাছ ধরার নৌকাগুলি ভারতীয় অঞ্চলে মাছ ধরার জন্য এই পাস পাবে না। মেরিন প্রোডাক্ট এক্সপোর্ট ডেভেলপমেন্ট অথরিটি এবং এক্সপোর্ট ইন্সপেকশন কাউন্সিল যৌথভাবে মাছ ধরা এবং ধরা পড়া মাছের স্বাস্থ্য পরীক্ষা সংক্রান্ত শংসাপত্র প্রদানের জন্য রিয়েলক্যাফট পোর্টালের মাধ্যমে যুক্ত হবে।

নিয়মাবলীর সংস্কার, সমুদ্রের সুরক্ষা ও উপকূলবর্তী অঞ্চলের নিরাপত্তা :

ভারতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলিতে মৎস্যসম্পদ রক্ষার ক্ষেত্রে এই নিয়মাবলীতে যথাযথ সংস্কার করা হয়েছে। ক্ষুদ্র মৎস্যচাষীদের স্বার্থের কথা বিবেচনা করে অবৈধ, অনিয়ন্ত্রিত এবং গোপনে মাছ ধরা বন্ধ করতে জাতীয় স্তরে একটি পরিকল্পনা করা হচ্ছে। গভীর সমুদ্রে যেসব মৎস্যজীবী মাছ ধরতে যাবেন, তাঁদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষার জন্য ট্রান্সপন্ডার ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। মাছ ধরার নৌকাগুলি শনাক্ত করতে কিউআর কোড যুক্ত আধার কার্ড বা মৎস্যজীবীদের পরিচয়পত্র বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। রিয়েলক্যাফট অ্যাপ্লিকেশনটিকে নভোমিত্র অ্যাপ্লিকেশনের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। এর ফলে ভারতীয় উপকূলরক্ষী বাহিনী এবং ভারতীয় নৌবাহিনী উপকূলবর্তী অঞ্চলে আরও যথাযথ ভাবে নিরাপত্তা প্রদানের কাজ করতে পারবে।

এই সংস্কারগুলি সমুদ্রে ভারতীয় মৎস্যজীবীদের আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে মৎস্য চাষ ও মৎস্য পালনে সহায়ক হবে। উপকূলবর্তী অঞ্চলে যেসব মৎস্যজীবী সম্প্রদায় বসবাস করেন, তাঁদের কাছে স্বচ্ছ ও সর্বাঙ্গীনভাবে প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হবে। এর মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক স্তরে সি ফুডের ব্যবসা বাণিজ্যে ভারতের অংশীদারিত্ব বৃদ্ধি পাবে।