ওয়েব ডেস্ক; ১৪ জানুয়ারি : মূল বিষয়সমূহ : ভারতীয় রেল ৩০৬-টি GCT অনুমোদন করেছে; যেগুলির সম্মিলিত বার্ষিক ধারণক্ষমতা ১৯২ মিলিয়ন টন। এর মধ্যে ১১৮-টি ইতিমধ্যেই চালু আছে।
২০১৪ সাল থেকে ২,৬৭২ মিলিয়ন টন পণ্য সামগ্রী সড়ক থেকে রেলে স্থানান্তরিত হয়েছে, ফলে, ১৪৩.৩ মিলিয়ন টন CO₂ নির্গমন কমানো গেছে।
GCT নীতির আওতায় প্রায় ₹৮,৬০০ কোটি বেসরকারি বিনিয়োগ এসেছে।
২০২২–২৩ থেকে ২০২৪–২৫ সাল পর্যন্ত GCT থেকে আয় চার গুণেরও বেশি বেড়ে ₹১২,৬০৮ কোটিতে পৌঁছেছে।
ভূমিকা
পরিকাঠামো ক্ষেত্রে সমন্বিত পরিকল্পনা ও ডিজিটাল ব্যবস্থার মাধ্যমে ভারত লজিস্টিক্স খরচ কমিয়ে জিডিপির ৭.৯৭%-এ নামিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী গতি শক্তি ন্যাশনাল মাস্টার প্ল্যান রেল, সড়ক, বন্দর ও বিমানবন্দরকে এক কাঠামোর মধ্যে সংযুক্ত করেছে। GCT এই পরিকল্পনার একটি মূল স্তম্ভ—যা নিরবচ্ছিন্ন মাল্টি-মোডাল সংযোগ, প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ ও আঞ্চলিক উন্নয়নে সহায়তা করে চলেছে।
গতি শক্তি কার্গো টার্মিনাল (GCTs)
GCT হল, আধুনিক রেল কার্গো টার্মিনাল, যা ২০২১ সালের GCT নীতির অধীনে রেলকে অন্যান্য পরিবহণ ব্যবস্থার সঙ্গে সংযুক্ত করেছে। এখানে ‘ইঞ্জিন-অন-লোড (EOL)’ পদ্ধতি ব্যবহৃত হয়, ফলে, লোডিং/আনলোডিং শেষে ট্রেন দ্রুত ছেড়ে যেতে পারে। যান্ত্রিক ব্যবস্থা ও সাইলো ব্যবহারে হ্যান্ডেলিং এর সময় কমে, খরচ কমে, নির্গমন হ্রাস পায় এবং রেলের মাল পরিবহনের ক্ষমতা বাড়ে। বেসরকারি অংশগ্রহণ, সরলীকৃত প্রক্রিয়া ও জাতীয় উন্নয়নের লক্ষ্য অর্জন করা, এই ব্যবস্থার মূল দিক।
নকশা ও উদ্দেশ্য
GCT রেলকে সড়ক, বন্দর ও বিমানবন্দরের সঙ্গে সংযুক্ত করে করে এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলিকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অনুমোদন দেয়। এটি ইজ অফ ডুয়িং বিজনেস, মেক ইন ইন্ডিয়া ও আত্মনির্ভর ভারতের লক্ষ্য পূরণে সহায়ক এবং সমগ্র দেশ জুড়ে আঞ্চলিক উন্নয়ন সুনিশ্চিত করে।
GCT নীতি, ২০২১
২০২১-এর ১৫ ডিসেম্বর চালু হওয়া এই নীতি কার্গো টার্মিনাল নির্মাণে গতি এনেছে এবং অনুমোদন প্রক্রিয়া সহজ করেছে। প্রদত্ত সুবিধার মধ্যে মধ্যে রয়েছে—বিভাগীয় ও জমি লাইসেন্স ফি মকুব করা, রেলওয়ে নির্মিত কমন পরিকাঠামো সুবিধা, বেশি ভলিউমের ক্ষেত্রে ভাড়াতে দেওয়া ছাড়, রেল দ্বারা ট্র্যাক ও OHE এর রক্ষণাবেক্ষণ, সংযোগাধিকার এবং RLDA-এর মাধ্যমে উদ্বৃত্ত জমি ব্যবহার করা।
এ পর্যন্ত অগ্রগতি
অনুমোদিত ৩০৬-টি GCT এর মধ্যে ১১৮-টি চালু আছে; বার্ষিক ধারণক্ষমতা ১৯২ মিলিয়ন টন। প্রায় ₹৮,৬০০ কোটি বেসরকারি বিনিয়োগ এসেছে। রেল সড়কের তুলনায় সস্তা এবং প্রায় ৯০% কম কার্বন নির্গমন করে; ২০১৪ থেকে এ পর্যন্ত ১৪৩.৩ মিলিয়ন টন CO₂ নির্গমন কমানো গেছে। ২০২২–২৩ থেকে ২০২৪–২৫ সালে GCT থেকে আয় চার গুণেরও বেশি বেড়েছে, যা শক্তিশালী কর্মদক্ষতার প্রমাণ।
বৃদ্ধি ত্বরান্বিতকারী প্রধান GCT
মানেসর (হরিয়ানা):
মারুতি সুজুকির কারখানায় ভারতের বৃহত্তম অটোমোবাইল GCT ৪৬ একর জুড়ে বিস্তৃত। এটি সম্পূর্ণ বিদ্যুতায়িত এবং ১০ কিমি ডেডিকেটেড রেল লিঙ্কে সংযুক্ত, যা বছরে ৪.৫ লক্ষ গাড়ি সামলাতে পারে। এই পরিকাঠামো অটো লজিস্টিক্স ক্ষেত্রে গতি এনেছে।
উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় টার্মিনাল (অসম):
মইনারবাঁধ ও চিনামারা গতিশক্তি কার্গো টার্মিনাল কয়লা, কন্টেনার, খাদ্যশস্য, সার, সিমেন্ট, পেট্রোলিয়াম, অটোমোবাইল ও সাধারণ কার্গো পরিবহন সামলাচ্ছে। রেল, সড়ক ও জলপথের সমন্বয়ে নির্মিত এই টার্মিনাল লজিস্টিক্স ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করে তুলেছে।
নিউ সঞ্জলি (গুজরাট):
এটি পশ্চিমাঞ্চলের ডেডিকেটেড ফ্রেট করিডরে প্রথম বেসরকারি জমিতে স্থাপিত GCT, যা উচ্চগতি সম্পন্ন, উচ্চধারণক্ষমতা সম্পন্ন ও পরিবেশবান্ধব পরিবহণের জন্য নকশা করা, শক্তিশালী মাল্টি-মোডাল সংযোগ ব্যবস্থা।
আগামীর পথ
বেসরকারি অংশগ্রহণ আরও বাড়ানো, শিল্পের চাহিদা অনুযায়ী নতুন স্থান চিহ্নিত করা, গতি শক্তি প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সুষম ডিজিটাল সমন্বয়, রিয়েল-টাইম ট্র্যাকিং ও প্রেডিকটিভ অ্যানালিটিক্স—এই সবের মাধ্যমে কম লজিস্টিক্স খরচ ও পরিবেশবান্ধব পরিবহণে ভারতকে আন্তর্জাতিক লজিস্টিক্স হাব হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
উপসংহার
গতি শক্তি কার্গো টার্মিনাল ডিজিটাল ব্যবস্থাপনা ও বেসরকারি বিনিয়োগকে একত্র করে ভারতের লজিস্টিক্স ব্যবস্থাকে আধুনিক করছে। এটি সমগ্র দেশজুড়ে কার্বন নির্গমন হ্রাস করেছে, প্রতিযোগিতা বাড়িয়েছে এবং ভবিষ্যৎ-প্রস্তুত লজিস্টিক্স ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে।
