ওয়েব ডেস্ক; ৬ আগস্ট: চাইল্ড সেক্স রেশিও (সিএসআর) এবং কন্যা ও মহিলাদের ক্ষমতায়নের বিষয়গুলির সমাধানে সাহায্য করছে বেটি বাঁচাও বেটি পড়াও। মহিলা ও শিশু উন্নয়ন মন্ত্রক, শিক্ষা মন্ত্রক এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রকের যৌথ উদ্যোগে এই কর্মসূচির সূচনা হয়েছিল ২০১৫-র ২২ জানুয়ারি, যার লক্ষ্য ছিল লিঙ্গ বৈষম্য প্রতিরোধে, শিশু কন্যাদের জীবন ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এবং তাঁদের শিক্ষার প্রসার ঘটাতে ব্যবস্থা গ্রহণের।

এই কর্মসূচিতে চেষ্টা করা হয় শিশু কন্যাদের প্রতি মনোভাব এবং আচরণ পরিবর্তনে। সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষকে এই বিষয়ে অবগত করানো, প্রভাব খাটানো, প্রেরণাদান এবং তাদের এই কাজে যুক্ত করার মাধ্যমে। পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের পর্বে মিশন শক্তির উল্লম্ব সম্বলের অধীনে উপাদান হিসেবে বিবিবিপি-কে প্রসারিত করা হয়েছে দেশের সবকটি জেলাকে আওতায় আনতে। বিবিবিপি-কে রূপান্তরিত করা হয়েছে নীতিগত উদ্যোগ থেকে জাতীয় আন্দোলনে। এতে যুক্ত করা হয়েছে সরকারি সংস্থা, সংবাদ মাধ্যম, সুশীল সমাজ এবং জনসাধারণ সহ বিভিন্ন পক্ষকে।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রকের হেল্থ ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম (এইচএমআইএস)-এর সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুযায়ী জন্মের সময়ের লিঙ্গানুপাত ২০১৪-১৫য় ৯১৮র তুলনায় ২০২৫-২৬-এ বেড়ে হয়েছে ৯২৯ (প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী)। শিক্ষা মন্ত্রকের ইউডিআইএসই-র তথ্য অনুযায়ী মাধ্যমিক স্তরে বিদ্যালয়ে কন্যাদের ভর্তির অনুপাত ২০১৪-১৫-র ৭৫.৫১% থেকে ২০২৫-২৬-এ বেড়ে হয়েছে ৮৩.৪% জাতীয় স্তরে।

বেটি বাঁচাও বেটি পড়াও কর্মসূচিতে ২০২২-এর ১১ অক্টোবর একটি সাধারণীকৃত কর্মপদ্ধতি প্রকাশ করা হয়। শিক্ষা মন্ত্রকের সাহায্যে বিদ্যালয়ে কন্যাদের জন্য শৌচাগারের ব্যবস্থা, লিঙ্গ সংবেদনশীল শিক্ষা নিয়ে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, বালক এবং বালিকাদের মধ্যে লিঙ্গ সাম্যের প্রসার ঘটানো, কেরিয়ার সম্পর্কে পরামর্শ এবং জীবনে দক্ষতা সংক্রান্ত শিক্ষাদান, কন্যাদের জন্য আত্মরক্ষার প্রশিক্ষণ এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে স্যানিটারি ন্যাপকিনের ব্যবস্থা রাখা হয়। এছাড়াও বিজ্ঞান এবং বৃত্তিমূলক শিক্ষায় বালিকাদের উৎসাহ দিতেও প্রয়াস নেওয়া হয়।

স্বাস্থ্য এবং পরিবার কল্যাণ মন্ত্রকের পৃষ্ঠপোষকতায় পুষ্টি এবং স্বাস্থ্য বিষয়, মাসিকের সময় স্বাস্থ্য রক্ষা, বয়ঃসন্ধিপ্রাপ্ত কন্যাদের মধ্যে রক্তাল্পতার প্রতিরোধ সম্পর্কে সচেতনতা গড়ে তোলা, রাষ্ট্রীয় কিশোর স্বাস্থ্য কার্যক্রমকে শক্তিশালী করা, স্কুল হেল্থ অ্যাম্বাসাডার ইনিশিয়েটিভের রূপায়ণ, সার্বিক যৌন বিষয়ক শিক্ষা সম্পর্কে সচেতনতার সৃষ্টি এবং গোটা সমাজকে প্রি কনসেপশন অ্যান্ড প্রি নাটাল ডায়গনস্টিক টেকনিক (পিসিপিএনডিটি) আইন এবং মেডিক্যাল টার্মিনেশন অফ প্রেগন্যান্সি (এমটিপি) আইন সম্পর্কে অবহিত করা।

রাজ্যসভায় এক প্রশ্নের উত্তরে এই তথ্য জানিয়েছেন মহিলা ও শিশু উন্নয়ন প্রতিমন্ত্রী সাবিত্রী ঠাকুর।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *