শুভাবরি ওয়েব ডেস্ক, ২ মার্চ, ব্যুরো রিপোর্ট:
আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের মানুষ কেমন আছেন, কীভাবে তাদের জীবন যাপন, আগে‌ কিভাবে কাটতো তাদের…. এমন অনেক প্রশ্নের জবাব আমরা খুঁজি। কিন্তু সেখানে বেড়াতে গিয়ে নিজের শহর এবং অন্যান্য ভালো পর্যটন কেন্দ্রর সাথে তুলনা শুরু করি। এবার বাস্তবটা একটু দেখা যাক।

দেশভাগের পর পূর্ব পাকিস্তান থেকে আসা উদ্বাস্তুদের কত কঠিন অবস্থার মধ্যে দিন কাটাতে হয়েছে এই আন্দামান দ্বীপপুঞ্জে সেটি জানার আগ্রহ নেই আমাদের। কিন্তু ঘুরতে গিয়ে যখন জানতে পারি, অমুক মানুষের ১৫ বিঘা জমি স্বরাজ দ্বীপ অথবা শহিদ দ্বীপ বা অন্য দ্বীপগুলোর বাসিন্দাদের আছে, অবাক হয়ে যাই। একটুখানি হিংসেও হয় কারো মনে।

আচ্ছা, কলকাতায় একটি হাতরুটির দাম কতো?? ২-৩ টাকা। পোর্ট ব্লেয়ারে, স্বরাজ দ্বীপ অথবা শহিদ দ্বীপ বা আরো অন্য
দ্বীপগুলোর দিকে তাকালে দেখবেন, এর দাম ২০-৩০ টাকা (ভাজা ও ডাল সহ)। হোটেলে আধপেট শুধু ভাতের দাম ১০০ টাকা। এবারে কিন্তু ডাল ,ভাজা, তরকারি পাবেন না।

কিন্তু এসব সাধারণ খাদ্যের কেন এত দাম? স্থানীয়দের মতে, এখানকার মানুষ আগে চাষাবাদ করত জীবন বাঁচাতে। কিন্তু পর্যটন ব্যবসা যখন তাদের আরো বেশি উপার্জন দিচ্ছে, তখন কি দরকার চাষাবাদের? ফলে টান পড়েছে শাকসবজি এবং চালের। বেশিরভাগ সময় ভরসা করতে হচ্ছে বাইরে থেকে আসা জিনিসপত্রের উপরে। যুব সমাজের কাছে চাকরির কোন পথ না থাকায় তারা পর্যটন সহযোগী ব্যবসা জুড়ে গিয়েছেন। অথচ এখানকার ৯০% চাষের জমি তৈরি করেছেন পূর্ব বঙ্গ থেকে আসা মানুষেরা।

একটা অজানা তথ্য না বললে আন্দামান সত্যি ই অজানা থেকে যাবে। যখন করোনার করাল গ্রাস পৃথিবীর সাথে ভারতকেও টুটি টিপে ধরেছিল, আমরা জানতাম যে দেশের সর্বত্রই সরকার বিনামূল্যে মানুষকে চাল এবং আটা দিচ্ছেন। কিন্তু এই কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে এক অদ্ভুত খবর জানা গেল। এখানে সে ব্যবস্থা ছিল না।

তারা জানত যে করোনাকালে বিভিন্ন রাজ্য দায়িত্ব নিয়ে রাজ্যবাসীকে বিনামূল্য চাল-ডাল সরবরাহ করেছে রেশনের মাধ্যমে। কিন্তু আন্দামান দ্বীপপুঞ্জের মানুষ পরে জানলো যে এই চাল এবং সরবরাহের মধ্যে কেন্দ্রের সাহায্যে অনেকটাই রয়েছে।

কিন্তু এক দেশে নাগরিক হওয়া সত্ত্বেও কেন এই দ্বীপপুঞ্জের মানুষেরা পয়সায় খাদ্য সামগ্রী পেলো না? এ প্রশ্ন সেখানকার মানুষদের মধ্যে এখনো ঘুরে ফিরে বেড়াচ্ছে।