ওয়েব ডেস্ক; ৬ মে : উপ-রাষ্ট্রপতি জগদীপ ধনখড় সম্প্রতি জ্ঞান ও শিক্ষার কেন্দ্র হিসেবে ভারতের ঐতিহাসিক গুরুত্বের উপর আলোকপাত করেন। তিনি বলেন, দেশ তার পুরনো গৌরব পুনরায় ফিরে পেতে চায় এবং এই লক্ষ্যেই দৃঢ়ভাবে এগিয়ে চলেছে। নালন্দা ও তক্ষশীলার মতো প্রতিষ্ঠানগুলি গৌরবময় ঐতিহ্যের কথা উল্লেখ করে উপ-রাষ্ট্রপতি বর্তমান সময়ে ভারতের শিক্ষা ক্ষেত্রে আদর্শগত পরিবর্তন ও পুনরুত্থানের উপর জোর দেন।

দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্ত বিদ্যালয় এসওএল – এর ৬২তম প্রতিষ্ঠা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে উপ-রাষ্ট্রপতি বলেন, বিভিন্ন কাজের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তি, গৃহিনী বা শিক্ষা সম্পূর্ণ হয়নি, এমন পড়ুয়াদের জন্য মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।
উপ-রাষ্ট্রপতি বলেন, এই মুক্ত বিদ্যালয় বিভিন্ন কারণে বা পরিস্থিতির শিকার হয়ে শিক্ষা থেকে বঞ্চিত ব্যক্তিদের জন্য নতুন দরজা খুলে দিয়েছে এই প্রতিষ্ঠান। শ্রী ধনখড় জোর দিয়ে বলেন, এই ধরনের মানুষকে দ্বিতীয়বার শিক্ষালাভের সুযোগ করে দেওয়ার এই উদ্যোগ প্রশংসনীয়।

পরিবর্তনের জন্য শিক্ষা সবচেয়ে প্রভাবশালী মাধ্যম বলে মন্তব্য করে উপ-রাষ্ট্রপতি বলেন, কেবলমাত্র জ্ঞানার্জনের জন্যই শিক্ষালাভ নয়, উন্নতি, ক্ষমতায়ন ও সামাজিক পরিবর্তনের ক্ষেত্রেও এর বিশেষ ভূমিকা রয়েছে। শিক্ষা মানবজাতির অন্যতম অধিকার। উপ-রাষ্ট্রপতি বলেন, শিক্ষার থেকে বড় উপহার আর কিছু নেই।

চন্দ্রযানের যাত্রা থেকে প্রেরণা নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে বলেও মন্তব্য করেন উপ-রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, কোনও কাজের শুরুতে অসফলতা এলেও তাতে হতদ্যোম হওয়ার কোনও কারণ নেই। চেষ্টা চালিয়ে গেলে সাফল্য আসবেই। এর জন্য প্রয়োজন যথাযথ মানসিকতার।

ভারতীয় শিক্ষা ক্ষেত্রে নতুন শিক্ষা নীতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মন্তব্য করে ধনখড় বলেন, নতুন শিক্ষা নীতি পরিবর্তনের সূচনা মাত্র। শিক্ষার্থীদের উন্নয়নে ও একুশ শতকের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় যথাযথ জ্ঞান সমৃদ্ধ সমাজ গড়ে তুলতে এই শিক্ষা নীতি পথদিশা দেখাবে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক যোগেশ সিং, মুক্ত বিদ্যালয়ের নির্দেশক অধ্যাপক পায়েল মাগো। এছাড়াও বিদ্যালয়ের শিক্ষক, অশিক্ষক কর্মচারী ও পড়ুয়া এবং অন্যান্য অতিথিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।