ওয়েব ডেস্ক ; ২৮ মে : মেধাস্বত্ত্ব, জিনগত সম্পদ এবং এ সংক্রান্ত প্রথাগত জ্ঞানের বিষয়ে ওয়ার্ল্ড ইন্টেলেকচ্যুয়াল প্রপার্টি অর্গানাইজেশনের চুক্তি ভারত ও উন্নয়নশীল দেশগুলির পক্ষে এক বড় জয়। বিশেষত, জীববৈচিত্র্যের অফুরান ভান্ডার এবং প্রথাগত জ্ঞান ও প্রজ্ঞার প্রাচুর্যে পরিপূর্ণ ভারতের কাছে এই চুক্তি বিশেষ স্মরণীয়।
শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে জ্ঞান ও প্রজ্ঞার যে পদ্ধতি অর্থনীতি, সমাজ ও সংস্কৃতিকে সমৃদ্ধ করেছে, তা এই প্রথম বিশ্বজনীন আইপি সিস্টেমে অন্তর্ভুক্ত হ’ল। এই প্রথম স্থানীয় গোষ্ঠীগুলি এবং তাদের জিনগত সম্পদ ও প্রথাগত জ্ঞানের মধ্যেকার সম্পর্ক বিশ্বের সামনে উদ্ঘাটিত হ’ল। প্রথাগত জ্ঞান ও প্রজ্ঞা এবং জীববৈচিত্র্যের ভান্ডার হিসেবে ভারত অবশ্য দীর্ঘকাল আগেই এই ঐতিহাসিক অর্জনগুলিকে স্বীকৃতি দিয়েছে।
এই চুক্তি শুধু যে জীববৈচিত্র্য রক্ষা করবে তাই নয়, পেটেন্ট ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা বাড়াবে এবং উদ্ভাবনকে শক্তিশালী করবে। এর মাধ্যমে আইপি সিস্টেম বিভিন্ন দেশ ও সেখানকার বিভিন্ন গোষ্ঠীর প্রয়োজনে সাড়া দিয়ে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক পদ্ধতিতে উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করতে পারবে।
এই চুক্তি ভারত ও উন্নয়নশীল দেশগুলির পক্ষে এক বড় জয়। দীর্ঘদিন ধরেই ভারত ও উন্নয়নশীল দেশগুলি এই চুক্তি সম্পাদনের দাবি জানাচ্ছিল। দু’দশক ধরে আলোচনার পর সংশ্লিষ্ট সবপক্ষের সমর্থনে চুক্তিটি ১৫০টিরও বেশি দেশের ঐকমত্যের ভিত্তিতে বহুপাক্ষিক মঞ্চে গৃহীত হয়েছে।
বহুপাক্ষিক মঞ্চের বেশিরভাগ সদস্যই উন্নত রাষ্ট্র, যারা আইপি তৈরি করে এবং গবেষণা ও উদ্ভাবনের জন্য এইসব সম্পদ ও জ্ঞান ব্যবহার করে, তাদের ক্ষেত্রে এই চুক্তি আইপি সিস্টেমের মধ্যেকার পরস্পরবিরোধী মতের মধ্যে সমন্বয় সাধন করবে এবং জীববৈচিত্র্য রক্ষা করবে।
এই চুক্তি অনুসারে, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলি পেটেন্ট আবেদনকারীদের জিনগত সম্পদের দেশ বা উৎস প্রকাশে বাধ্য করবে। এতে ভারতীয় জিনগত সম্পদ ও প্রথাগত জ্ঞান বাড়তি সুরক্ষা পাবে। এরফলে, জিনগত সম্পদ ও প্রথাগত জ্ঞান প্রদানকারী দেশগুলির জন্য আইপি সিস্টেমের মধ্যে একটি অভূতপূর্ব কাঠামো তৈরি হবে।
বর্তমানে মাত্র ৩৫টি দেশে এই সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশের সংস্থান রয়েছে। তবে, এর মধ্যে বেশিরভাগ দেশেই এটি বাধ্যতামূলক নয়। এর কার্যকর বাস্তবায়নের জন্য যথাযথ নিষেধাজ্ঞা বা প্রতিকারও নেই। এই চুক্তির ফলে উন্নত বিশ্ব সহ চুক্তিবদ্ধ পক্ষগুলিকে পেটেন্ট আবেদনকারীদের উৎস প্রকাশ বাধ্যতামূলক করতে বর্তমান আইনি কাঠামোয় পরিবর্তন আনতে হবে।
এই চুক্তি সম্মিলিত বিকাশ ও এক সুস্থিত ভবিষ্যতের প্রতিশ্রুতির সূচনা করে, যে ভবিষ্যতের কথা ভারত বহু শতাব্দী ধরে বলে আসছে।