ওয়েব ডেস্ক; ২০ সেপ্টেম্বর : ডিভিসি-র অধীনে আছে ৪টি বাঁধ- মাইথন, পাঞ্চেত, তিলাইয়া এবং কোনার। চূড়ান্ত জল ছাড়া হয় মাইথন এবং পাঞ্চেত থেকে। দামোদর ভ্যালি রিজার্ভয়ার রেগুলেশন কমিটি(ডিভিআরআরসি)-র পরামর্শ মতো সব জল ছাড়া হয়। ওই কমিটিতে পশ্চিমবঙ্গ সরকার, ঝাড়খণ্ড সরকার, কেন্দ্রীয় জল আয়োগ(সদস্য সচিব) এবং ডিভিসি-র প্রতিনিধি আছে।

গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ এবং পরবর্তীতে ঝাড়খণ্ডের ওপর গভীর নিম্নচাপের কারণে পশ্চিমবঙ্গে ১৪-০৯-২৪ থেকে ১৫-০৯-২০২৫ পর্যন্ত নিম্ন দামোদর উপত্যকায় উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাত হয়েছে। অন্যদিকে, ঝাড়খণ্ডের উচ্চ উপত্যকায় ১৫-০৯-২০২৪ থেকে ১৬-০৯-২০২৪ ভারী বর্যণ হয়েছে। বৃষ্টিপাত থেমে গেছে ১৭-০৯-২০২৪ থেকে। দামোদর নদের জন্য দক্ষিণবঙ্গের নদীগুলি যেমন, আমতা চ্যানেল এবং মুন্ডেশ্বরীতে জলস্ফীতি ঘটেছে। অন্যান্য নদী যেগুলির সঙ্গে দামোদর নদের সংযোগ আছে যেমন, শিলাবতী, কংসাবতী এবং দারকেশ্বর প্লাবিত। এই কারণেই এই সময়ে বন্যার জল কমেছে খুব ধীরে।
তেনুঘাট বাঁধ পরিচালনা করে ঝাড়খণ্ড সরকার। এটি ডিভিআরআরসি-র নিয়ন্ত্রণের বাইরে। সেখান থেকে বিশাল পরিমাণে ৮৫ হাজার কিউসেক জল ছাড়ায় সমস্যা বেড়েছে। ঝাড়খণ্ড সরকার ডিভিআরআরসি-র আওতায় এই বাঁধকে আনতে রাজি নয়।
১৪-০৯-২০২৪ থেকে মাইথন এবং পাঞ্চেত বাঁধ থেকে সব জলই ছাড়া হয়েছে ডিভিসি এবং পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সঙ্গে আলোচনার করেই। নির্ধারিত জল ছাড়ার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকেই বিষয়টি পূর্ব থেকেই জানানোর প্রথা মেনে চলেছে ডিভিসি।
সব মিলিয়ে সর্বোচ্চ ৪,২৩,১৬৩ কিউসেক জল ঢুকলেও ছাড়া হয়েছে সব মিলিয়ে সর্বোচ্চ মাত্র ২,৫০,৮৮৫ কিউসেক। ফলে বন্যা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থেকেছে ৪০.৭১ শতাংশ। ১৭-০৯-২০২৪-এ সকাল ৬-টায় সর্বোচ্চ ৪,২৩,১৬৩ কিউসেক জল ঢুকলেও জল ছাড়া হয়েছে মাত্র ৯০,৬৬৪ কিউসেক। ফলে, বন্যার জলের ৭৮.৫৬ শতাংশই ধরে রাখা গেছে।
নিম্ন উপত্যকার নিকাশি ব্যবস্থার বেহাল অবস্থাকে বিবেচনায় রেখে বাঁধ থেকে জল ছাড়ার পরিমাণ স্থির করতে সম্ভাব্য সবরকম প্রয়াস নেওয়া হয়েছে। এমনকি পাঞ্চেত বাঁধকে নির্ধারিত অধিগৃহীত জমির অতিরিক্ত নির্মাণ করতে অনুমতি দেওয়ার দায় নিয়েছে ডিভিসি।
উপরোক্ত অনিয়ন্ত্রণযোগ্য কারণে এবং বাঁধের সুরক্ষার দিকটি মাথায় রেখে মাইথন এবং পাঞ্চেত বাঁধ থেকে ১৭-০৯-২০২৪-এ সকাল ৮-টা থেকে সন্ধ্যা ৬-টা পর্যন্ত জল ছাড়া হয়েছে ২.৫ লক্ষ কিউসেক। তা অবশ্য ক্রমে কমিয়ে ১৯-০৯-২০২৪-এ সকাল ৬-৫০-এ করা হয়েছে ৮০ হাজার কিউসেক।

সূত্র : পি আই বি