ওয়েব ডেস্ক; ১৮ জুলাই: দেশের পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে কেন্দ্রীয় বিদ্যুৎ এবং নতুন ও পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তিমন্ত্রী আর কে সিং গত ১৩ জুলাই রাজস্থানের জয়পুরে পর্যালোচনা বৈঠক করেছেন। বৈঠকে আন্তঃরাজ্য বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থার অগ্রগতি খতিয়ে দেখা হয়। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে নাগরিকদের বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে, যে সব রাজ্যে বিদ্যুৎ উদ্বৃত্ত সেখান থেকে বিদ্যুতের ঘাটতি রয়েছে এমন রাজ্যগুলিতে বিদ্যুৎ সরবরাহের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

২০৩০ সালের মধ্যে মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের ৫০ শতাংশ অজৈব উৎস থেকে করার যে সংকল্প ভারত নিয়েছে তার উল্লেখ করে বিদ্যুৎ মন্ত্রী বলেন, এই লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব হবে কি না তা সংশ্লিষ্ট সরবরাহ পরিকাঠামোর উন্নয়নের ওপর নির্ভর করছে। ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা বেড়ে ৭৭৭ গিগাওয়াট ছাড়িয়ে যাবে বলে মনে করা হচ্ছে। সেই সময়ে সর্বোচ্চ চাহিদা থাকবে ৩৩৫ গিগাওয়াটের আশপাশে। এই পরিস্থিতিতে ৫৩৭ গিগাওয়াট পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি সরবরাহের একটি সার্বিক পরিকল্পনা গড়ে তোলা হয়েছে। ২০২২ সালের ডিসেম্বর মাসে বিদ্যুৎ মন্ত্রী এই পরিকল্পনাটি প্রকাশ করেছিলেন।

আন্তঃরাজ্য বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থার আওতায় থাকা বিভিন্ন প্রকল্পের পরিকল্পনা, নিলাম প্রক্রিয়া ও রূপায়ণের গতি খতিয়ে দেখেন বিদ্যুৎ মন্ত্রী। যেসব প্রকল্পে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হয়েছে সেগুলির মোকাবিলা করে কিভাবে প্রকল্প সম্পাদন করা যায়, তার দিশা নির্দেশ করেন তিনি।

বিদ্যুৎ সরবরাহের পরিকল্পনা করার সময়ে গ্রীন হাইড্রোজেন উৎপাদন, বিদ্যুতের ক্রমর্বধমান চাহিদা মেটাতে প্রথাগত বিদ্যুতের উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং তামিলনাড়ু ও গুজরাটের উপকূল অঞ্চলে বায়ু চালিত বিদ্যুৎ উৎপাদনের মতো সাম্প্রতিক বিষয়গুলিকে বিবেচনা করতে হবে বলে কেন্দ্রীয় বিদ্যুৎ মন্ত্রী মন্তব্য করেন। রাজস্থান, গুজরাট, তামিলনাড়ু, অন্ধ্রপ্রদেশ, মহারাষ্ট্রের মতো পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি সম্পদে সমৃদ্ধ রাজ্যগুলির আন্তঃরাজ্য সরবরাহ পরিকল্পনা খতিয়ে দেখেন তিনি।

উত্তর পূর্বাঞ্চলের আন্তঃরাজ্য ও অন্তর্রাজ্য বিদ্যুৎ পরিবহণ পরিকল্পনাও বিশদে খতিয়ে দেখা হয়।

সরবরাহ পরিকল্পনা যাতে গতিশীল এবং ক্রমপরিবর্তনশীল চাহিদার সঙ্গে সাযুজ্যপূর্ণ হয়, তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন বিদ্যুৎ মন্ত্রী।