ওয়েব ডেস্ক; ২৩ জুলাই : নিরাপত্তার বিষয়টি ভারতীয় রেলের অগ্রাধিকারের কেন্দ্রে রয়েছে। বিগত বেশ কয়েক বছরের নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সুবাদে রেল দুর্ঘটনার সংখ্যা কমে গেছে অনেকখানি। প্রণালীগত ত্রুটির কারণে ২০২৬-২৭-এর জুন পর্যন্ত ট্রেন দুর্ঘটনার সংখ্যা মাত্র ২। ২০২৫-২৬-এ এই সংখ্যা ছিল ১৬, যা ২০১৪-১৫-র ১৩৫-এর থেকে ৮৮ শতাংশ কম।

ভারতে রেল দুর্ঘটনার জন্য মূলত ত্রুটিপূর্ণ লাইন, ইঞ্জিন/কামরার ত্রুটি, সরঞ্জামের ব্যর্থতা ও কর্মীদের ত্রুটিই দায়ী।

২০০৪-০৫ থেকে ২০১৩-১৪ পর্যন্ত রেল দুর্ঘটনার সংখ্যা ছিল ১,৭১১ এবং মোট ৯০৪ জন প্রাণ হারিয়েছিলেন। ২০১৪-১৫ থেক ২০২৩-২৪ পর্যন্ত এই সংখ্যা দুটি যথাক্রমে ৬৭৮ এবং ৭৪৮। ২০২৪-২৫-এ তা দাঁড়ায় ৩১ এবং ১৮য়। ২০২৫-২৬-এ এই সংখ্যা দুটি আরও কমে হয় ১৬ ও ১৭।

রেল নিরাপত্তা খাতে ২০১৩-১৪-য় ৩৯,২০০ কোটি টাকা খরচ হয়। এরপর থেকে এই খাতে ব্যয়ের পরিমাণ ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। ২০২৬-২৭-এ এক্ষেত্রে এখনও পর্যন্ত বরাদ্দ ১,২০,৩৮৯ কোটি টাকা।

৩০.০৬.২০২৬ পর্যন্ত ৬,৬৭১টি স্টেশনে উন্নতমানের ইন্টারলকিং ব্যবস্থাপনা চালু হয়েছে। লেভেল ক্রসিংগুলিতেও এই ব্যবস্থাপনা আরও জোরদার করা হয়েছে। সিগন্যালিং, ইঞ্জিনে উন্নতমানের সরঞ্জাম সংস্থাপন, জিপিএস-ভিত্তিক ফগ সেফটি ডিভাইসের ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি ট্র্যাকগুলিকে আরও মজবুত করে তোলা হচ্ছে এবং নজরদারি বাড়ানো হচ্ছে। চালু করা হয়েছে দেশজ ‘কবচ’ প্রযুক্তি। এর সুবাদে আপৎকালীন পরিস্থিতিতে স্বয়ংক্রিয় পন্থায় ট্রেনের গতি কমে যায়। কবচ প্রযুক্তি চালু করা হয় ২০২০-র জুলাইতে। এর উন্নত সংস্করণ কবচ ৪.০ বর্তমানে প্রয়োগ করা হচ্ছে বিভিন্ন রেলপথে। ১৩.০৭.২০২৬ পর্যন্ত ২,৪৯০ রুট কিলোমিটার এর আওতায় এসেছে। দিল্লি-হাওড়া শাখায় ১,১৪৬ রুট কিলোমিটার রয়েছে এর আওতায়।

লোকসভায় প্রশ্নের জবাবে একথা জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় রেল, তথ্য ও সম্প্রচার তথা তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *