ওয়েব ডেস্ক; ১৫ জুন : জন্মের সময় যত্ন একটি শিশুর জীবন ও মায়ের সুস্থতার ভিত্তি গড়ে তোলে। বছরের পর বছর ধরে, ভারত স্বাস্থ্য পরিষেবা, পুষ্টি সহায়তা এবং প্রাতিষ্ঠানিক প্রসব ব্যবস্থার সমন্বয়ের মাধ্যমে মায়ের ও প্রারম্ভিক শৈশবের যত্নকে শক্তিশালী করেছে।

ভারত সরকারের প্রধান উদ্যোগ, ‘বেটি বাঁচাও বেটি পড়াও’ (বিবিবিপি), সারা দেশে কন্যাশিশুর বেঁচে থাকা, সুরক্ষা এবং ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এই রূপান্তরমূলক পরিবর্তনকে চালিত করে চলেছে। ২০১৫ সালের ২২ জানুয়ারি চালু হওয়া বিবিবিপি প্রকল্পটি ক্রমাগত কমতে থাকা শিশু লিঙ্গ অনুপাত (সিএসআর) এবং ব্যাপক লিঙ্গ-ভিত্তিক বৈষম্যের মোকাবিলায় তৈরি করা হয়েছিল। এই প্রকল্পটি নারী ও শিশু উন্নয়ন মন্ত্রক (এমডব্লিউসিডি), স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রক (এমওএইচএফডব্লিউ) এবং শিক্ষা মন্ত্রকের (এমওই) একটি যৌথ উদ্যোগ।

গত ১১ বছরে, বিবিবিপি একটি নির্দিষ্ট নীতিগত পদক্ষেপ থেকে একটি দেশব্যাপী আন্দোলনে পরিণত হয়েছে। এটি সরকার, গণমাধ্যম, নাগরিক সমাজ এবং বিভিন্ন সম্প্রদায়ের অংশীদারদের একত্রিত করেছে। এই উদ্যোগটি জন্মকালীন মর্যাদা, কন্যাশিশুর সুরক্ষা এবং তার প্রারম্ভিক শৈশবের যত্ন ও শিক্ষা লাভের সুযোগের গুরুত্ব তুলে ধরে। এর ফলে তার সার্বিক বিকাশের জন্য একটি সহায়ক পরিবেশ তৈরি হয়।

এই প্রকল্পটি প্রধান লিঙ্গ সূচকগুলোর মানোন্নয়নে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছে। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রকের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা তথ্য ব্যবস্থা (এইচ এম আই এস)-এর তথ্য অনুযায়ী, জাতীয় পর্যায়ে জন্মকালীন লিঙ্গানুপাত (এসআরবি) ২০১৪-১৫ সালের ৯১৮ থেকে বেড়ে ২০২৪-২৫ সালে ৯২৯ হয়েছে। এটি শিশু জন্মের সময়ে লিঙ্গ-ভিত্তিক নির্বাচন প্রতিরোধ এবং প্রাতিষ্ঠানিক প্রসবকে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে ধারাবাহিক প্রচেষ্টাকেই প্রতিফলিত করে।

শিক্ষা ক্ষেত্রে, মেয়েদের বিদ্যালয়ে প্রবেশের সুযোগ বাড়ানোর ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রকের ইউনিফাইড ডিস্ট্রিক্ট ইনফরমেশন সিস্টেম ফর এডুকেশন (ইউডিআইএসই) এর তথ্য অনুযায়ী, মাধ্যমিক স্তরে মেয়েদের ভর্তির হার ২০১৪-১৫ সালে ছিল ৭৫.৫১%। ২০২৪-২৫ সালে তা বেড়ে ৮০.২% হয়েছে।

বিবিবিপি একটি জীবনচক্র পদ্ধতির উপর জোর দিয়ে চলেছে। এটি শিশুর নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ জন্ম, প্রারম্ভিক শৈশবের যত্ন নিশ্চিতকরা এবং মেয়েদের শিক্ষা ও ক্ষমতায়ন করার মাধ্যমে শুরু হয়। এই প্রকল্পটি ধারাবাহিক প্রচার, সামাজিক যোগাযোগ এবং বিভিন্ন মন্ত্রক ও রাজ্য/কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলির মধ্যে সমন্বয়ের মাধ্যমে আচরণগত পরিবর্তনকে শক্তিশালী করে।

মহিলা ও শিশু উন্নয়ন মন্ত্রক বিবিবিপি কাঠামোকে শক্তিশালী করতে প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করছে। ভারতের প্রতিটি কন্যাশিশু যেন সুরক্ষিত, শিক্ষিত ও ক্ষমতায়িত হয় এবং এর মাধ্যমে মহিলা-নেতৃত্বাধীন উন্নয়নের লক্ষ্যে অবদান রাখাই এর লক্ষ্য।