ওয়েব ডেস্ক; ১২ অক্টোবর: কলকাতায় ভারতীয় উপকূল রক্ষী বাহিনীর আয়োজনে ন্যাশনাল মেরিটাইম সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ বোর্ড – এর ২১তম বৈঠক অনুষ্ঠিত হ’ল। ভারতীয় উপকূল রক্ষী বাহিনীর মহানির্দেশক রাকেশ পালের উপস্থিতিতে বৈঠকে নীতিগত পর্যালোচনার পাশাপাশি উপকূল রক্ষী বাহিনীর জলযানের সংখ্যা বাড়ানো, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং আগামী দিনে তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযানে দক্ষতা বৃদ্ধির বিষয়টি প্রাধান্য পায়। সমুদ্র দূষণের বিপদ এবং তা রোধ করতে ভারতের দায়বদ্ধতার প্রসঙ্গটিও উঠে আসে পর্যালোচনা বৈঠকে।
সমুদ্র তল্লাশি উদ্ধার অভিযানের কার্যকারিতা বাড়াতে অন্যান্য সমধর্মী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয়ের উপর গুরুত্ব দেন মহানির্দেশক শ্রী পাল। আগামী বছরের একটি সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনাও পেশ করেন তিনি।
নীতিগত কাঠামোর মধ্যে সমুদ্র নিরাপত্তার বিষয়টি জোরদার পাশাপাশি, সচেতনতা কর্মসূচিরও উপরও জোর দেন বক্তারা। ভারতীয় উপকূল রক্ষী বাহিনী, সীমান্ত সুরক্ষা বাহিনী এবং প্রাদেশিক বিভিন্ন সংস্থার তরফে প্রযুক্তি-ভিত্তিক প্রতিবেদন পেশ করা হয়। এরপর, সামগ্রিক বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনায় সামিল হন বক্তারা। সমুদ্রে তল্লাশি ও উদ্ধার কাজে ইসরোর তৈরি ডিজিটাল সংযোগ ব্যবস্থার কথা উল্লেখ করেন উপকূল রক্ষী বাহিনীর মহানির্দেশক। তল্লাশি অভিযানের সময় স্থানীয় মৎস্যজীবীরা যেভাবে সাহায্য করেন, তার ভুয়সী প্রশংসা করেন তিনি। সমুদ্র নিরাপত্তার প্রশ্নে জাপান এবং দক্ষিণ কোরিয়ার পাশাপাশি, ভারত মহাসাগরীয় ৯টি দেশের সঙ্গে উপনীত সমঝোতার বিষয়টিও তিনি তুলে ধরেন।
জাতীয় সমুদ্র তল্লাশি ও উদ্ধার পর্ষদে রয়েছে – বিভিন্ন কেন্দ্রীয় মন্ত্রক/সংস্থা, সশস্ত্র বাহিনী, উপকূলবর্তী সব রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের মোট ৩১ জন সদস্য। প্রতি বছর একবার এই পর্ষদ বৈঠকে বসে। আপৎকালীন পরিস্থিতি মোকাবিলার পাশাপাশি, সমুদ্র পথের যাত্রী এবং ভারতীয় তল্লাশি ও উদ্ধার অঞ্চলের আওতায় থাকা বিস্তীর্ণ ৪৬ লক্ষ বর্গ কিলোমিটার এলাকায় বসবাসরত মৎস্যজীবীদের পরিষেবা প্রদানও এই পর্ষদের অগ্রাধিকার।
সাংবাদিক সম্মেলনে ভারতীয় উপকূল রক্ষী বাহিনীর মহানির্দেশক তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযানের দক্ষতা বাড়াতে ৯টি অত্যাধুনিক হেলিক্টার এবং ৮টি ডর্নিয়ার বিমান কেনার বিষয়টি উল্লেখ করেন। তিনি আরও জানান, সমুদ্র তল্লাশি সমন্বয় কেন্দ্রের আওতায় সম্প্রতি ২৮টি উপকেন্দ্রের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
