ওয়েব ডেস্ক; ২৩ ফেব্রুয়ারি: তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী অনুরাগ ঠাকুর আজ বাংলা চলচ্চিত্র উৎসব ‘বাংলা আবার’-এর দ্বিতীয় সংস্করণে বক্তব্য রেখেছেন। চলতি বছরের ১৭ থেকে ২০ ফেব্রুয়ারি এই উৎসবের আয়োজন করা হয়।
পশ্চিমবঙ্গের সমৃদ্ধ সংস্কৃতির উল্লেখ করে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী বলেন, বাংলা এমন সব শিল্পী, লেখক, সঙ্গীতকার ও চলচ্চিত্র নির্মাতার জন্ম দিয়েছে, যাঁরা শুধু ভারতেই নয়, বিশ্বজুড়ে সমাদৃত।
ঠাকুর বলেন, দ্রুত পরিবর্তনশীল প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বর্তমানে আমাদের জীবনযাত্রার ধরণ ও বিনোদনের সংজ্ঞাটাই পাল্টে দিয়েছে।
আগামী তিন বছরের মধ্যে ভারত বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি হতে চলেছে। ভারত যাতে বিশ্বের কনটেন্ট হাব হয়ে উঠতে পারে, সেই লক্ষ্যে আমাদের একযোগে কাজ করতে হবে।
ভারতীয় চলচ্চিত্র ও বিনোদন শিল্পের স্বার্থরক্ষা এবং এই শিল্পের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টিতে ভারত সরকার সর্বদা পাশে রয়েছে বলে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী আশ্বাস দেন। এই প্রসঙ্গে অনুরাগ ঠাকুর ফিল্ম পাইরেসি রোধে সিনেমাটোগ্রাফ আইনের কার্যকর পরিবর্তনের কথা তুলে ধরেন। ফিল্ম পাইরেসি প্রতিরোধে সেন্ট্রাল বোর্ড অফ ফিল্ম সার্টিফিকেশন – সিবিএফসি-র প্রতিটি কেন্দ্রে বিশেষ নোডাল অফিসার নিয়োগ করা হয়েছে বলে তিনি জানান।
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী বলেন, ভারতকে চলচ্চিত্র নির্মাণের হাব হিসেবে তুলে ধরতে তাঁর মন্ত্রক সর্বতো প্রয়াস চালাচ্ছে। চলচ্চিত্র নির্মাণ শিল্পে ব্যবসা সহায়ক পরিবেশ গড়ে তুলতে ফিল্ম শ্যুটিং-এর ক্ষেত্রে এক জানালা অনুমোদন পদ্ধতি চালু করা হয়েছে। জাতীয় চলচ্চিত্র ঐতিহ্য মিশনের আওতায় সরকার সম্প্রতি বিশ্বের বৃহত্তম ফিল্ম ডিজিটাইজেশন ও সংরক্ষণ প্রকল্পের সূচনা করেছে। এর অঙ্গ হিসেবে বিভিন্ন ভাষা ও বিষয়ের ৫৯০০টি স্বল্প দৈর্ঘ্যের ছবি, তথ্যচিত্র ও কাহিনীচিত্র সংরক্ষণ করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে।
ঠাকুর বলেন, বাংলা সিনেমা এবং ভারতীয় সিনেমা সামগ্রিকভাবে ভারতের সংস্কৃতি, সমাজ, মূল্যবোধ ও নাগরিকদের বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরে ভারতের শৈল্পিক চেতনায় উল্লেখযোগ্য অবদান রাখছে। আমাদের চলচ্চিত্র শিল্প বর্তমানে বিশ্বের বৃহত্তম শিল্পগুলির একটি হিসেবে পরিগণিত হচ্ছে, কিন্তু এতেই সন্তুষ্ট না হয়ে আমাদের আরও এগোতে হবে এবং চলচ্চিত্র ও শিল্পের দুনিয়ায় ভারতের আধিপত্য বিস্তার করতে হবে।
সূত্র: পি আই বি
