ওয়েব ডেস্ক; ১২ জুলাই: কেন্দ্রীয় বন, পরিবেশ, জলবায়ু এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদব বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে ভারত সার্বিক ভাবে জীব বৈচিত্র সংরক্ষণে এক আদর্শ নমুনা গড়ে তুলেছে। গুজরাটে দারোকার রুকমিনি মন্দিরের কাছে হরিয়ালি মহোৎসবের ভাষণে যাদব বলেন, পরিবেশ এবং এর ওপর নির্ভরশীল সবকিছুর মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা জরুরী। এই লক্ষ্য পূরণে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সুযোগ্য নেতৃত্বে সরকার মিশন লাইফ-এর সূচনা করেছে।

মন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, খাদ্যশৃঙ্খল এবং বাস্তুতন্ত্র সংরক্ষণের মাধ্যমে প্রকৃতির সংরক্ষণ জরুরী। তিনি সরকারের গৃহীত ডলফিন প্রকল্প ও সিংহ প্রকল্পের উল্লেখ করেন। পাশাপাশি তিনি ম্যানগ্রোভ অঞ্চলের বাস্তুতন্ত্রের এবং ডলফিনের সংরক্ষণের ওপরও জোর দেন। মন্ত্রী, সমুদ্র অঞ্চলের বাস্তুতন্ত্র রক্ষার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন।

বাস্তুতন্ত্র সংরক্ষণের ওই উদ্যোগ বিভিন্ন ক্ষেত্রগুলির যোগদানের আবেদন জানান শ্রী যাদব। তিনি বলেন, সম্প্রতি চালু হওয়া গ্রীণ ক্রেডিট ব্যবস্থাপনায় সরকারি বেসরকারি অশীদারিত্ব জরুরী। মন্ত্রী বলেন, কার্বন নিঃসরণ নিয়ন্ত্রণ ও সবুজ স্তর বজায় রাখার ক্ষেত্রে শিল্প ক্ষেত্রগুলির বিশেষ ভূমিকা রয়েছে। ম্যানগ্রোভ অঞ্চলের বাস্তুতন্ত্র রক্ষায় পিপিপি মডেলে গুজরাট সরকার যে বিশেষ কাজ করেছে তারজন্য সন্তোষ প্রকাশ করেন শ্রী যাদব। ঐতিহাসিক ম্যানগ্রোভ অঞ্চলের সংস্কার গুরুত্বপূর্ণ বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

যাদব ম্যানগ্রোভ চারা রোপন এবং ম্যানগ্রোভ নার্সারিগুলির বিষয়ে বিস্তারিত খোঁজ-খবর রাখার মত কাজের প্রয়োজনীয়তার ওপরও জোর দেন।

মন্ত্রী বলেন, ভারতে ম্যানগ্রোভ অঞ্চলের সংরক্ষণের জন্য সম্প্রতি এমআইএসএইচটিআই কর্মসূচি চালু করা হয়েছে এবং ভারত ম্যানগ্রোভ জোটের এক গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। তিনি ভারতে সমীক্ষায় যে ৫০০ ধরনের ম্যানগ্রোভ সম্পর্কে তথ্য নথিভুক্ত হয়েছে সেকথাও উল্লেখ করেন।

প্রতিনিধিরা প্রতীকি ম্যানগ্রোভের চারা রোপন করেন। বনদপ্তর এবং বিশিষ্ট কোম্পানির মধ্যে স্বাক্ষরিত হয় একটি মউ। ম্যানগ্রোভ সুরক্ষা ও সংরক্ষণে বিশেষ কাজ করেছেন যারা, সেইসব বন নায়ক বা ‘ফরেস্ট হিরো’-দের সম্মানিত করা হয়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন গুজরাট সরকারের পর্যটন, সংস্কৃতি এবং বন ও পরিবেশ বিষয়ক মন্ত্রী মুলুভাই বেরা, জামনগর এবং দারোকার সাংসদ সুশ্রী পুনম বেন মাদাম, রাজকোটের বিধানসভার সদস্য শ্রী উদয় কনগড়, বন দপ্তরের মহানির্দেশক চন্দ্র প্রকাশ গয়াল সহ ভারত সরকার ও গুজরাট সরকারের বনদপ্তরের বিশিষ্ট আধিকারিকরা। এছাড়াও এনসিসি-র স্কাউটরা, সারদা পীঠের পন্ডিতরা এবং ভারতীয় বায়ুসেনা, নৌসেনা ও উপকূলরক্ষী বাহিনীর প্রতিনিধিরাও এই অনুষ্ঠানে যোগ দেন।