ওয়েব ডেস্ক; ২৫ সেপ্টেম্বর : সংবিধানের ৩২৪ নং ধারা অনুসারে ভারতের নির্বাচন কমিশন একটি সাংবিধানিক সংস্থা যারা যথাযথ বিধি অনুসরণ করে প্রাতিষ্ঠানিক নানা নিয়ম মেনে চলে। কমিশন একাধিক সদস্যের একটি সাংবিধানিক সংস্থা। স্বচ্ছতা বজায় রেখে, আইন অনুসরণ করে, পরিচালনগত বিভিন্ন নিয়ম মেনে কমিশনের সদস্যরা বিভিন্ন বিজ্ঞপ্তি লেখেন, বিভিন্ন বিষয়ের পর্যালোচনা করেন, কারিগরি পরামর্শ দেন এবং অন্তর্বর্তী বিভিন্ন সিদ্ধান্ত মেনে চলেন। ভারতের নির্বাচন কমিশনের প্রতিটি সিদ্ধান্ত আইন অনুসারে কার্যকর করা হয়।

২০২৩ সালের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার এবং অন্যান্য নির্বাচন কমিশনারদের নিয়োগ ও কাজের শর্তাবলী আইন অনুসারে প্রতিটি সরকারি নির্দেশাবলী জারি করা হয়। এক্ষেত্রে বিধিবদ্ধ পন্থাপদ্ধতি অনুসরণ করা হয়।

যে কোনও প্রস্তাবে আলোচনার সময় কমিশনের সদস্যরা সেটি কার্যকর করার বিষয় নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন উত্থাপন করেন। ভোটারদের অধিকার সুরক্ষিত রাখার জন্য এটি মান্য বিধির একটি প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা। কমিশনাররা যে পরামর্শগুলি দেন, সেগুলি নির্বাচনী বিধির মানোন্নয়নে সহায়ক হয়।

যে কোনও প্রতিষ্ঠানে আলাপ-আলোচনা চলার সময় একাধিক মত উঠে আসা একটি স্বাভাবিক পদ্ধতি। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের আগে এটি হয়েই থাকে। এক্ষেত্রে শুধু তিনজন কমিশনার নন, কমিশনের প্রত্যেক আধিকারিকের নিজস্ব মতামত দেওয়ার পূর্ণ অধিকার রয়েছে। এর ফলে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার মানোন্নয়ন ঘটে।

১০ মাস ধরে চলা আলোচনার মধ্যে কয়েকটি অন্তর্বর্তী নোট বা পর্যবেক্ষণকে তুলে ধরলে বৃহত্তর এক সংস্থার বিভিন্ন সিদ্ধান্ত গ্রহণ, অনুমোদন, নির্দেশ প্রদান ও উদ্যোগ গ্রহণের একটি খণ্ডচিত্র বলে বিবেচনা করা যেতেই পারে। কমিশন দেশজুড়ে ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধন সহ প্রায় ৪০টি নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে যেগুলি নির্বাচনী বিধির সংস্কারে সহায়ক হয়েছে। এই সিদ্ধান্তগুলি গত এক বছর ধরে কমিশনের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চের অগণিত সিদ্ধান্তের ফসল।

কমিশন পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, পুদুচেরী, তামিলনাড়ু, কেরলম এবং বিহারে সাম্প্রতিক সফলভাবে নির্বাচন করেছে। এক্ষেত্রে প্রশাসনিক এবং পরিচালনগত ব্যবস্থাপনাকে বিপুলভাবে যুক্ত করা হয়েছে। কমিশনের বিভিন্ন নির্দেশ এবং প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়েছে।

ইসি নেট-এর মতো কমিশনের বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম তথ্য সংক্রান্ত কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা মেনে পরিচালিত হয়। এক্ষেত্রে কোনও তথ্যের বিকৃতি যাতে অবৈধভাবে না হয়, সেই বিষয়টিও নিশ্চিত করা হয়। সাইবার নিরাপত্তার মান্য বিধি অনুসরণ করে তথ্যপ্রযুক্তির নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় দেখা হয়। নির্বাচনের নিবন্ধিত আধিকারিক এবং জেলা নির্বাচনী আধিকারিক সহ বিধিবদ্ধ কর্তৃপক্ষ নির্দিষ্ট আইন অনুসরণ করে তাঁদের কাজ করে থাকেন।

ভারতের নির্বাচন কমিশন তার সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে সম্পূর্ণ অঙ্গীকারবদ্ধ। আমাদের গণতন্ত্রকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে এই কমিশন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *