ওয়েব ডেস্ক ; ৪ জুলাই : মহারাষ্ট্রে জিকা ভাইরাস সংক্রমণের কয়েকটি ঘটনা নজরে আসায় কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রকের স্বাস্থ্য পরিষেবা মহানির্দেশক (ডিজিএইচএস) ডাঃ অতুল গোয়েল রাজ্যগুলিকে পাঠানো নির্দেশিকায় পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখার কথা বলেছেন।
জিকা ভাইরাস সংক্রমণে প্রসূতির দেহে থাকা ভ্রুণে স্নায়ুজনিত সমস্যা দেখা দিতে পারে এবং নবজাতকের মাথার আয়তন ছোট হতে পারে। সেইজন্য কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক রাজ্যগুলিকে প্রসূতিদের জিকা ভাইরাস সংক্রমণ পরীক্ষায় জোর দিতে বলেছে। সংক্রমিত প্রসূতিদের ভ্রুণ পরীক্ষা করারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই ভাইরাসের বাহক এডিস মশার বাড়বাড়ন্ত রোধে হাসপাতালগুলিতে বিশেষ দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক নিয়োগ করার জন্য পরামর্শ দিতেও রাজ্যগুলিকে নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক।
বসতি এলাকা, কাজের জায়গা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, নির্মাণ ক্ষেত্র সহ সব জায়গাতে মশাবাহিত রোগের সংক্রমণ ঠেকাতে নজরদারি বাড়াতে বলা হয়েছে। সামাজিক মাধামেও বার্তা দিয়ে সাধারণ মানুষকে সচেতন করার কথা বলেছে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক। সংক্রমণের খবর পাওয়া গেলেই সমন্বিত ব্যাধি নজরদারি কর্মসূচি কিংবা জাতীয় মশকবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রে তা জানাতে বলা হয়েছে।
বহু ক্ষেত্রেই এই ভাইরাসে আক্রান্তরা উপসর্গহীন বা মৃদু উপসর্গযুক্ত হয়ে থাকেন। ভারতে অবশ্য নবজাককের মাথার আয়তন ছোটো হওয়া বা মাইক্রোসেফালি-র কোনো খবর ২০১৬-র পরে পাওয়া যায়নি।
জিকা সংক্রমণের পরীক্ষার সুবিধা রয়েছে পুনের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ ভাইরোলজি, দিল্লির ন্যাশনাল সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল এবং কয়েকটি মাত্র গবেষণা প্রতিষ্ঠানে। ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিকেল রিসার্চের পরীক্ষাগারেও এই সুবিধা রয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ২৬ এপ্রিল এবং তারও আগে ফেব্রুয়ারিতে জিকা, ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া-র বিষয়ে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক নির্দেশিকা জারি করেছিল।
ভারতে প্রথম ২০১৬-য় গুজরাটে জিকা সংক্রমণের খবর পাওয়া যায়। পরে তামিলনাড়ু, মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থান, কেরল, মহারাষ্ট্র, উত্তরপ্রদেশ, দিল্লি এবং কর্ণাটকেও এই ভাইরাস সংক্রমণের খবর মিলেছে।
এবছর ২ জুলাই পর্যন্ত মহারাষ্ট্রে ৮ জনের দেহে জিকা সংক্রমণ ধরা পড়েছে।
