ওয়েব ডেস্ক; কলকাতা , ১৪ ফেব্রুয়ারী : ‘ শিশু কোলে নিয়ে রেললাইন পারাপারের সময় মর্মান্তিক মৃত্যু ‘ কিংবা ‘ রেলগেটে ট্রেনের ধাক্কায় সাইকেল আরোহীর মর্মান্তিক পরিণতি ‘ – এধরণের হৃদয়বিদারক খবর আপনারা প্রায়ই পড়ে থাকেন। কিছুক্ষন শোকের আবহাওয়ার পরে সেটা ভুলেও যান। কিন্তু এধরণের ঘটনার পুনরাবৃত্তি হতে দেয়া যায় কি ? অনেকেরই সংসারের যথেষ্ট প্রয়োজনীয়তা আছে। ঘরে ছেলে-মেয়ে, বাবা-মা পথ চেয়ে বসে আছে কখন ফিরবে বলে। তাড়াহুড়ো করে রেল লাইন পেরোতে গিয়ে ক্ষনিকের ভুলে দুর্ঘটনা কিছুতেই মেনে নেয়া যায়না।

রেল লাইনে চলতে চলতে মোবাইল ফোনে ব্যস্ত থাকা কিংবা বন্ধ রেল গেট পার হওয়ার চেষ্টা অথবা স্টেশনে ফুট ওভারব্রিজ ব্যবহার না করে রেল লাইন ধরে পারাপার করার চেষ্টা – এসব হামেশাই দেখা যায়, যার পরিণতিতে যেকোনো সময়ে যেকোনো ধরণের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এতে শুধু আপনারই নয়, আপনার পারিপার্শ্বিক লোকজনেরও বিপদ ঘটতে পারে এবং আপনার কোনোকিছু ঘটে গেলে প্রিয়জনের হাহাকার তো আছেই।

রেল কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন সময় জনসচেতনামূলক প্রচারের উদ্দেশ্যে প্রচারাভিযান চালিয়ে থাকে। মনে রাখা দরকার, রেল লাইনে চলাচলের চেষ্টা বা বন্ধ রেল গেট পেরিয়ে চলাচল করা শুধুমাত্র সুরক্ষাবিধির উলঙ্ঘনই নয়, এটি বেআইনিও বটে।

প্রসঙ্গত বলা যেতে পারে যে, পূর্ব রেলের অধিক্ষেত্রে ২০২২-২৩ সালে রেলে কাটা পরে মোট ১৭৯৪ জন প্রাণ হারিয়েছিলেন। এবং ২০২৩-২৪ সালে এপর্যন্ত অর্থাৎ এপ্রিল ২০২৩ থেকে জানুয়ারী ২০২৪ পর্যন্ত মোট ১৪৮৫ জন রেল লাইনে বিভিন্ন দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন। এই অনভিপ্রেত ঘটনার আর বৃদ্ধি না ঘটানোই ভালো।

কৌশিক মিত্র , পূর্ব রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক এব্যাপারে বলেন, “পূর্ব রেল আশা করে, জনগণ রেলপথে অযথা চলাচল করবেন না , অসাবধনতার সাথে তো নয়ই। ক্ষণিকের অসাবধনতা যেন নিকটজনের বিয়োগের কারণ না হয়। “