ওয়েব ডেস্ক; ২৩ জুলাই : নতুন দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে শীতকালীন কুয়াশা নিয়ে পরীক্ষা (WiFEX)-র সূচনা হয় ২০১৫-র শীতের মরশুমে। উত্তর ভারতের শীতকালীন ঘন কুয়াশায় উড়ান পরিবহন নিরাপত্তা এবং দৈনন্দিন জীবনের প্রভাব নিয়ে ১০ বছরের সফল পরীক্ষার উল্লেখযোগ্য মাইলফলক স্পর্শ করা গেছে।

ভূ-বিজ্ঞান মন্ত্রকের অধীন ইন্ডিয়ান ইন্সস্টিটিউট অফ ট্রপিক্যাল মেটেওরোলোজি (আইআইটিএম) –এর নেতৃত্বে এবং ভারতীয় আবহাওয়া দফতর এবং ন্যাশনাল সেন্টার ফর মিডিয়াম রেঞ্জ ওয়েদার ফোরকাস্টিং (এনসিএমআরডব্লুএফ)-এর সহায়তায় শীতকালীন কুয়াশা নিয়ে খোলা জায়গায় বিশ্বের দীর্ঘস্থায়ী পরীক্ষার অন্যতম WiFEX সূত্রপাত হয়। ইন্দো- গাঙ্গেয় সমভূমি এলাকায় বিমান, রেল এবং সড়ক পরিবহনের ক্ষেত্রে যে শীতকালীন কুয়াশা নিয়মিত বাধা হয়ে দাঁড়ায়। এর হাত থেকে নিস্তার পেতেই এই পরীক্ষার সূত্রপাত। ভারতের ব্যস্ততম এবং সবথেকে কুয়াশা প্রভাবিত বিমানবন্দর হিসেবে ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এই পরীক্ষার সূত্রপাত হলেও কালক্রমে তা নয়ডার জাওয়ার বিমানবন্দ ও ইসার এবং হরিয়াণা অর্থাৎ উত্তর ভারতের মূল বিমান করিডরগুলিতে এর পরীক্ষামূলক সম্প্রসারণ ঘটানো হয়। বিগত এক দশক ধরে WiFEX বিজ্ঞানীরা এই পরীক্ষার স্বার্থে উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতি, মাইক্রো মেটেওরোলোজি টাওয়ার, সিলোমিটার, উচ্চ ফ্রিকোয়েন্সি সেন্সারের সাহায্য নেয়। বায়ুমন্ডলের বিভিন্ন স্তরের তাপমাত্রা, আর্দ্রতা, বায়ুমন্ডলের চাপ, ভূমিগত তাপমাত্রা, এরোসল প্রভৃতি সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ তথ্য সংগ্রহ করাই ছিল এর লক্ষ্য। দীর্ঘকালীন এই পরীক্ষায় গভীর কুয়াশার বাতাবরণ কাটিয়ে উঠতে প্রয়োজনীয় দিক নির্দেশ সংক্রান্ত অনন্য সাধারণ তথ্যভাণ্ডার গড়ে তোলা হয়েছে। এই পরীক্ষার মধ্যে দিয়ে ৩ কিলোমিটার ব্যাসার্ধ পর্যন্ত বিস্তৃত কুয়াশার বাতাবরণ কাটিয়ে ওঠার বিষয়সমূহ ঠিক হয়। ২০০ মিটারের নীচে দৃশ্যমানতা এমন পরিব্যক্ত ঘন কুয়াশা কাটিয়ে উঠতে ৮৫ শতাংশ পর্যন্ত সার্থকতার পথ বেরিয়ে আসে। বিমান যাত্রার ক্ষেত্রে গন্তব্য স্থল থেকে কুয়াশার কারণে বিকল্প পথে সেই যাত্রা করতে হলে একদিকে যেমন তা খরচ সাপেক্ষ হয়ে দাঁড়ায় তার পাশাপাশি শীতকালীন কুয়াশার মরশুমে বিমান চালানো এক বিরাট চ্যালেঞ্জের বিষয় হয়ে দাঁড়ায়।
WiFEX পূর্বাভাস পৌঁছে দেয় কোথায় কি রকম কুয়াশা ঘণীভূত হবে, বায়ুদূষণের পরিমান কি এবং তাপমাত্রাগত পরিবর্তন। কতক্ষণ পর্যন্ত তা স্থায়ী হবে তারও একটা ইঙ্গিত দেয়। এর ফলে বিভিন্ন রকম অগ্রিম পরিকল্পনা এবং উন্নতমানের শহরভিত্তিক বিভিন্ন পরিকল্পনা প্রণয়ন ও পরিবেশ বান্ধব ব্যবস্থা গড়ে তোলার পথ তৈরি হয়।

WiFEX-এর সফল প্রাথমিক পরীক্ষার পর পরবর্তী পর্যায়ে WiFEX-২ পর্বে পা রাখা হচ্ছে। এটা আরও বেশি আঞ্চলিক এবং রানওয়ে নির্ভর হবে। উত্তর ভারতের আরও বিমানবন্দরের ক্ষেত্রে এই জাতীয় পরীক্ষার পথ প্রশস্ত হবে।

১০ বছরের সফল পরীক্ষার পর WiFEX এখন এক সুস্থায়ী পরীক্ষার জাজ্বল্য দৃষ্টান্ত হয়ে দাঁড়িয়েছে। গবেষণাভিত্তিক মডেল সঠিক সময় ভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে এক পরীক্ষিত দিক নির্দেশ। WiFEX প্রমাণ করেছে যে বিজ্ঞান কুয়াশা কাটিয়ে চলতে বিঘ্নহীন পথ তৈরি করে দিতে পারে।