ওয়েব ডেস্ক ; ১৭ জুন : কেন্দ্রীয় আইন ও বিচার প্রতিমন্ত্রী অর্জুন রাম মেঘওয়াল আজ তিনটি ফৌজদারি আইন – ভারতীয় ন্যায় সংহিতা, ২০২৩, ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা, ২০২৩ এবং ভারতীয় সাক্ষ্য আইন, ২০২৩ আগামী মাসের শুরু থেকেই কার্যকর করার পক্ষে সওয়াল করেছেন। মানুষকে দ্রুত এবং ত্রুটিমুক্ত বিচার দিতে এই আইন তাড়াতাড়ি কার্যকর করা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
কলকাতায় আয়োজিত ‘ইন্ডিয়াজ প্রোগ্রেসিভ পাথ ইন দ্য অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অফ ক্রিমিনাল জাস্টিস সিস্টেম’ শীর্ষক এক আলোচনায় অংশ নিয়ে সম্প্রতি তিনি বলেন, এই তিনটি ফৌজদারি আইন পুরোপুরি ঔপনিবেশিক ভাবনা থেকে মুক্ত। তিনি বলেন, ব্রিটিশ শাসকরা তাদের নিজেদের প্রয়োজনেই আইন প্রণয়ন করেছিল এবং সাধারণ মানুষের কল্যাণের কথা ভাবেনি। মেঘওয়াল বলেন, এমন অনেক আইন রয়েছে যেগুলি ঔপনিবেশিক শাসনের সময় তৈরি হয়েছিল এবং সেগুলি আধুনিক ব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এ প্রসঙ্গে বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশে রূপান্তরিত হওয়ার লক্ষ্যে ভারতের দ্রুত অগ্রগতির কথা তিনি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, আধুনিক সময়ের প্রয়োজনের কথা মাথায় রেখেই ভারত সরকার তিনটি ফৌজদারি আইন প্রণয়ন করেছে। এই আইন নিয়ে বিভিন্ন মহলে যে অভিযোগ উঠেছে, তা খারিজ করে দিয়ে শ্রী মেঘওয়াল বলেন, সবক’টি রাজ্য / কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল, আইন প্রণয়নকারী বিভিন্ন সংস্থা এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মতামত বা পরামর্শ নিয়েই এই আইন তৈরি করা হয়েছে। তিনি জানান, আইন প্রণয়নের আগে চার বছর ধরে ১৮টি রাজ্য, ছ’টি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল, ভারতের প্রধান বিচারপতি, ১৬টি হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি, পাঁচটি আইন কলেজ, ২২টি বিশ্ববিদ্যালয়, ১৪২ জন সাংসদ, ২৭০ জন বিধায়ক এবং সাধারণ মানুষের মতামত নেওয়া হয়েছিল।
স্বাগত ভাষণে কেন্দ্রীয় আইন ও বিচার মন্ত্রকের সচিব ডঃ রাজীব মণি নতুন তিনটি ফৌজদারি আইনের নানা গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরেন। ভারতের আইন কমিশনের সদস্য সচিব ডঃ রীতা বশিষ্ঠ বক্তব্য রাখেন।
সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি টি এস শিবাজ্ঞানম বলেন, ১৫০ বছরের ঔপনিবেশিক শাসনে ব্রিটিশরা ভারতের মানুষের চাহিদা ও প্রয়োজনীয়তাকে উপেক্ষা করে নিজেদের স্বার্থে আইন তৈরি করেছিল। স্বাধীনতার পর গত ৮০ বছরে দেশ যখন প্রভূত অগ্রগতির পথে এগোচ্ছে, তখন আইন ও বিচার পিছিয়ে থাকতে পারে না।
এখানে উল্লেখ করা যেতে পারে যে, নতুন তিনটি আইনে রাষ্ট্রপতি সম্মতি দেওয়ার পর মানুষের মধ্যে সচেতনতা গড়ে তোলার লক্ষ্যে নতুন দিল্লি এবং গুয়াহাটিতে একই ধরনের দুটি সম্মেলনের আয়োজন করেছিল আইন বিষয়ক দপ্তর।
