শুভাবরি ওয়েব ডেস্ক, ১ জূলাই, কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গ সরকারের নতুন প্রকল্প “স্টুডেন্টস ক্রেডিট কার্ড” একটা সদর্থক বার্তা দেবে অবশ্যই। এর মাধ্যমে রাজ্য সরকার নির্বাচনের প্রাক্কালে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পালন করলেন। প্রকল্পটি খারাপ কি ভালো মূল্যায়নের আগে এটা দেখে ভালো লাগছে যে কোনো কোনো নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবের মুখও দেখে।

এবার আসি প্রকল্পের কথায়। যদিও এখনই মূল্যায়ন সম্ভব না। যতক্ষণ না এটা পূর্ণতা পাচ্ছে ততক্ষণ বলা যাবে না ভালো না খারাপ।
কোনো প্রকল্পই খারাপ হয় না, খারাপ হয় তার রূপায়ণ। এমনিতেই সরকারি ব্যাংক শিক্ষা ঋণ দিত এবং এই শিক্ষা ঋণ নিয়ে আজ অনেক মেধাবী ছাত্র সমাজে প্রতিষ্ঠিত। এটিও একটি দীর্ঘমেয়াদি ঋণ যার সময়সীমা ১৫ বছর। দীর্ঘমেয়াদি ঋণ সরকারি ব্যাংকই দেয়।

সরকারি ব্যাংক ইনফ্রাস্ট্রাকচার লেন্ডিং এর মাধ্যমে দেশের স্বর্ণ চতুর্ভূজ এর রাস্তা, ব্রিজ, টেলিকম, পাওয়ার সেক্টরকে সমৃদ্ধ করেছে। আবার এই ইনফ্রাস্ট্রাকচার লেন্ডিংই সরকারী ব্যাংকের ভরাডুবির কারণ। কিন্তু তা সত্ত্বেও ব্যাংক ভরাডুবি কাটিয়ে উঠেছে দক্ষতার সঙ্গে। এ ছাড়া দেশের প্রয়োজনে যখনই যে প্রকল্প এসেছে সরকারি ব্যাংক এগিয়ে এসে তাকে ফলপ্রসূ করেছে।

অতএব এই প্রকল্পের প্রতিও সরকারি ব্যাংকের সদর্থক ভূমিকা থাকবে। এক্ষেত্রে একটা অত্যন্ত প্রয়োজনীয় মন্তব্য এই যে ব্যাংকের ঋণ খারাপ হয় বা প্রকল্প খারাপ হয় কারণ, গ্রাহক চয়নে ব্যাংকের স্বাধীনতা খর্ব করে তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করে অন্যায্য ঋণ দিতে বাধ্য করা হয়। ব্যাংক কর্মচারীরা তাদের অভিজ্ঞতা দ্বারা ঠিক চিনে নেয় সঠিক গ্রাহককে। এই চাপ অনেক রকমের হতে পারে, রাজনৈতিক চাপ হতে পারে, উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের হতে পারে। এই ব্যাপার গুলো একটু খেয়াল রেখে সরকারি প্রকল্প রূপায়ণ সংস্থাকে নিরপেক্ষ ভাবে কাজ করতে হবে।

দ্বিতীয়ত, পাইয়ে দেওয়ার ব্যাপার যেন না থাকে।শুধু যারা সঠিক পড়াশোনা করে সঠিক জায়গায় থাকতে চাইবে, তাদেরকেই দেওয়ার স্বাধীনতা যেন থাকে। রাজ্য সমবায় ব্যাংকই হোক বা কেন্দ্রীয় সমবায় ব্যাংকই হোক বা অন্য সরকারি ব্যাংকই হোক, মানুষের টাকা যেন বিফলে না যায়। যুব সমাজ যেন অর্থের অপচয় না করে এটা দেখা সকলের কর্তব্য।

তৃতীয়ত, সরকারি ব্যাংক কর্মচারীরা তো সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়িত করার জন্য মুখিয়ে বসে আছে। কিন্তু তাদের প্রতি মুহূর্তে ভয় কেন দেখানো হচ্ছে যে বেচে দেবো, সংযুক্তিকরণ করে দেবো। নীতি আয়োগ যাই বলুক না কেন সরকার ও বিরোধীপক্ষ প্রতিবাদ করছে না কেন। সরকার তো আর নীতি আয়োগকে চালাতে হয় না। সরকারি ব্যাংক বেচে দিলে স্টুডেন্টস ক্রেডিট কার্ডের মতো অলাভজনক কাজ প্রাইভেট ব্যাংক করবে তো? উত্তর জানার অপেক্ষায় থাকলাম।