ওয়েব ডেস্ক; ১১ ডিসেম্বর : কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান ভার্চুয়াল মাধ্যমে স্মার্ট ইন্ডিয়া হ্যাকাথনের সপ্তম সংস্করণের উদ্বোধন করেছেন। উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ডঃ সুকান্ত মজুমদার, অল ইন্ডিয়া কাউন্সিল ফর টেকনিক্যাল এডুকেশন (এআইসিটিই)-এর চেয়ারম্যান ডঃ টিজি সীতারাম, ন্যাশনাল এডুকেশন টেকনোলজি ফোরাম এবং ইসিএনএএসি ও এনবিএ-র চেয়ারম্যান ডঃ অনীল সহস্রবুদ্ধে প্রমুখ।
আইআইটি খড়গপুর সহ ৫১টি কেন্দ্রে এই হ্যাকাথনের আয়োজন করা হয়েছে।
কেন্দ্রীয় সরকারের ৫৪টি মন্ত্রক, দপ্তর, রাজ্য সরকারগুলি, রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা ও শিল্পমহলের পক্ষ থেকে এবারের হ্যাকাথনে আড়াইশোটি সমস্যা পেশ করা হয়েছে। প্রাতিষ্ঠানিক স্তরে ৮৬ হাজারেরও বেশি দল এবং পড়ুয়াদের প্রায় ৪৯ হাজারটি দল (প্রতিটি দলে ৬ জন পড়ুয়া ও ২ জন মেন্টার) জাতীয় স্তরের হ্যাকাথনে অংশগ্রহণ করছে।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ১১ ডিসেম্বর ভার্চুয়াল মাধ্যমে স্মার্ট ইন্ডিয়া হ্যাকাথনের অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে কথা বলেন। তরুণ উদ্ভাবকদের উৎসাহ দিয়ে তিনি বলেন, বিভিন্ন সমস্যার এমন সৃজনশীল ও উদ্ভাবনী সমাধান বের করতে হবে, যাতে সারা বিশ্বের চোখ কপালে উঠে যায়। এই হ্যাকাথন বিকশিত ভারত ২০৪৭-এর লক্ষ্যে ভারতকে স্মার্ট পদক্ষেপ নিতে সাহায্য করবে বলে তিনি প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
প্রধানমন্ত্রীকে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান বলেন, স্মার্ট ইন্ডিয়া হ্যাকাথন এখন সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবনের কেন্দ্রস্থলে পরিণত হয়েছে। এখানে সারা দেশ থেকে ছাত্রছাত্রীরা এসে সমসাময়িক বিভিন্ন সমস্যার সমাধানে তাদের ধীশক্তি প্রয়োগ করছেন। ছাত্রছাত্রীদের বিকশিত ভারতের চালিকাশক্তি হিসেবে অভিহিত করে তিনি বলেন, তাদের উৎসাহ ও উদ্ভাবনী ক্ষমতা বিশ্বের বিভিন্ন জটিল সমস্যার সমাধান করতে সক্ষম। এই ছাত্রছাত্রীদের প্রতিভা, দূরদৃষ্টি, পরিশ্রম, নেতৃত্বদানের ক্ষমতা ও উদ্ভাবনী শক্তি দেশকে একবিংশ শতাব্দীতে এক জ্ঞান ভিত্তিক অর্থনীতি হয়ে ওঠার দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে বলে তিনি আশাপ্রকাশ করেন।
ডঃ সুকান্ত মজুমদার বলেন, স্মার্ট ইন্ডিয়া হ্যাকাথন বিভিন্ন চ্যালেঞ্জকে সুযোগে পরিণত করেছে। দেশের তরুণ প্রতিভা জাতি গঠনের কাজে নিয়োজিত হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে। হ্যাকাথনে মহিলাদের অংশগ্রহণের হার বৃদ্ধির উল্লেখ করে তিনি বলেন, অন্তর্ভুক্তিকরণের দিকে এ এক উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ। প্রতিটি দলেই অন্তত পক্ষে একজন করে মহিলা সদস্য রয়েছেন।
গত সংস্করণগুলির মতো এবারেও পড়ুয়াদের দলগুলি বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের প্রয়াস চালাবে। সমস্যাগুলিকে ১৭টি ক্ষেত্রে ভাগ করা হয়েছে। এগুলি হলো – স্বাস্থ্য পরিষেবা, সরবরাহশৃঙ্খল ও লজিস্টিকস, স্মার্ট প্রযুক্তি, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি, সুস্থিতি, শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়ন, জল, কৃষি ও খাদ্য, উদীয়মান প্রযুক্তি এবং বিপর্যয় মোকাবিলা। প্রাতিষ্ঠানিক স্তরে এবার অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে ১৫০ শতাংশ বৃদ্ধি লক্ষ করা গেছে।
পশ্চিমবঙ্গে আইআইটি খড়গপুরে মহাসমারোহে হ্যাকাথনের ভার্চুয়াল উদ্বোধন হয়েছে। প্রতিষ্ঠানের অধিকর্তা অধ্যাপক ভিকে তেওয়ারি ছাত্রছাত্রীদের বিভিন্ন সমস্যার স্মার্ট ও নজিরবিহীন সমাধান করতে উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, এইসব সমাধানের জাতীয় ও বিশ্বজনীন তাৎপর্য রয়েছে। ডিজিটাল ইন্ডিয়া, স্মার্ট সিটি, স্বাস্থ্য পরিষেবা, শিক্ষা, শক্তি, পরিবেশ, পরিবহণের মতো ক্ষেত্রে সমস্যার সমাধান স্মার্ট ও সুস্থিত ভবিষ্যৎ সুনিশ্চিত করবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
আইআইটি খড়গপুরের উপ অধিকর্তা অধ্যাপক ঋতু ব্যানার্জী, রেজিস্ট্রার ক্যাপ্টেন (অবসরপ্রাপ্ত) অমিত জৈন, অন্য অধ্যাপকরা, ছাত্রছাত্রী ও প্রাক্তন ছাত্রছাত্রীরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
হ্যাকাথনের সফটওয়ার সংস্করণ টানা ৩৬ ঘণ্টা ধরে চলবে। হার্ডওয়ার সংস্করণ চলবে ডিসেম্বরের ১১ থেকে ১৫ তারিখ পর্যন্ত।
