ওয়েব ডেস্ক; ১ আগস্ট: ভারত সরকারের নারী ও শিশু বিকাশ মন্ত্রক দেশ জুড়ে ১ থেকে ৭ আগস্ট পর্যন্ত ‘বিশ্ব স্তন্যপান সপ্তাহ ২০২৬’ পালন করবে। সপ্তাহব্যাপী এই প্রচার অভিযানের লক্ষ্য হল, পরিবার, সমাজ এবং স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীদের মধ্যে স্তন্যপান শুরুর সঠিক সময় (জন্মের পরপরই), প্রথম ছয় মাস শুধুমাত্র মায়ের দুধ খাওয়ানো এবং দুই বছর বা তার বেশি সময় ধরে উপযুক্ত পরিপূরক খাবারের পাশাপাশি স্তন্যপান চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে সচেতনতা গড়ে তোলা।
শিশুর বেঁচে থাকা, স্বাভাবিক বৃদ্ধি এবং মানসিক বিকাশের ক্ষেত্রে স্তন্যপান হল একটি অন্যতম কার্যকর পদক্ষেপ। মন্ত্রক পরিবারগুলির কাছে আহ্বান জানাচ্ছে, প্রত্যেক নবজাতক যেন জন্মের প্রথম এক ঘণ্টার মধ্যে মায়ের দুধ পায়। একে ‘গোল্ডেন আওয়ার’ বা ‘সোনালী সময়’ বলা হয়। প্রসবের পর মায়ের শরীর থেকে নিঃসৃত প্রথম দুধ বা ‘কোলোস্ট্রাম’ – অ্যান্টিবডি ও প্রয়োজনীয় পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ। একে শিশুর প্রথম প্রাকৃতিক টিকা বলা হয়ে থাকে। তাই এটি কোনওভাবেই ফেলে দেওয়া উচিত নয়।
প্রথম ছয় মাস শুধুমাত্র মায়ের দুধ খাওয়ানোর অর্থ হল, শিশুকে কেবল মায়ের দুধই দেওয়া।
এই সময়ে শিশুর পুষ্টি ও শরীরের জলের প্রয়োজনীয়তা মেটানোর জন্য মায়ের দুধই যথেষ্ট। ছয় মাস বয়সের পর পরিপূরক খাবার বা বাড়তি খাবার শুরু করা উচিত, তবে সেই সঙ্গে দুই বছর বা তার বেশি সময় পর্যন্ত স্তন্যপানও চালিয়ে যেতে হবে। মায়েদের উৎসাহিত করা হচ্ছে, তাঁরা যেন জন্মের পর শিশুর সাথে ‘স্কিন-টু-স্কিন’ বা শারীরিক স্পর্শ বজায় রাখেন। ঘন ঘন শিশুকে স্তন্যপান করান এবং প্রয়োজনে আশা কর্মী, অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী বা স্বাস্থ্য পরিষেবা প্রদানকারীদের কাছ থেকে পরামর্শ নেন। কর্মরত মায়েরা চাইলে মায়ের দুধ সংগ্রহ করে তা নিরাপদে সংরক্ষণ করতে পারেন। স্তন্যপানের ফলে মায়েরা নিজেও উপকৃত হন। এটি প্রসব-পরবর্তী শারীরিক সুস্থতায় সহায়তা করে এবং স্তন ও ডিম্বাশয়ের ক্যানসার, টাইপ-২ ডায়াবেটিস ও প্রসব-পরবর্তী অবসাদের ঝুঁকি কমায়।
মন্ত্রক স্বাস্থ্যসেবা পেশাজীবী, সমাজকর্মী, পরিবার এবং নাগরিকদের কাছে এমন একটি অনুকূল পরিবেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানাচ্ছে,
যেখানে প্রতিটি মা স্তন্যপান করানোর ক্ষেত্রে সক্ষমতা ও সহায়তা পাবেন এবং প্রতিটি শিশু জীবনের শুরুতে সর্বোত্তম যত্ন ও পুষ্টি লাভ করবে।
