ওয়েব ডেস্ক; ২৫ জুলাই : ০-৬ বছর বয়সী শিশুদের পুষ্টির মান উন্নয়নের লক্ষ্যে, নারী ও শিশু উন্নয়ন মন্ত্রক ‘মিশন সক্ষম অঙ্গনওয়াড়ি এবং পোষণ ২.০’ (মিশন পোষণ ২.০) চালু করেছে। এই মিশনের আওতায় অঙ্গনওয়াড়ি পরিষেবা, পোষণ অভিযান এবং কিশোরীদের (১৪-১৮ বছর বয়সী, বিশেষত উচ্চাকাঙ্ক্ষী জেলা এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বসবাসকারী) জন্য নির্দিষ্ট প্রকল্পগুলিকে একত্রিত করা হয়েছে। এটি একটি কেন্দ্রীয় সাহায্যপুষ্ট মিশন, যেখানে বিভিন্ন কর্মসূচির বাস্তবায়নের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলির ওপর ন্যস্ত। এই মিশনের সুবিধাপ্রাপকদের মধ্যে রয়েছে দেশের ৬ বছরের কম বয়সী শিশু, গর্ভবতী নারী, স্তন্যদায়িনী মা এবং কিশোরীরা (১৪-১৮ বছর বয়সী, উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্য ও উচ্চাকাঙ্ক্ষী জেলাগুলির)।

মিশন পোষণ ২.০-এর অধীনে নির্দিষ্ট সূচকগুলির ভিত্তিতে সমস্ত অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র, অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী এবং সুবিধাপ্রাপকদের কাজকর্ম পর্যবেক্ষণ করার জন্য মন্ত্রক ২০২১ সালের মার্চ মাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক হাতিয়ার হিসেবে ‘পোষণ ট্র্যাকার’ অ্যাপ্লিকেশন চালু করে। এর ফলে অঙ্গনওয়াড়ি পরিষেবার ক্ষেত্রে প্রায় তাৎক্ষণিক তথ্য সংগ্রহ করা সম্ভব হয়েছে, যেমন – অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র খোলা, শিশুদের দৈনিক উপস্থিতি, প্রারম্ভিক শৈশবকালীন পরিচর্যা ও শিক্ষা সংক্রান্ত কার্যকলাপ, শিশুদের শারীরিক বৃদ্ধি পর্যবেক্ষণ, এবং রান্না করা গরম খাবার ও বাড়ি নিয়ে যাওয়ার মত রেশন বিতরণ ইত্যাদি। পোষণ ট্র্যাকার অ্যাপ্লিকেশনটি বিভিন্ন মাপকাঠির ভিত্তিতে প্রকল্পের বাস্তবায়ন পর্যালোচনা করতে এবং প্রয়োজনে প্রয়োজনীয় সংশোধন বা পরিবর্তন আনতে সহায়তা করেছে। পরিষেবা প্রদানের ক্ষেত্রে চূড়ান্ত পর্যায়ে বা ‘লাস্ট মাইল’-এ সঠিক তদারকির জন্য, ‘টেক-হোম রেশন’ বিতরণের ক্ষেত্রে মুখমণ্ডল শনাক্তকরণ ব্যবস্থা পোষণ ট্র্যাকার অ্যাপে যুক্ত করা হয়েছে; এর উদ্দেশ্য হল, এই সুবিধা শুধুমাত্র পোষণ ট্র্যাকারে নথিভুক্ত প্রকৃত সুবিধাপ্রাপকরাই পাচ্ছেন, তা নিশ্চিত করা। পুষ্টি সংক্রান্ত সূচক, উপকৃত শিশু এবং শাহজাহানপুর নির্বাচনী এলাকা সহ সমস্ত রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে প্রকল্পের অগ্রগতির বিস্তারিত তথ্য পোষণ ট্র্যাকার ড্যাশবোর্ডে পাওয়া যাবে।

এই মিশনের আওতায়, ‘জাতীয় খাদ্য সুরক্ষা আইন, ২০১৩’-এর দ্বিতীয় তফসিলে উল্লিখিত পুষ্টির মানদণ্ড অনুযায়ী শিশু (৬ মাস থেকে ৬ বছর বয়সী), গর্ভবতী নারী, স্তন্যদানকারী মা এবং কিশোরীদের অতিরিক্ত পুষ্টি বা ‘সাপ্লিমেন্টারি নিউট্রিশন’ প্রদান করা হয়। ২০২৩ সালের জানুয়ারি মাসে এই মানদণ্ডগুলির সংশোধন করা হয়েছে। পুরনো নিয়মগুলি মূলত ক্যালোরি-কেন্দ্রিক ছিল; তবে সংশোধিত নিয়মগুলি অনেক বেশি ব্যাপক ও সুষম। এতে খাদ্যের বৈচিত্র্যের নীতির ওপর ভিত্তি করে অতিরিক্ত পুষ্টির পরিমাণ ও গুণমান – উভয়েরই খেয়াল রাখা হয়েছে, যাতে উন্নত মানের প্রোটিন, স্বাস্থ্যকর ফ্যাট এবং অতি-পুষ্টি উপাদান (যেমন—ক্যালসিয়াম, জিঙ্ক, আয়রন, ফোলেট, ভিটামিন-এ, ভিটামিন-বি৬ এবং ভিটামিন-বি১২) নিশ্চিত করা যায়। তীব্র অপুষ্টিতে আক্রান্ত শিশুদের ‘টেক-হোম রেশন’ বা বাড়ি নিয়ে যাওয়ার মতো অতিরিক্ত পুষ্টিকর খাবার দেওয়া হয়।

এই মিশনের অন্যতম প্রধান কার্যক্রম হল জনগোষ্ঠীকে সংগঠিত করা এবং সচেতনতা বৃদ্ধি। পুষ্টির বিষয়ে মানুষকে শিক্ষিত করা এর লক্ষ্য, কারণ ভালো পুষ্টির অভ্যাস গড়ে তোলার জন্য আচরণগত পরিবর্তনের ক্ষেত্রে ধারাবাহিক প্রচেষ্টার প্রয়োজন।

পুষ্টি সংক্রান্ত অভ্যাস পরিবর্তনের ক্ষেত্রে ‘কমিউনিটি-ভিত্তিক অনুষ্ঠান’ একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশল হিসেবে কাজ করেছে এবং সমস্ত অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীকে প্রতি মাসে দুটি করে এমন অনুষ্ঠানের আয়োজন করতে হয়।

লোকসভায় এক প্রশ্নের জবাবে নারী ও শিশু উন্নয়ন প্রতিমন্ত্রী সাবিত্রী ঠাকুর এই তথ্য প্রদান করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *