প্রথম ভারতীয় মহিলা হিসেবে কুস্তিগির অংশু মালিক সদ্য বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে রৌপ্য পদক পেয়ে ইতিহাস গড়েছেন। ২০ বছর বয়সী এই হরিয়ানা-তনয়া নতুন দিল্লিতে জাতীয় যুদ্ধ স্মারক ঘুরে দেখেছেন।

এই যুদ্ধ স্মারকটি বৃত্তাকারে গড়ে উঠেছে যেখানে অ্যাম্ফিথিয়েটারের মত এক বৃহৎ চক্রাকার অংশে সিঁড়িগুলি নিচের দিকে নেমে এসেছে। বৃত্তাকার এই কাঠামোর মাঝখানে ওবেলিক্স রয়েছে। আর এই ওবেলিক্সে চিরন্তন শিখা অমর চক্র প্রজ্জ্বলিত। ভারতের স্বাধীনতার লড়াইয়ে যে সমস্ত সেনানী প্রাণ বিসর্জন দিয়েছিলেন, তাঁদের স্মরণে এই চিরন্তন শিখা প্রজ্জ্বলিত রয়েছে।

জাতীয় যুদ্ধ স্মারক পরিদর্শন করে অংশু বলেছেন, জাতীয় স্তরে গুরুত্বপূর্ণ এই স্মৃতিসৌধ ঘুরে দেখে আমার এটা মনে হয়েছে যে, আমাদের দেশের গৌরবময় লড়াইয়ের ইতিহাস সম্পর্কে এখনও অনেক কিছু জানার রয়েছে। এই যুদ্ধ স্মারকের প্রতিটি ইঁটে ২৬ হাজারের বেশি আত্মবলিদানকারী সৈনিকের নাম খোদাই করা আছে। যুদ্ধ স্মারকের ত্যাগ চক্রে প্রতিটি ইঁটে খোদাই করা সেই সমস্ত সৈনিকদের নাম আজ যেন দেশের প্রতিরক্ষা কবজের মজবুত ভিত্তি হয়ে উঠেছে। তিনি আরও বলেন, অমর চক্রের শাশ্বত শিখার মত প্রত্যেক শহীদ ও তাঁদের সাহসীকতার কাহিনী সব ভারতীয়ের মনে অমর হয়ে থাকবে। যুদ্ধ স্মারক পরিদর্শন করে ডোগরা রেজিমেন্টের ক্যাপ্টেন পবন কুমারকে শ্রদ্ধা জানান অংশু। প্রকৃতপক্ষে ক্যাপ্টেন পবন কুমার ও কুস্তিগির অংশু- দুজনেই হরিয়ানার জিন্দ থেকে উঠে এসেছেন। অংশু বলেন, জাতীয় যুদ্ধ স্মারক ঘুরে দেখা এক অনন্য অভিজ্ঞতা। ভারতের ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে আমি প্রত্যেক ভারতীয়কে এই স্মারক ঘুরে দেখার অনুরোধ জানাই। “একজন সাধারণ মানুষ যখন এরকম স্মারক ঘুরে দেখেন, তখন দেশের লড়াইয়ের ইতিহাস সম্পর্কে যেমন অবগত হন, তেমনই সেনাবাহিনীর প্রতি গর্ববোধ করেন।” জাতীয় যুদ্ধ স্মারক ঘুরে দেখার সময় যে সেনা আধিকারিক অংশুর সঙ্গে ছিলেন, তিনি একথা বলেন।