ডিজিটাল ডেস্ক; ১৩ ফেব্রুয়ারি: ভারতীয় বিজ্ঞানীরা স্বাভাবিক তাপমাত্রা ও বায়ু চাপে মিথানল-জলের মিশ্রণ থেকে জলের তড়িৎ বিশ্লেষণ করে ৯৯.৯৯ শতাংশ বিশুদ্ধ হাইড্রোজেন উৎপাদনের একটি পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছেন। জীবাশ্ম জ্বালানী ভান্ডার ক্রমশ কমতে থাকায় এর বিকল্প হিসাবে হাইড্রোজেন ব্যবহার করা নিয়ে নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। পেট্রোল, ডিজেল, তরল পেট্রোলিয়াম গ্যাসের মতো বিভিন্ন রাসায়নিক জ্বালানী থেকে প্রতি কেজিতে ঘণ্টায় ১২-১৪ কিলোওয়াট জ্বালানী উৎপাদিত হয়। সেখানে প্রতি কেজি হাইড্রোজেন থেকে ঘণ্টায় ৪০ কিলোওয়াট জ্বালানী উৎপাদন হতে পারে। জলের মধ্যে প্রচুর পরিমাণে হাইড্রোজেন থাকায় এটি ব্যয় সাশ্রয়ী। এছাড়াও, প্রাকৃতিক গ্যাস, পেট্রোলিয়াম ও বায়োমাস থেকেও হাইড্রোজেন উৎপাদন করা সম্ভব। ভারতে স্বচ্ছ জ্বালানীর জন্য পরিবেশ-বান্ধব হাইড্রোজেন ব্যবহারের উপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এক্ষেত্রে সুসংহতভাবে জলকে তড়িৎ বিশ্লেষণ করে হাইড্রোজেন উৎপাদনের জন্য নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে।
কেন্দ্রীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি দপ্তরের স্বায়ত্ত্ব শাসিত সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল অ্যাডভান্সড্ রিসার্চ সেন্টার ফর পাওয়ার মেটালার্জি অ্যান্ড নিউ মেটেরিয়ালস্ বা এআরসিআই – এর বিজ্ঞানীরা নতুন একটি পন্থা উদ্ভাবন করেছেন। এখানে স্বাভাবিক তাপমাত্রা ও বায়ুর চাপে তড়িৎ বিশ্লেষণের পাশাপাশি, বৈদ্যুতিক রাসায়নিক পদ্ধতিতে মিথানল পুনর্গঠন করে হাইড্রোজেন উৎপাদন করা হচ্ছে। এই পদ্ধতির সুবিধাজনক দিক হ’ল – এক-তৃতীয়াংশ জলের তড়িৎ বিশ্লেষণ করলেই হাইড্রোজেন উৎপাদন করা সম্ভব হচ্ছে। সাধারণভাবে, ৫৫-৬৫ কিলোওয়াট ঘণ্টা/কেজি হাইড্রোজেনের সাহায্যে জলের তড়িৎ বিশ্লেষণ করা হয়। এআরসিআই ইতিমধ্যেই এই প্রযুক্তির পেটেন্ট পেয়েছে। এই পদ্ধতি প্রয়োগ করলে অনেক কম খরচে হাইড্রোজেন উৎপাদন করা সম্ভব। উৎপাদিত হাইড্রোজেন পুনর্নবীকরণযোগ্য জ্বালানী তৈরির কাজে ব্যবহার করা হয়।
