ডিজিটাল ডেস্ক; ১৩ ফেব্রুয়ারি: সম্প্রতি একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে, জলীয় বাস্প বায়ুমণ্ডলের শীর্ষ স্তরে একটি ইতিবাচক বিকিরণকারী প্রভাব তৈরি করে। এর কারণে হিমালয় পর্বতমালার উচ্চ এলাকায় সামগ্রিক উষ্ণতা বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। প্রক্ষেপণযোগ্য জ্বলীয় বাস্প বায়ুমণ্ডলের সবচেয়ে দ্রুত পরিবর্তনশীল উপাদানগুলির মধ্যে একটি। এধরণের জলীয় বাস্প প্রধানত নিম্ন ট্রপোস্ফিয়ার বা বায়ুমণ্ডলের একেবারে নিম্নস্তরে জমা হয়। হিমালয় অঞ্চলে স্থান ও সময়ের পরিবর্তনশীলতা, বিভিন্ন মিশ্রণ প্রক্রিয়া এবং ভিন্নধর্মী রাসায়নিক বিক্রিয়ার কারণে স্থান ও সময়ের ওপর প্রক্ষেপণযোগ্য জলীয় বাস্পের দরুণ জলবায়ুর প্রভাব সঠিক ভাবে নির্ণয় করা কঠিন। এছাড়াও হিমালয় অঞ্চলে অ্যারোসল, মেঘ, বর্ষণ প্রভৃতি খুব কম উপলব্ধি করা যায়। অবশ্য, হিমালয় অঞ্চলে এধরণের পরিবেশ পর্যবেক্ষণ করার খুব একটা অবকাশ নেই।

কেন্দ্রীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি দপ্তরের স্বশাসিত গবেষণামূলক প্রতিষ্ঠান নৈনিতালের আর্যভট্ট রিসার্চ ইন্সটিটিউট অফ অবজারভেশনাল সায়েন্সেস-এর ডঃ উমেশ চন্দ্র দুমকার নেতৃত্বে একটি গবেষক দল সম্প্রতি আবিস্কার করেছেন যে, প্রক্ষেপণযোগ্য জলীয় বাস্প নৈনিতালে প্রতি বর্গমিটারে প্রায় ১০ ওয়াট ক্রমানুসারে উচ্চ দূরবর্তী স্থানের বায়ুমন্ডলে ইতিবাচক বিকিরণকারী প্রভাব ফেলে। এই গবেষণায় গ্রীস, জাপান, জার্মানি এবং বেঙ্গালুরুর একটি প্রতিষ্ঠান সহায়তা করেছে। গবেষক দলের এই উদ্ভাবন জার্নাল অফ অ্যাটমোস্ফিয়ারিক পলিউশন রিসার্চে প্রকাশিত হয়েছে।

গবেষকরা হিমালয় অঞ্চলে অ্যারোসল এবং জলীয় বাস্পের বিকিরণকারী প্রভাবগুলির সংমিশ্রণ মূল্যায়ণ করেছেন। এধরণের মূল্যায়ণ আঞ্চলিক জলবায়ুর ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। হিমালয় অঞ্চলে গ্রীণ হাউস গ্যাস এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মূল্যায়ণে এই গবেষণা সুদূরপ্রসারি ভূমিকা নিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।