ডিজিটাল ডেস্ক; ১৮ ফেব্রুয়ারি: গত ১৬ ফেব্রুয়ারী ICP পেট্রাপোল , ১৭৯ ব্যাটালিয়নের কর্মীরা দুটি ভারতীয় ট্রাক থেকে প্রচুর পরিমাণে ওষুধ উদ্ধার করেছে, যেগুলো রপ্তানি পণ্য রেখে বাংলাদেশ থেকে (বেনপোল) ভারতে ফেরত আসছিল।
১৭৯ ব্যাটালিয়ন, সেক্টর কলকাতার সৈন্যরা আইসিপি পেট্রাপোলের ভিতরে একটি বিশেষ যানবাহন চেকিং অপারেশন পরিচালনা করে। অনুসন্ধান দল দুটি সন্দেহজনক ট্রাক আইসিপি প্রধান গেটের কাছে রপ্তানি কার্গো ছেড়ে বাংলাদেশ (বেনপোল) থেকে ভারতে ফেরার পথে থামায়। বিএসএফ-এর গেজেটেড কর্মকর্তা, কোম্পানি কমান্ডার ও অন্যান্য স্বতন্ত্র প্রত্যক্ষদর্শীদের উপস্থিতিতে চালকসহ ট্রাকটি তল্লাশি করা হয়। তল্লাশিকালে ট্রাকের ভেতর থেকে তেরপলে মোড়ানো তিনটি প্যাকেট পাওয়া যায়। প্যাকেটগুলো খুললে ফুসফুসের ক্যান্সার ও ব্লাড ক্যান্সারের জন্য প্রচুর পরিমাণে Osicent 80 (Osicent-80) এবং Lukivenet 100 (Lukivenet-100) ওষুধ উদ্ধার করা হয়। জব্দকৃত ওষুধ এবং উভয় ট্রাকের মোট মূল্য আনুমানিক ২৮,২৭,৪১০/- টাকা। উভয় ট্রাকই সীমান্ত নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা বাজেয়াপ্ত করেছে এবং তাদের চালক ও হেলপারকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
আটক ট্রাকের চালক ও হেলপার নিজেদের পরিচয় দিয়েছে
i) ভদ্র দাস, বয়স ৫৪ বছর,
ii) শুভ্রনীল ঘোষ, বয়স – ৩১ বছর,
iii) আনসার আলী মন্ডল, বয়স – ৩১ বছর,
সকলে এরাজ্যের বাসিন্দা বলে জানা গেছে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ভদ্র দাস ও শুভ্রনীল ঘোষ জানায়, তারা দুজনই ভারতীয় নাগরিক।২০২২ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি তার হেলপার শুভ্রনীল ঘোষের সঙ্গে রপ্তানি পণ্য (পেইন্ট ও রাবার) নিয়ে বাংলাদেশে যায়। সে আরও জানায়, গত ১৬ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে (বেনপোল) পণ্য খালাস করে ভারতে ফেরার সময় আইসিপির প্রধান ফটকের কাছে যানবাহন তল্লাশির সময় বিএসএফ তাকে ওই তিনটি প্যাকেটসহ আটক করে। তার ট্রাকের টারপলিনে রাখা এই সমস্ত প্যাকেট কে তার ট্রাকের ভিতরে লুকিয়ে রেখেছে সে সম্পর্কেও সে সচেতন ছিল না।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে, আরেক চালক আনসার আলী মন্ডলও নিজেকে একজন ভারতীয় নাগরিক বলে পরিচয় দিয়েছে, যে বনগাঁর স্থায়ী বাসিন্দা এবং গত এক মাস ধরে ট্রাক চালক হিসেবে কাজ করছে। সে আরও জানায়, বনগাঁয় আকবর নামে এক ব্যক্তি, যে ভুয়া ড্রাইভিং লাইসেন্স তৈরির কাজ করে, তার সহায়তায় ৩৬০০/- টাকার বিনিময়ে একটি জাল ড্রাইভিং লাইসেন্স পেয়েছিল। তারপর সে রাজু নামে অন্য একজনের সাথে যোগাযোগ করে, যে ট্রান্সপোর্ট কে ট্রাক চালক সরবরাহ করে। ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২২ তারিখে, সে CWC পার্কিং এরিয়া (ICP পেট্রাপোল) থেকে একটি ট্রাক নিয়ে বাংলাদেশে (বেনপোল) যায় এবং ১৬ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে (বেনপোল) পণ্য আনলোড করার পর ভারতে ফিরে যাচ্ছিল, তখন ICP বেনপোল (বাংলাদেশ) এ সুনীল নামে এক ব্যক্তি তাকে এসব ওষুধের প্যাকেট দিয়েছিল। যা ভারতে ভুট্টো নামে এক ব্যক্তিকে দেওয়ার কথা ছিল, যার জন্য তার ১০০০/- টাকা পাওয়ার কথা ছিল কিন্তু আইসিপি প্রধান ফটকের কাছে যানবাহন চেকিংয়ের সময় বিএসএফ তাকে প্যাকেটসহ ধরে ফেলে।
বিএসএফের প্রাথমিক তদন্তে প্রয়োজনীয় সব নথি জাল পাওয়া গেছে।
বিএসএফ উভয় ট্রাকের বিবরণ পরীক্ষা করে দেখেছে যে ভদ্র দাসের ড্রাইভিং লাইসেন্সের মেয়াদ অনেক আগেই শেষ হয়ে গেছে এবং অন্য ট্রাক চালক আনসার আলী মন্ডলের ড্রাইভিং লাইসেন্সও জাল ছিল। দুটি ট্রাকের প্রয়োজনীয় সমস্ত কাগজপত্রর মেয়াদ অনেক আগেই শেষ হয়ে গেছে। তাই তদন্তে তাদের প্রতিটি কাজই জাল ধরা পড়ে। এভাবে গাড়ির মালিক এবং ট্রাক চালকের দ্বারা কেন্দ্রীয় মোটরযান বিধির সম্পূর্ণ লঙ্ঘন হয়েছে।
আটককৃত উভয় ট্রাকের চালক, হেলপারসহ জব্দকৃত মালামাল পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার জন্য পুলিশ স্টেশন পেট্রাপোলে হস্তান্তর করা হয়েছে।
সাউথ বেঙ্গল ফ্রন্টিয়ারের জনসংযোগ কর্মকর্তা জানান, কাস্টমস কর্মকর্তাদের ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়েছে। বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স এবং অন্যান্য স্টেকহোল্ডার সংস্থা পেট্রাপোলে আমদানি-রপ্তানি যানবাহন এবং যাত্রীদের ব্যক্তিগত জিনিসপত্রের আড়ালে চোরাচালান রোধে সম্পূর্ণভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আইসিপি পেট্রাপোলের মাধ্যমে আন্তঃসীমান্ত অপরাধ সংঘটিত করার গোপন উদ্দেশ্য থাকা দুর্বৃত্তদের উপর BSF কর্মীরা ক্রমাগত নজর রাখছে। তিনি আরও বলেন, আমরা চোরাকারবারীদের প্রতিটি অপচেষ্টা নস্যাৎ করে যাব।
