ডিজিটাল ডেস্ক; ১৯ ফেব্রুয়ারি: এক শ্রেণীর সংবাদ মাধ্যমে যকৃৎ বিকল হওয়ার সঙ্গে গুদুচির সম্পর্ক রয়েছে বলে ভুল তথ্য প্রচারিত হয়েছে। আয়ুষ মন্ত্রকের পক্ষ থেকে সুস্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, গিলয়/গুদুচি সম্পূর্ণ নিরাপদ এবং প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গুদুচির কোনও বিষাক্ত প্রতিক্রিয়া হয় না।

আয়ুর্বেদে এটা বলা হয়ে থাকে যে, গুদুচি এক সঞ্জিবনী ঔষধি। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, গুদুচি থেকে যে জলীয় পদার্থ নির্গত হয় – তার কোনও বিষাক্ত প্রভাব নেই। অবশ্য, যে কোনও ওষুধের ক্ষেত্রে সুরক্ষার বিষয়টি নির্ভর করে কিভাবে সেই ওষুধ ব্যবহার করা হচ্ছে, তার উপর। এক শ্রেণীর ওষুধের ক্ষেত্রে ডোজের বিষয়টিও সুরক্ষার সঙ্গে যুক্ত। এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, গুদুচি পাউডার স্বল্প পরিমাণ ব্যবহার করলে ফলের মাছি জীবনচক্রের মেয়াদ বৃদ্ধি পায়। একইভাবে, বেশি পরিমাণ এই পাউডার ব্যবহার করলে তা মাছির জীবনচক্রের মেয়াদ কমিয়ে দেয়। এ থেকে প্রমাণিত হয়, নির্দিষ্ট পরিমাণে ওষুধ বা ডোজ সেবন করলে তা থেকে প্রত্যাশিত ফল মেলে। বিভিন্ন ধরনের অসুস্থতার উপশমে গুদুচি ভেষজ ওষুধগুলির মধ্যে একটি। তাই, অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, অ্যান্টি-হাইপারলিপিডেমিক, কার্ডিও ভাসকুলার, নিউরোপ্রোটেক্টিভ, অস্টিওপ্রোটেক্টিভ, অ্যান্টি-অ্যাংজাইটি, অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি, অ্যান্টি-ডায়েরিয়া, অ্যান্টি-আলসার এমনকি অ্যান্টি-ক্যান্সারের মতো ক্ষেত্রে গুদুচির সঠিক ব্যবহারে উপযুক্ত উপশমের প্রমাণ মিলেছে।

বিভিন্ন ধরনের পেটের সমস্যার উপশমে এবং রোগ-প্রতিরোধক ক্ষমতা বাড়াতে গুদুচির কার্যকরিতা খতিয়ে দেখা হয়েছে। আয়ুর্বেদিক এই ওষুধটির সুনির্দিষ্ট পরিমাণ ব্যবহার মানব জীবৎকালের মেয়াদ বাড়াতেও সাহায্য করে। কোভিড-১৯ প্রতিরোধেও আয়ুর্বেদিক এই ওষুধটির ব্যবহার হয়েছে এবং ভালো ফল মিলেছে। তাই, স্বাস্থ্যের উপকারিতার দিক থেকে গুদুচিকে কখনই বিষাক্ত বলে দাবি করা যায় না।
তথ্য : পি আই বি