ডিজিটাল:
ভারতীয় চিত্রশিল্পের পরিকল্পনার নানা কারুকার্য অলঙ্করণই অধিক দেখা যায়। লতাগুল্ম, পুষ্প পল্লব, জীবজন্তু, নরনারী ও পক্ষী এই সমস্ত রূপ ছান্দিকছন্দে চিত্রিত করা হতো। হস্তী, কলমবনে মরালের সঙ্গে চিত্ররচনা করেছেন।
ভারতীয় চিত্র শিল্পীরা ছান্দিক রীতির দ্বারা অলঙ্করণগুলি জ্যামিতিক ত্রিভুজ, বৃত্ত, স্বাত্বিক প্রভৃতির যেমন অলঙ্করণ যুক্ত হয়েছে তেমনিভাবে একটি হস্তী আলঙ্কারিক চক্রাকারে পদ্মকে পুনরাবৃত্তি করে অলঙ্করন করা হয়েছে। ভারতীয় চিত্রকলা ও প্রস্তরচিত্রে এই রীতির প্রচলন দেখা যায়। চিত্রের মধ্য
বেষ্টনী দিয়ে আলঙ্কারিত রীতিতে কাজ করার ফ্রেমের মত বেষ্টনী মনে হয়।
ভারতীয় চিত্রকলায় আর একটি বৈশিষ্ট্য ভারতীয় যোগীদের হস্তমুদ্রা, এক অদ্ভূত সৃষ্টি, চক্ষু, ললাট, ভ্রু, নাসিকা প্রভৃতির মাধ্যমে ভাবপ্রকাশের কথা ছাড়া আঙ্গুলের বিবিধ ছান্দিক বিন্যাসের দ্বারা ভাবপ্রকাশের কলাকৌশল উহা ভারতীয় নিজস্ব সৃষ্টি। দেহ ছন্দের সঙ্গে নানাপ্রকার বাক্যলাপের সময় হস্তের ভিন্নমুদ্রাপ্রয়োগে শিল্পীর রূপে পরিচয় দিয়েছেন। ভারতীয় যৌগির ভঙ্গীমার প্রয়োগ ভারতীয় শিল্পরীতির বৈশিষ্ট্যদান করেছেন। যৌগিকমুদ্রার দ্বারা ধর্মানুষ্ঠানে দেবতাকে আবাহন, স্থাপন, অঞ্জলিপ্রদান, ভোগনিবেদন, প্রাণপ্রতিষ্ঠা, বিসর্জন প্রভৃতি ক্রিয়াসম্পন্ন করে, অঙ্কুশ মুদ্রায় যোনিমুদ্রা, অমৃতকরণী মুদ্রা, কর্ম মুদ্রা, মৎস্যমুদ্রা, গালিনী মুদ্রা প্রভৃতি প্রয়োগের দ্বারা ভারতীয় চিত্রের বৈশিষ্ট্য ফুটে উঠেছে। ভারতীয় চিত্র শিল্পের ছয়টি রূপ—(১) রূপ (২) প্রভেদ (৩) ভাব (৪) লাবন্য (৫) সাদৃশ্য (৬) বণিকা ভেদ।
তথ্য: চিত্র ভূষণ
