ডিজিটাল; ২৪ মে: দক্ষিণ বেঙ্গল ফ্রন্টিয়ার (বিএসএফ) এর অধীন, কলকাতা সেক্টরের জওয়ানরা তাদের সীমান্ত এলাকা থেকে দুটি আলাদা আলাদা ঘটনায় ৭৪ টি সোনার বিস্কুট এবং ৩ টি সোনার বার সহ দুই ভারতীয় চোরাকারবারীকে গ্রেপ্তার করে।

আটক সোনার মোট ওজন ১১.৬২০ কেজি এবং এর আনুমানিক মূল্য ৬,১৫,১৮,১৫২/- টাকা। বিএসএফ জওয়ানদের ফাঁকি দিয়ে চোরাকারবারীরা বাংলাদেশ থেকে এই সোনার বিস্কুট ভারতে নিয়ে আসার চেষ্টা করছিল।

প্রথম ঘটনায়, গত ২৩ মে বিশ্বস্ত সূত্র থেকে পাওয়া খবরের ভিত্তিতে, আইসিপি পেট্রাপোলে গাড়ি চেকিংয়ের সময় ১৭৯ ব্যাটালিয়নের জওয়ানরা বাংলাদেশ (বেনাপোল) থেকে রপ্তানি পণ্য ছেড়ে ভারতে ফিরে আসা একটি সন্দেহজনক ট্রাক ICP পেট্রাপোলের প্যাসেঞ্জার গেটের কাছে আটকায়। তল্লাশির সময় ট্রাকের কেবিনের ভেতর থেকে চালকের সিটের পেছনে কালো কাপড়ে মোড়ানো একটি বড় প্যাকেট পাওয়া যায়। প্যাকেট খুললে ৭০টি সোনার বিস্কুট ও তিনটি সোনার বার উদ্ধার করা হয়। আটক করা সোনার বিস্কুট, সোনার বার এবং ট্রাকের মোট মূল্য আনুমানিক ৫,৯৮,৫৪,১৬৫/- টাকা। বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্সের জওয়ানরা শীঘ্রই সমস্ত সোনার বিস্কুট, সোনার বার এবং ট্রাক বাজেয়াপ্ত করেছে এবং ট্রাক চালককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নিয়েছে।
গ্রেফতারকৃত ট্রাক চালকের নাম রাজ মন্ডল (২৬) জেলা – উত্তর ২৪ পরগনা ।

বিএসএফ সূত্রে খবর , প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রাজ মণ্ডল জানায়, স্থায়ীভাবে বনগাঁয় বাস করে। সে ট্রাক চালক হিসেবে কাজ করে এবং নিয়মিত রপ্তানি পণ্য নিয়ে বাংলাদেশে (বেনাপোল) যায় । ওই দিন সে বাংলাদেশ থেকে খালি ট্রাক নিয়ে আসছিল, এমন সময় সাহাবুদ্দিন মন্ডল (গ্রাম-খালিতপুর বনগাঁ) নামে এক ভারতীয় তার সঙ্গে যোগাযোগ করে জানান, পিন্টু (হালদারপাড়া, বনগাঁ) নামে এক ব্যক্তি তাকে একটি প্যাকেট দেবে। সেটি নিয়ে ভারতে এসে বনগাঁ-চাকদা সড়কে অবস্থিত শেফালী ট্রাক পার্কিং-এ পৌঁছে দিতে হবে। এরপর সে প্যাকেটটি নিয়ে কেবিনে রাখলে ভারতে ফেরার সময় আইসিপির প্রধান ফটকের কাছে যানবাহন চেকিংয়ের সময় বিএসএফ তাকে প্যাকেটসহ ধরে ফেলে। সে আরও জানায় যে এই কাজের জন্য সে সাহাবুদ্দিন মন্ডলের কাছ থেকে ১০,০০০/- টাকা পেত।

অন্য একটি ঘটনায়, একই দিনে বর্ডার চৌকি জয়ন্তীপুর, ১৫৮ ব্যাটালিয়নের কর্মীরা রুটিন চেকিংয়ের সময় একটি সন্দেহভাজন মোটরসাইকেল আরোহীকে তল্লাশির জন্য থামায়, তারপরে তালাশি করলে চোরাকারবারীর মোটরসাইকেলের সিটের নীচে কালো রঙের পোশাকে মোড়ানো অবস্থায় ৪ টি সোনার বিস্কুট উদ্ধার করে। যার ওজন ৪৬৬.৬২ গ্রাম। মারুব মন্ডল (৩৬) জেলা উত্তর ২৪ পরগনা একজনকে আটক করা হয়েছে।

সূত্রের খবর জিজ্ঞাসাবাদে, লোকটি জানায় যে সে একজন ভারতীয় নাগরিক এবং সীমান্তের বেড়ার ওপারে নিজের বাড়িতে থাকে। ওই ব্যক্তি জানায় যে সে স্বর্ণ চোরাচালানের কাজ করে, সে বাবলু মণ্ডল (গ্রাম সাদিকপুর, পোস্ট অফিস-বেনাপোল, জেলা-যশোর, বাংলাদেশ) থেকে এই সামগ্রী নিয়েছিল। ওই ব্যক্তি বলেন, বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্সের ডিউটি ​​পয়েন্ট পার হওয়ার পর এই সোনা হাফিজুল শেখ (পিতা আনসার শেখ, গ্রাম জয়ন্তীপুর, থানা পেট্রাপোল, জেলা উত্তর ২৪ পরগনা) এর কাছে হস্তান্তর করার কথা ছিল। গ্রেফতারকৃতরা কয়েকজন বড় চোরাকারবারীর নামও ফাঁস করেছে, যাদের নাম গয়াসুদ্দিন মন্ডল, সালাহউদ্দিন শেখ, মহিউদ্দিন শেখ, তারা সবাই জয়ন্তীপুর গ্রামের বাসিন্দা। তাদের সবাই তার কাঁটার ওপারে বসবাস করে।

আটক ব্যক্তিদেরকে উদ্ধার করা সোনা সহ কাস্টম অফিস পেট্রাপোলে হস্তান্তর করা হয়েছে।

পাচারের পথ ছেড়ে মূল স্রোতে যোগ দিন: জনসংযোগ কর্মকর্তা

দক্ষিণবঙ্গ ফ্রন্টিয়ারের জনসংযোগ আধিকারিক এবং সিনিয়র ডিআইজি সুরজিত সিং গুলেরিয়া জওয়ানদের কৃতিত্বে আনন্দ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, বিএসএফ চোরাকারবারিদের প্রতিটি ন্যাক্কারজনক কর্মকাণ্ডে জাল লাগিয়েছে। ডিআইজি চোরাকারবারিদের পরামর্শ দিয়েছেন, বাকি চোরাকারবারিরা যেন চোরাচালানের পথ ছেড়ে মূল স্রোতে যোগ দেয়, অন্যথায় কোনো অসৎ উদ্দেশ্য রাখা ব্যাক্তি কে রেহাই দেওয়া হবে না। অফিসার স্পষ্ট করে বলেন, তার সৈন্যদের চোখ থেকে কিছুই লুকানো যাবে না। তিনি আরো বলেন, চোরাচালান সংক্রান্ত সঠিক তথ্য প্রদানের জন্য তার একটি চমৎকার টিম রয়েছে, যারা সীমান্ত এলাকায় সংঘটিত অপরাধমূলক কর্মকান্ডের উপর কড়া নজর রাখে।