দেবাঞ্জন দাস; ডিজিটাল; ১৯ জুলাই: সংসদে চলতি বাদল অধিবেশন কিংবা তারপরে সংসদে সরকারি ব্যাংক বেসরকারিকরণের জন্য প্রস্তাব আনতে পারে কেন্দ্রীয় সরকার এমনই আশঙ্কা করছেন অল ইন্ডিয়া ন্যাশনালাইজ ব্যাংক অফিসার্স ফেডারেশন সহ বহু ব্যাঙ্ক সংগঠন। ১৯ জুলাই ব্যাংক জাতীয়করণের 53 বর্ষপূর্তি তার সাথে ব্যাংক বিজাতীয়করণের প্রচেষ্টা শুরু করেছে কেন্দ্রীয় সরকার এমনই মন্তব্য করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জয় দাস।

ব্যাঙ্ক বেসরকারিকরণের বিরুদ্ধে এবং জাতীয়করণের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে অল ইন্ডিয়া ন্যাশনালাইজ ব্যাঙ্ক অফিসার্স ফেডারেশন এক সাংবাদিক সম্মেলন করে। সাধারণ সম্পাদক সঞ্জয় দাস বলেন, ‘ ব্যাংক জাতীয়করণ দেশের সামগ্রিক উন্নতির জন্য সকল দেশবাসীর জন্য, কল্যাণের। দেশে বেশিরভাগ জনসাধারণ ই সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ এবং তারা নিজেদের অর্থ সঞ্চিত রাখে সরকারি ব্যাংকে । ব্যাংক জাতীয়করণের পর একটি জাতীয় ব্যাংক সমস্যার সম্মুখীন হয়নি উল্টোদিকে ১৯৯১ সালের পর থেকে আজ পর্যন্ত ৩৮ টি বেসরকারি ব্যাংক বন্ধ হয়েছে’ ।


তিনি যোগ করেন যে আমাদের লড়াই সরকারের বিরুদ্ধে নয় সরকারের অর্থনীতির বিরুদ্ধে।
তিনি অভিযোগ করেন, ব্যাঙ্কে স্থায়ী পদে কর্মী নিয়োগ না করে , কম বেতনে অস্থায়ী কর্মী নিয়োগ চলছে। বর্তমানে সরকারি ব্যাংকগুলো মুনাফা করলেও সরকার বেসরকারি হাতে ব্যাংক তুলে দেওয়ার চেষ্টা করছে।

উল্লেখ্য, সারা দেশ জুড়ে তাদের সংগঠন প্রতিরোধ গড়ে তুলছেন। দেশের বাকি সংগঠনগুলি এই কর্মকাণ্ডে তাদের সাথে হাতে হাত মিলিয়েছেন বলে জানান তারা।

সঞ্জয় বাবু বলেন, বর্তমানে সারা দেশ জুড়ে ১ লক্ষ ৪১ হাজার সরকারি ব্যাংক শাখা রয়েছে। ব্যাংক সংযুক্তি করণের ফলে সরকারি ব্যাংকের সংখ্যা ২৭ থেকে ১২ তে এসে পৌঁছেছে। ব্যাংকে যদি এইভাবে বেসরকারি করন হয়ে যায় তাহলে সাধারণ মানুষের টাকা কোনোভাবেই সুরক্ষিত থাকবে না।
বিগত দিনে বহুবার এই বেসরকারিকরণ এবং কেন্দ্রীয় সরকারের ব্যাংকের বিভিন্ন নীতির বিরুদ্ধে তাদের সংগঠন প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে এবং সোচ্চার হয়েছে তার ফলে কি কি ইতিবাচক প্রতিফলন পেয়েছেন সেই বিষয়ে প্রশ্ন করলে সঞ্জয়বাবু বলেন আমাদের সম্পদ হলো ব্যাংকের গ্রাহক। আমরা গ্রামেগঞ্জে বিভিন্ন প্রত্যন্ত অঞ্চলে এই বিষয় নিয়ে প্রচার করেছি এবং করছি; তার ফলস্বরূপ আমরা সাধারণ মানুষ এবং ব্যাংকের বহু গ্রাহকের কাছ থেকে সমর্থন পেয়েছি। সরকারের কাছ থেকেও আমরা কিছু ইতিবাচক পদক্ষেপ এর ইঙ্গিত এখনও পাইনি।
রাজ্যের স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ড নিয়ে প্রশ্ন করলে সঞ্জয় বাবুর বক্তব্য, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ডের কথা ঘোষণা করেছেন এবং সেই প্রকল্প চালু করেছেন সেই বিষয়ে আমরা শিক্ষার ক্ষেত্রে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে মনে করছি। এই প্রকল্প রাজ্যের বহু আর্থিক ভাবে পিছিয়ে পড়া ছাত্র-ছাত্রীদের সাহায্য করবে।

তবে ব্যাংক বেসরকারিকরন এবং অন্যান্য আর্থিক নীতির বিরুদ্ধে তাদের প্রতিবাদ জারি থাকবে বলে জানান।

১৯ শে জুলাই এই প্রতিবাদে ডালহৌসিতে মুক্ত মঞ্চে ব্যাংক বাঁচাও দেশ বাঁচাও আওয়াজ তুলে এক প্রতিবাদ সভার আয়োজন করেন সংগঠন। সেখানে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর বিভিন্ন নেতারা তার সাথে প্রতিবাদে সামিল শিক্ষক, ছাত্র, গ্রাহক, শিল্পী উপস্থিত ছিলেন এবং ব্যাংক কর্মচারী সাধারণ মানুষ সহ প্রায় হাজার মানুষের সমাবেশ হয়।

তবে তাদের এই আন্দোলন একই রকম ভাবে আগামী দিনে জারি থাকবে বলে জানান সঞ্জয়বাবু।