ডিজিটাল; ২৩ আগস্ট: ২০২১ সালের তথ্য প্রযুক্তি বিধির অধীনে জরুরি ক্ষমতা ব্যবহার করে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রক ৮টি ইউটিউব-ভিত্তিক খবরের চ্যানেল, ১টি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট এবং ২টি ফেসবুক পোস্ট-কে ব্লক করার নির্দেশ দিয়েছে। যে ইউটিউব চ্যানেলগুলিকে ব্লক করা হয়েছে, তার মোট দর্শক সংখ্যা ১১৪ কোটিরও বেশি এবং গ্রাহক সংখ্যা ৮৫ লক্ষেরও বেশি।

এই ইউটিউব চ্যানেলগুলিতে যে তথ্য সম্প্রচার করা হয়েছে, তার উদ্দেশ্য ভারতে ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে ঘৃণা ছড়ানো। ব্লক হওয়া ইউটিউব চ্যানেলগুলিতে সম্প্রচারিত একাধিক ভিডিও মিথ্যা দাবি করা হয়েছে। উদাহরণ-স্বরূপ বলা যায়, ভারত সরকার নাকি ধর্মীয় সৌধ ভেঙ্গে ফেলার নির্দেশ দিয়েছে; ভারত সরকার নাকি ধর্মীয় উৎসব পালনে নিষিদ্ধ করেছে; ধর্ম যুদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে ভারতে ইত্যাদি। এতে দেখা গেছে যে, এ ধরনের বিষয় দেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিতে ভাঙ্গন ধরানোর এবং সাধারণ জনজীবন ব্যাহত করার ক্ষমতা রয়েছে।

ইউটিউব চ্যানেলগুলিকে ব্যবহার করা হয়েছে ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনী, জম্মু ও কাশ্মীর ইত্যাদি বিষয়ে ভুয়ো খবর ছড়ানোর জন্য। দেখা গেছে, বিষয়গুলি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও জাতীয় নিরাপত্তা এবং বিদেশী রাষ্ট্রগুলির সঙ্গে ভারতের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের পরিপ্রেক্ষিতে অত্যন্ত সংবেদনশীল।

মন্ত্রক যে সমস্ত বিষয়গুলিকে ব্লক করেছে, দেখা গেছে, সেগুলি ভারতের সার্বভৌমত্ব, দেশের নিরাপত্তা, বৈদেশিক রাষ্ট্রগুলির সঙ্গে ভারতের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক এবং দেশে আইন-শৃঙ্খলা ব্যবস্থার পক্ষে ক্ষতিকারক। এ ধরনের বিষয়গুলি ২০০০ সালের তথ্য প্রযুক্তি আইনের ৬৯এ ধারার আওতাধীন।

ভারতের যে ইউটিউব চ্যানেলগুলিকে বন্ধ করা হয়েছে, দেখা গেছে তারা নির্দিষ্ট কয়েকটি টিভি নিউজ চ্যানেলের লোগো, কয়েকজন নিউজ অ্যাঙ্কারের ছবি ব্যবহার করেছে, যাতে দর্শকরা বিশ্বাস করেন যে, এই সংবাদটি সঠিক।

মন্ত্রকের দ্বারা ব্লক হওয়া ইউটিউব চ্যানেলগুলিতে যে সমস্ত বিজ্ঞাপন প্রদর্শিত হয়েছে, সেগুলিও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, আইন-শৃঙ্খলা ব্যবস্থা এবং ভারতের বৈদেশিক সম্পর্কের পক্ষে ক্ষতিকারক।

এই নিয়ে ২০২১ সালের ডিসেম্বর মাস থেকে মন্ত্রক ১০২টি ইউটিউভ-ভিত্তিক সংবাদ চ্যানেল এবং একাধিক সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছে।