ডিজিটাল; ৬ অক্টোবর: ২০১৮র মার্চ মাসে পোষণ অভিযান তথা পুষ্টি অভিযানের সূচনা হওয়ার পর থেকে পুষ্টি কেন্দ্রিক জন-আন্দোলন দেশজুড়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। ইতোমধ্যে আটটি এ ধরনের জন-আন্দোলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। মার্চ মাসে পোষণ পখওয়াড়া বা পুষ্টি পক্ষে চারটি এবং সেপ্টেম্বরে পুষ্টি মাসে চারটি এ ধরনের অভিযান সফলভাবে বাস্তবায়িত হয়েছে। বর্তমানে ২০২২এর পোষণ মাসে নবম আন্দোলনটি সংগঠিত হচ্ছে। এই আন্দোলনের মূল বিষয় পুষ্টির পাঁচটি সূত্র। জন্মের প্রথম এক হাজার দিনে শিশুর বিকাশে নজরদারি চালানো, রক্তাল্পতা প্রতিরোধ, আয়ুষ পদ্ধতিতে শিশুর দেখভাল করা, খাদ্য তালিকায় বৈচিত্র্য এবং প্রথাগত দেশীয় পদ্ধতিতে রান্না করার মতো বিষয়গুলির ওপর এই অভিযানে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এ বছর মার্চ মাসে চতুর্থ পুষ্টি পক্ষে জল ব্যবস্থাপনায় লিঙ্গ বৈষম্য দূরীকরণের ওপর বিশেষ অভিযান চালানো হয়।
বর্তমান পুষ্টি মাসেও নারী ও শিশু বিকাশ মন্ত্রক জলশক্তি মন্ত্রকের সঙ্গে যৌথভাবে জল সংরক্ষণ ও জলের যথাযথ ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে। ফল হিসেবে পুষ্টি মাসের প্রথম দুই সপ্তাহে জল ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত ১০ লক্ষ কর্মসূচি পালিত হয়। এই কর্মসূচির মাধ্যমে যথেষ্ট পরিমানে জল পান এবং জলকে দূষণমুক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। এরফলে যে খাবার আমরা খাই তার পুষ্টি আমাদের শরীর যথাযথভাবে পায়। সুরক্ষিত জল পান করলে শিশুদের ডাইরিয়ার মতো জলবাহিত নানা অসুখ থেকে রক্ষা করা যায়।
জলশক্তি মন্ত্রকের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে পুষ্টি মাসে অঙ্গনওয়াড়ী কেন্দ্রে বা তার আশেপাশে বৃষ্টির জল সঞ্চয় এবং জল সরক্ষণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। নারী ও শিশু বিকাশ মন্ত্রক সব রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিকে বৃষ্টির জল সঞ্চয়ের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছে। এ কাজে পোষণ পঞ্চায়েত এবং মায়েদের বিভিন্ন গোষ্ঠীর সাহায্যে গ্রামীণ স্বাস্থ্য পুষ্টি ও পয়ঃনিকাশী কমিটিগুলি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে।
জল সংরক্ষণ এবং জলের স্থিতিশীল ব্যবহারকে নিশ্চিত করতে প্রয়োজন মানুষের মধ্যে সচেতনতা গড়ে তোলা। এ কাজে অঙ্গনওয়াড়ী কর্মীদের ব্যবহার করা হচ্ছে। এইসব কর্মীরা দৈনন্দিন জীবনে শিশু, গর্ভবতী মহিলা এবং যেসব মা, তাঁদের সন্তানদের স্তন্যদান করেন- এঁদের সকলকে জলপানের গুরুত্ব সম্পর্কে প্রচার করছেন। এক্ষেত্রে বৃষ্টির জল সঞ্চয়, বাগানে, ঘর মোছা এবং শৌচাগার পরিষ্কার করার কাজে ব্যবহৃত জলের পুনর্ব্যবহারের সম্পর্কে অবহিত করা হচ্ছে।
গত মার্চ মাসে পুষ্টি পক্ষে জল ব্যবস্থাপনায় লিঙ্গ বৈষম্য দূরীকরণ সংক্রান্ত মোট ১ লক্ষ ৫৬ হাজার কর্মসূচি দেশজুড়ে পালিত হয়েছে। এছাড়াও ২০ হাজার অঙ্গনওয়াড়ী কেন্দ্রে বৃষ্টির জল সঞ্চয়ের বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পুকুর, কুয়ো, দীঘির মতো ২৪ হাজার জলাশয় পরিষ্কার করা হয়েছে অথবা সেখান থেকে পলি তোলা হয়েছে। ২৯ হাজার পঞ্চায়েত এবং পুরসভায় জল সংরক্ষণ নিয়ে নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন জলশক্তি কেন্দ্র এবং অঙ্গনওয়াড়ী কেন্দ্রে বৃষ্টির জল সঞ্চয়ের জন্য মোট ৩৪ হাজার কর্মসূচি পালিত হয়েছে। স্থানীয় অসরকারি সংগঠনগুলির সহায়তায় জল ব্যবস্থাপনার জন্য ৪৬ হাজার কর্মসূচি পালিত হচ্ছে।
এছাড়াও জল সংরক্ষণ এবং জল সঞ্চয়ের জন্য মহিলাদের সচেতন করে তুলতে ৫৪ হাজার কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছে। পাশাপাশি ৮ লক্ষের বেশি স্বেচ্ছাসেবক নিয়মিত হাত ধোয়া, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকা এবং পয়ঃনিকাশী ব্যবস্থাপনাকে যথাযথভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করার জন্য ‘ওয়াশ’ কর্মসূচি সফলভাবে রূপায়ণ করেছে।
নারী ও শিশু বিকাশ মন্ত্রক, জলশক্তি মন্ত্রক, পঞ্চায়েতী রাজ ও গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রক যৌথভাবে বিভিন্ন গ্রামের জল সমিতি, কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্র এবং কৃষক কমিটিগুলির সঙ্গে যৌথভাবে কর্মসূচিগুলি বাস্তবায়িত করছে।
