ডিজিটাল; ১৫ অক্টোবর : শস্যের অবশিষ্টাংশ- যা নাড়া নামে পরিচিত, তা পোড়ানো বন্ধ করে পরিবেশ দূষণ রোধে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। নানা কাজে এর ব্যবহার বাড়াতে সরকার উদ্যোগী হয়েছে। শস্যের অবশিষ্টাংশকে নির্দিষ্ট আকারে কেটে তা গবাদি পশুর খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করা অথবা ওই অবশিষ্টাংশকে জ্বালানীর কাজে লাগানোর জন্য কৃষকদের উৎসাহিত করা হচ্ছে। এর জন্য কৃষকরা যাতে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম কিনতে পারেন, সরকার সে বিষয়ে পরিকল্পনা করেছে।
কেন্দ্রীয় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদব নতুন সরঞ্জাম কিনে প্রয়োজনীয় শিল্প গড়ে তুলতে সরকারি সাহায্যের নীতি-নির্দেশিকা প্রকাশ করেছেন। শস্যের অবশিষ্টাংশকে না পুড়িয়ে তা কিভাবে অন্য কাজে ব্যবহার করা যায় এই বিষয়ে আয়োজিত কর্মশালায় মন্ত্রী নির্দেশিকাটি প্রকাশ করেন। কেন্দ্রীয় পরিবেশ দূষণ পর্ষদ এটি তৈরি করেছে। এর ফলে জাতীয় রাজধানী অঞ্চল দিল্লি, পাঞ্জাব, হরিয়ানা, রাজস্থান এবং উত্তরপ্রদেশ সহ উত্তর ভারতের যেসব রাজ্যে নাড়া পোড়ানোর ফলে পরিবেশ দূষণের সমস্যা দেখা দেয়, সেই রাজ্যগুলির এই সমস্যার সমাধান করতে এর ফলে সুবিধা হবে। নতুন এই নির্দেশিকা অনুযায়ী শুকনো খড় তৈরির জন্য কেউ যদি শিল্প গড়তে চান তাহলে তাকে প্রতি ঘণ্টায় ১ টন খড় উৎপাদনকারী যন্ত্রের জন্য সর্বোচ্চ ১৪ লক্ষ টাকা অনুদান দেওয়া হবে। এক্ষেত্রে শিল্প গড়ার জন্য সর্বোচ্চ ৭০ লক্ষ টাকা অনুদান পাওয়া যাবে।
জ্বালানীর জন্য শস্যের অবশিষ্টাংশের প্রয়োজনীয় উপাদানে পরিণত করার যন্ত্র কেনার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১ কোটি ৪০ লক্ষ টাকা অনুদান বাবদ দেওয়া হবে। এই কাজে যেসব যন্ত্র প্রতি ঘণ্টায় ১ টন জ্বালানী উৎপাদন করতে পারবে সেগুলি কেনার জন্য ২৮ লক্ষ টাকা অনুদান দেওয়া হবে। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু মন্ত্রক প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য ৫০ কোটি টাকার তহবিলের সংস্থান করেছে। মন্ত্রক ইতোমধ্যেই ইথানল উৎপাদনের জন্য ১৯০টি সংস্থাকে পরিবেশগত ছাড়পত্র দিয়েছে। শ্রী যাদব জানান, হরিয়ানার পানিপথে ইথানল উৎপাদনের যে কারখানাটি প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী জাতির উদ্দেশে উৎসর্গ করেছেন সেই কারখানা থেকে প্রতি বছর প্রায় ২ লক্ষ মেট্রিক টন জ্বালানীর উপাদান উৎপন্ন হবে বলে আশা করা যায়।
