ডিজিটাল; দেবাঞ্জন দাস; ১৪ নভেম্বর : আজ ওরা ডাক্তার। কারোর বয়স পাঁচ বছর কারোর আবার সাত বছর। হসপিটালে ভর্তি থাকা রোগীদের কাছে গিয়ে কথা বললো এই ছোট্ট ডাক্তারবাবুরা। কার কি অসুবিধা শরীরের হাল হকিকত জানার চেষ্টা করল। সঙ্গে উপহার এবং কেক তুলে দিলো ভর্তি থাকা রোগীদের হাতে। শিশু দিবস উপলক্ষে কলকাতার অ্যাপোলো মাল্টি স্পেশালিটি হসপিটাল অভিনব উদ্যোগ নিল।
যে সমস্ত শিশুরা আজ ডাক্তারের ভূমিকা ছিলেন তারা কোনো না কোনো শারীরিক সমস্যার জন্য ভর্তি ছিলেন এই হাসপাতালে। এখন তারা সুস্থ । এরাম ধরনের উদ্যোগ হয়তো খুব কম সংস্থাই করে থাকে। তার ওপর শিশু দিবস উপলক্ষে এরকম উদ্যোগের ভুসী প্রশংসা করেছেন সেই সমস্ত শিশুদের অভিভাবকেরা।
শুধু যে ভর্তি থাকা বিভিন্ন রোগীদের সঙ্গে কথা বলাই নয় সম্পূর্ণ একজন ডাক্তার যে ভাবে রোগীদের কাছে যান অর্থাৎ অ্যাপ্রন এবং স্ট্যাটাস্কোপ নিয়ে তার সাথে নাম খোদাই করা ব্যাচ। তাদের সঙ্গে অবশ্যই ছিলেন হাসপাতালে ডাক্তারেরা।
কেক কাটা তার সঙ্গে গিফটস এবং সার্টিফিকেট দেওয়া হয় এই সমস্ত ছোট্ট ছোট্ট ডাক্তার বাবুদের। সারা দেশের অ্যাপোলো হসপিটালের তরফ থেকে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।

ইভেন্টে এমন গেমস ছিল যা শুধু শিশুদেরই ব্যস্ত করেনি, তাদের স্বাস্থ্য সম্পর্কেও অবহিত করেছে। ‘নো ইওর অর্গানস’-এ শিশুদের জনপ্রিয় ফোর কর্নার কিডস পার্টি গেমের একটি ভিন্নতা খেলতে এবং হৃদপিণ্ড, ফুসফুস, হাড়, পেশী, চোখ, নাক, মস্তিষ্কের মতো একটি নির্দিষ্ট অঙ্গ সম্পর্কে প্রশ্নের উত্তর দিতে হয়েছিল। শিশুরোগ বিশেষজ্ঞরা একটি সুস্থ শিশু নিশ্চিত করার পরামর্শ দিয়ে পিতামাতার সাথে কথা বলেছেন।
বাবা-মা এবং বাচ্চারা সবাই এমন একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে তাদের আনন্দ প্রকাশ করেছিল যা শুধুমাত্র মজাই ছিল না কিন্তু তাদের একটি শিশুর স্বাস্থ্যের গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলির বিষয়ে অনেক জ্ঞানও দিয়েছিল। শিশুরা একটি বিশেষ বোর্ডে আটকানো স্টিকি নোটে সৃজনশীল বার্তা লিখে তাদের আনন্দ প্রকাশ করে।

ডাঃ সুরিন্দর সিং ভাটিয়া, ডিরেক্টর মেডিক্যাল সার্ভিস, অ্যাপোলো মাল্টিস্পেশালিটি হাসপাতাল, কলকাতা, বলেন, ‘আমাদের শিশুরা আমাদের ভবিষ্যতের প্রতিনিধিত্ব করে। এটা নিশ্চিত করা আমাদের দায়িত্ব যে তাদের প্রস্ফুটিত হওয়ার এবং সুখী প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে বেড়ে উঠার সমস্ত সুযোগ দেওয়া হয়েছে যারা সমাজে ইতিবাচক অবদান রাখতে পারে। আমরা আনন্দিত যে আমরা এই শিশুদের যত্ন নিতে এবং তাদের সুস্থতা ফিরিয়ে আনতে পেরেছি। ইভেন্টটি পিতামাতা এবং শিশুদের আমাদের উপর তাদের আস্থা রাখার জন্য ধন্যবাদের একটি ছোট চিহ্ন। এই নিষ্পাপ শিশুদের বাধাহীন আনন্দ এবং হাসি আমাদের পুরস্কার। অ্যাপোলোতে, আমরা বিশ্বাস করি যে প্রতিটি শিশু খাদ্য, বাসস্থান এবং শিক্ষার মৌলিক চাহিদার পাশাপাশি সর্বোত্তম স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার যোগ্য।’

ডাক্তার অমিতাভ পাহাড়ির কথায়, বর্তমান যুগে শিশুদের মধ্যেও ডায়াবেটিসের একটা প্রবণতা দেখা যাচ্ছে এবং তা লাইফস্টাইল পরিবর্তন কিছু ভাইরাল ইনফেকশন এইগুলি বিশেষ করে এর জন্য দায়ী। বর্তমানে শিশুরা যেই ধরনের খাবার বেশি পছন্দ করে অর্থাৎ ফাস্টফুড সেই খাবার থেকে সরে আসতে হবে। সেক্ষেত্রে খেলাধুলা এবং স্বাস্থ্যকর খাবার ফল এই ধরনের খাবার খেলে বর্তমানে যে সমস্ত রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা যাচ্ছে বাচ্চাদের মধ্যে তা কিন্তু অনেকটাই কমে আসবে।

শিশুদের ক্ষেত্রে যোগা করার প্রবণতা নিয়ে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন ডাক্তার পাহাড়ি বলেন আমি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে বলছি যোগা শিশুরা তেমনভাবে উপভোগ করেন না। সেক্ষেত্রে আমি বলবো ক্রিকেট, ফুটবল যে সমস্ত খেলায় শারীরিক পরিশ্রম বেশি।