ডিজিটাল: আমরা কমবেশি সকলেই জানি যে, সাইট্রাস ফল আমাদের সুস্বাস্থ্যের জন্য দারুন উপকারী। কমলালেবু হল সাইট্রাস ও রসালো ,সুমিষ্ট একটি ফল। এর বৈজ্ঞানিক নাম Citrus reticulata (সাইট্রাস রেটিকুলাটা) । শীতের মরসুমে মরসুমি ফল খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য ভীষণ উপকারী। শীতকাল মানেই প্রত্যেক ঘরে ঘরে এখন কমলালেবুর জুড়ি মেলা ভার। টক-মিষ্টি রসালো কমলালেবু পুষ্টিকর উপাদানে ভরপুর হওয়ায় এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ আমাদের সুস্বাস্থ্যের জন্য। পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ হলেও কমলালেবু কিন্তু খাওয়া উচিত পরিমিত পরিমাণে।এটি ফল হিসেবে যেমন খাওয়া হয়, তেমনই কমলালেবু দিয়ে নানা ধরনের পদ রেঁধে নেওয়াও যায়। কমলালেবু খেয়ে অনেকেই কমলালেবুর খোসা ফেলে দেন,কমলালেবুর খোসাতেও কিন্তু ভিটামিন সি (অ্যাসকরবিক অ্যাসিড) রয়েছে।শীতের মরসুমে নিয়মিত কমলালেবু খেলে কিছুটা হলেও সর্দি-কাশি দূরে থাকে।কমলালেবু শরীরকে হাইড্রেটেড রাখতে সাহায্য করে। কমলালেবুর ভিটামিন সি রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে তোলে এবং ত্বক ভালো রাখতে দারুণ কার্যকরী। কমলালেবুর মধ্যে থাকা অম্লমধুর সুভাষ আমাদের মনও ভালো করে দেয়। কমলা শতগুণে সমৃদ্ধ । কমলায় রয়েছে ভিটামিন-সি, ভিটামিন-এ, বি১, বি২, বি৫ ও বি৯, অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, পটাসিয়াম ও ডায়েটারি ফাইবার।কমলালেবু খেলে কী কী উপকার পেতে পারেন, জেনে নিন –
১: শীতকালে ত্বক, স্বাস্থ্য ও হজম প্রক্রিয়া তিনটিই দুর্বল হয়ে পড়ার সম্ভাবনা অনেকাংশে বৃদ্ধি পায়।কমলা লেবুর মধ্যে থাকা ভিটামিন সি ত্বকের যে কোনও সমস্যা দূর করে ত্বক উজ্জ্বল করতে সাহায্য করে।এছাড়াও কমলালেবু রোগসংক্রমণ আটকায় ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে শক্তিশালী করে।
২: শীতকালে ঘরে ঘরে সর্দি-কাশির প্রকোপ লেগেই থাকে। কমলালেবুতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি থাকায়,এটি সর্দি-কাশি থেকে রক্ষা করে।
৩: ত্বকের সৌন্দর্য রক্ষা করে কমলালেবু।ঝকঝকে ত্বকের জন্য ভিটামিন-সি এবং অ্যান্টি অক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ কমলালেবু অনবদ্য। ব্রন, সানবার্ন, ত্বকের শুষ্কতা ইত্যাদি বিভিন্ন সমস্যা থেকে ত্বককে রক্ষা করে কমলালেবু।
৪: কমলালেবুতে আয়রন প্রাথমিক ভাবে থাকে না। তবে, এই ফলে অ্যাসকরবিক অ্যাসিড(ভিটামিন সি) ও সাইট্রিক অ্যাসিড থাকে, যা হজমের সময় আয়রনের মাত্রা অনেকাংশে বাড়িয়ে দেয়। তাই কমলালেবু খেলে রক্তে আয়রনের মাত্রা বাড়ে, অ্যানিমিয়া দূর হয়।
৫: ভিটামিন এ থাকায় এই ফল রাতকানা রোগ প্রতিরোধ করে। বয়স সংক্রান্ত চোখের সমস্যাও প্রতিরোধে সাহায্য করে এই ফল।
৬: কমলালেবুর ডায়েটারি ফাইবার এবং ফাইটোনিউট্রিয়েন্টস রক্তে শর্করার মাত্রা নিন্ত্রয়ণে রাখতে সাহায্য করে।
৭: কমলালেবু স্ট্রেস হরমোনের ক্ষরণ কমিয়ে মুড বুস্টিং হরমোনের ক্ষরণ বাড়ায়। স্মৃতি শক্তি বাড়াতে কমলালেবু বিশেষ ভূমিকা রয়েছে বলেই জানা গেছে।
৮: কমলালেবুর মধ্যে রয়েছে, পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, ভিটামিন বি এবং হেসপিরিডিন নামে যৌগ ,যেটি রক্তের উচ্চচাপকে নিন্ত্রণ করে,ফলস্বরূপ স্ট্রোক, হার্ট অ্যাটাকের সম্ভবনা কমিয়ে দেয়।
৯: কমলাতে দ্রবণীয় ফাইবার থাকে( পেকটিন) , এটি রক্তের মধ্যে উপস্থিত খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা হ্রাস করে এবং ভালো কোলেস্টেরলের মাত্রা বৃদ্ধিতে সহায়তা করে,যা রক্তের কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে।
১০: কমলা লেবু তে ডি-লিমোনিন থাকে, যা ফুসফুসের ক্যান্সার, ত্বকের ক্যান্সার এমনকি স্তনের ক্যান্সারের মতো ক্যান্সার প্রতিরোধে সহায়তা করে।