ডিজিটাল; ১৮ ডিসেম্বর: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় সরকার বিগত বছরগুলিতে পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলির পরিকাঠামো উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রচুর কাজ করেছে। প্রধানমন্ত্রীর চিন্তাভাবনায় পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলির একটি বিশেষ স্থান রয়েছে। ‘গতি শক্তি’ কর্মসূচি রূপায়ণেও এই রাজ্যগুলির ওপর প্রধানমন্ত্রী সার্বিক গুরুত্ব আরোপ করেছেন।

কলকাতায় উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় পরিষদের ২৫তম বৈঠকে সভাপতিত্বকালে একথা বলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র তথা সমবায় মন্ত্রী অমিত শাহ। তিনি বলেন, আগামী ২৫ বছরে অর্থাৎ, স্বাধীনতার অমৃতকালে পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলির এক বিশেষ ভূমিকা রয়েছে দেশের সার্বিক উন্নয়ন প্রচেষ্টায়।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে গত আট বছরে আঞ্চলিক পরিষদগুলির বিভিন্ন বৈঠকে ১ হাজারটির মতো সমস্যা সম্পর্কে আলোচনা করা হয়। এগুলির ৯৩ শতাংশেরই সমাধানের কাজ সেরে ফেলা হয়েছে। এটি নিঃসন্দেহে এক বিরাট সাফল্য।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী জানান যে ২০০৬-১৩ – এই আট বছরে আঞ্চলিক পরিষদগুলির মোট ছ’টি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। কিন্তু, ২০১৪ এবং তার পরবর্তীকালে অতিমারীজনিত পরিস্থিতি সত্ত্বেও অনুষ্ঠিত হয়েছে মোট ৩০টি বৈঠক। আঞ্চলিক পরিষদগুলির বিভিন্ন বৈঠক আরও ঘন ঘন করে তোলার প্রচেষ্টার ক্ষেত্রেও তাৎপর্যপূর্ণ সাফল্য এসেছে। কেন্দ্রের বিভিন্ন মন্ত্রক, সংশ্লিষ্ট রাজ্য সরকার এবং বিভিন্ন দপ্তরের সহায়তা ও সহযোগিতায় বৈঠকগুলির ফলাফলও হয়েছে বেশ সন্তোষজনক। এই সহযোগিতা প্রচেষ্টা আন্তঃরাজ্য পরিষদের সচিবালয়ের কাজকর্মেও এক সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছে বলে শ্রী শাহ উল্লেখ করেন।

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী বলেন, দেশের পূর্বাঞ্চলে উগ্রপন্থী তৎপরতাকে প্রায় নির্মূল করে দেওয়া হয়েছে। উগ্রপন্থা দমনের লক্ষ্যে এই প্রচেষ্টাকে নিরন্তর করে তোলার অনুকূলেও তিনি বক্তব্য রাখেন। শ্রী শাহ বিশেষ জোর দিয়ে বলেন, যে সমস্ত রাজ্য এখনও উগ্রপন্থীদের কবলমুক্ত রয়েছে সেখানেও যাতে এই সন্ত্রাসের রাজনীতি মাথাচাড়া দিয়ে না উঠতে পারে, সেজন্য সজাগ ও সতর্ক থাকা দরকার। মাদক ও নেশাদ্রব্যের পাচার ও বিপণন রোধে জেলা পর্যায়ে এনসিওআরডি-র ধাঁচে একটি করে কাঠামো গড়ে তোলার জন্য তিনি আর্জি জানান রাজ্যগুলির মুখ্যমন্ত্রীদের কাছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী বলেন যে মাদক পাচারের বিরুদ্ধে তৎপরতা বর্তমানে এক গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে রয়েছে। কৃত্রিম মেধাশক্তিকে হাতিয়ার করে মাদকের বিরুদ্ধে অভিযানকে আরও জোরদার করে তোলার আহ্বান জানান তিনি।

পরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী জানান, পূর্বাঞ্চলীয় পরিষদের ২৫তম বৈঠকটি এক হৃদ্য ও ইতিবাচক পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুধু তাই নয়, বিভিন্ন বিষয়ে মতৈক্যে পৌঁছনোও সম্ভব হয়েছে। যে সমস্ত সমস্যার নিরসনের কাজ এখনও বাকি রয়েছে সেগুলি আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সুরাহা করা যেতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন।