ওয়েব ডেস্ক: জন্ডিস ইংরাজী প্রতিশব্দ বাংলাতে ইহাকে ন্যাবা বলা হয়। জন্ডিস হচ্ছে রোগের একটা অবস্থা, যাতে শরীরে চামড়া, চোখের সাদা অংশ এবং জিহ্বার নিম্ন স্থান হলুদ বর্ণ ধারণ করে।

কিভাবে জন্ডিস হয় : লিভারের মধ্যে পিত্তথলির স্থান। সেই পিত্তথলি থেকে নিঃসৃত পিত্ত কোনও কারণে বের হয়ে অস্ত্রে যেতে না পারলে সেই পিত্ত যখন রক্তে মিশ্রিত হয় তখন চো হাত, পা, হাতের ও পায়ের নখ, সমস্ত শরীর হলুদ বর্ণ ধারণ করে। এই অবস্থাকেই বাংলাে মাথা বলা হয়।

জন্ডিসের কারণ : কারণ অনুযায়ী জন্ডিসকে চারটি শ্রেণীতে ভাগ করা হয় । (১) হিমোলাইটিক জন্ডিস কারণ: কোন কারণে লোহিত কণিকা ভেঙ্গে যায় ক্রনিক ইনফেকশান • বিষ • ঠিক মত পরীক্ষা না করে রক্ত দান করা।

(২) হেপাটো সেলুলার জন্ডিস ভাইরাস অসুখের কারণ বিষাক্ত দ্রব্যাদি ব্যবহার করা, • প্রয়োজনীয় খাবারের অভাব।

(৩) পিত্তথলির নালী অবরুদ্ধ হওয়া : পিত্তপাথর, পিত্তথলিতে পিত্তের জমাট বাধা এবং ক্রিমি পিত্তনালীকে অবরুদ্ধ করে ন্যাবা তৈরী করতে পারে।

(৪) অবস্ট্রাকটিভ জন্ডিস : পিত্তনালীর বাইরে কোন চাপের ফলে পিত্তনালীর রাস্তা অবরুদ্ধ হয়ে এই প্রকারের জন্ডিস হয়। যেমন প্যানক্রিয়াসের হেডে ক্যান্সার হলে এই জন্ডিস হয়।

সাধারণভাবে উভয়ক্ষেত্রেই নিম্নোক্ত লক্ষণগুলি প্রকাশ পায়।

লক্ষণাবলী : * প্রথমে শরীর ও প্রস্রাব, পরে ঘাম পর্যন্ত হলুদ হয়। গা বমি ও খিদে কমে।

কোষ্ঠবদ্ধতা, পায়খানা কখনও মাটির মত হয়। উদরাময়, পেট ফাঁপা, মলে দূর্গন্ধ।

গায়ে চুলকানি বিশেষত পুরানো অবস্থায়। অনিদ্রা ও দুর্বলতা।

ধীর গতিবিশিষ্ট নাড়ী। এমন কি নাড়ীর স্পন্দন মিনিটে ৩০/৪০ বারও হয়। চিকিৎসা ও রোগ প্রতিরোধক ব্যবস্থা :

বিছানায় শুয়ে সম্পূর্ণ বিশ্রাম নিতে হবে। প্রচুর পরিমাণে পানীয় বিশেষ করে গ্লুকোজের জল পান করতে হবে। রোগীকে সহজপাচ্য, চর্বিবর্জিত খাবার খেতে হবে। সর্বদা পরিশুদ্ধ জল পান করতে হবে। তবে সবচেয়ে ভালো ফোটানো জল পান করা। রোগীর পায়খানা প্রস্রাব সযত্নে পরিষ্কার করতে হবে। যাতে কোন অবস্থাতে এই সমস্ত দূষিত জিনিস খাদ্যের সঙ্গে বা পানীয়ের সঙ্গে মিশে না যায়।