ওয়েব ডেস্ক: গ্রীষ্মকাল নাম শুনলেই যেন আমাদের ভ্রূ কুঁচকে যায়। সত্যিই যা অসহ্য তাপপ্রবাহ! কিন্ত এখানে একটা কথা বলে রাখি ,সকলের কিন্তু গ্রীষ্মকাল অপছন্দের নয়! এইসময় বাজারে গেলেই আমরা বিভিন্ন মাছ, সবজি এগুলোর সাথে সাথেই কিন্তু দেখতে পাই নানান ধরনের মরসুমি ফলের সমারহ। এই সময় আম, জাম, কাঁঠাল,সবেদা ,লিচু, তরমুজ প্রভৃতি রসালাে ও সুস্বাদু ফল পাওয়া যায়। আম হলো গ্রীষ্মের অন্যতম সুমিষ্ট মৌসুমী ফল। আমকে বলা হয় “ফলের সম্রাট”। ল্যাংড়া, ফজলি, সুরমা ফজলি,গােলাপখাস, হিমসাগর, বােম্বাই, লক্ষ্মণভােগ প্রভৃতি নানারকমের আম হয়।আর এক এক আমের এক এক রকমের স্বাদ-মিষ্টি।আম এমনই একটি ফল, যা ছোট থেকে বড় সকলেরই ভীষণ প্রিয়।ভারতের জাতীয় ফল আম। আমের বৈজ্ঞানিক নাম ম্যাঙ্গিফেরা ইনডিকা (Mangifera indica)। আর আম নিয়ে কথা বলতে শুরু করলে বাঙালির একটা গোটা মাস ও কম পড়বে। আপনারা জানেন কি যে পুষ্টির স্টোরহাউসও কিন্ত এই আম।
তাহলে চলুন জেনে নেওয়া যাক সুমিষ্ট পাকা আমের দারুণ কিছু স্বাস্থ্য উপকারিতা সম্পর্কে-
১) আম অ্যাসিডিটির সমস্যা হ্রাস করে কারণ আমে রয়েছে টারটারিক অ্যাসিড, ম্যালিক অ্যাসিড ও অল্প পরিমাণে সাইট্রিক অ্যাসিড।
২) চোখের জন্য আম কিন্তু ভীষণ উপকারী কারণ পর্যাপ্ত পরিমাণ ভিটামিন-এ’র উপস্থিতি রয়েছে সুমিষ্ট এই ফলটিতে।আম দুটি ক্যারোটিনয়েড প্রদান করে, লুটেইন এবং জেক্সানথিন, যা চোখের রেটিনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
৩) পাকা আম কোলেস্টেরল মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করে। এতে রয়েছে উচ্চমাত্রার ভিটামিন-সি, পেকটিন ও আঁশ বা তন্ত। যা রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রাকে কমাতে সহায়তা করে।
৪)পাকা আম খাদ্য পরিপাকে সাহায্য করে। পাকা আমের মধ্যে বিদ্যমান পর্যাপ্ত পরিমাণ আঁশ জাতীয় উপাদান হল পেকটিন,যা পাকস্থলীর খাদ্য উপাদানকে ভালোভাবে পরিপাক হতে সাহায্য করে।
৫) পাকা আম রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়ক।
আমে থাকা ভিটামিন-সি, এ এবং ক্যারোটিনয়েডস খুব সহজেই শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে বৃদ্ধি করতে
সক্ষম। রোগ প্রতিরোধের পাশাপাশি বিভিন্ন ইনফেকশনের সমস্যা কমাতেও সমানভাবে অবদান রাখে এই ফলটি।
৬) ফ্রি রেডিক্যাল ক্যান্সার কোষ সৃষ্টির জন্য দায়ী। আমের মধ্যে উপস্থিত অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের মধ্যে উপস্থিত ফ্রি রেডিক্যালকে ধ্বংস করে।
৭) আম ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ হওয়ায় এটি হাড় ও দাঁত মজবুত করতে সক্ষম।
৮) আম আয়রন সমৃদ্ধ হওয়ায় এটি রক্তাল্পতা প্রতিরোধ করতে পারে।
৯)আঁশযুক্ত হওয়ায় আম কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে।
বিঃ দ্রঃ : ডায়াবেটিস রোগীরাও আম খেতে পারেন, তবে সীমিত পরিমাণে, তা না হলে সুগারের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা কিন্তু থেকেই যায়। এই ফলের গ্লাইসেমিক ইনডেক্স অনেক বেশি হওয়ায় চিকিৎসকরাও ডায়াবেটিসে আম কম খাওয়ার পরামর্শ দেন। কোনো খাবারই কখনো অতিরিক্ত পরিমাণে খাওয়া উচিত নয়। পাকা আম উচ্চ ক্যালোরি ,উচ্চ শর্করাসমৃদ্ধ হওয়ায় ডায়াবেটিক পেশেন্টেরা অবশ্যই পুষ্টিবিদদের পরামর্শ নিয়ে শরীরের চাহিদা অনুযায়ী পাকা আম খেতে পারেন।
