ওয়েব ডেস্ক; সৌম্যদীপ বেরা: পটচিত্রের প্রচলন সেই প্রাচীন কাল থেকেই । পটচিত্রে পুরাণের বিভিন্ন অংশ থেকে শুরু করে বর্তমান সমাজের বিভিন্ন অবস্থা সবই ফুটে ওঠে পটুয়াদের রং তুলির মাধ্যমে। আর এই পটের কথা শুনলেই মূলত তিনটে জায়গার কথাই আমাদের মাথায় প্রথম আসে। কালীঘাটের পট, রঘুরাজপুর এর পট এবং মেদিনীপুরের পট। এই মেদিনীপুরের পট বলতে আমাদের যেটা মাথায় আসে তা হলো মেদিনীপুরের পিংলা এবং নয়ার পট।
তবে পূর্ব মেদিনীপুরের চন্ডিপুরে পটের একটা গ্রাম রয়েছে বা পট চর্চার একটা বিশেষ আখড়া রয়েছে যা আমরা অনেকেই জানিনা। এখান থেকে বেশ কিছু শিল্পী রাষ্ট্রপতি থেকে পুরস্কারপ্রাপ্ত।
এ বিষয়ে আমারও বিশেষ জানা ছিল না। শনিবার বিকেলে বিশেষ কাজ না থাকায় একটা সিনেমা দেখার জন্য চলে গেছিলাম নন্দন এ। আশেপাশটা ঘুরে দেখি রবীন্দ্রসদন চত্বরে একটা ছোট্টমেলার মত বসেছে । কিছু বইয়ের দোকান আর গুটিগত হস্তশিল্পের। তার মধ্যেই দেখলাম এক পটুয়া তার নাতিকে সঙ্গে করে পসার পেতে বসেছেন।
নিজের কৌতহল বশতঃ ওই বয়স্ক ভদ্রলোককে জিজ্ঞেস করলাম,
কাকু পিংলা থেকে আসছেন তো ?
উনি বললেন, না না, আমার বাড়ি চন্ডিপুর ।
আমি খানিকটা অবাক হয়ে বললাম, চন্ডিপুরেও পট হয় ?
ওনার উত্তর শুনে আমি হতবাক।
বললেন ” আমার নাম গোলাপ চিত্রকর। বাড়ি হবিচক পোস্ট নন্দাপুর, থানা চন্ডিপুর, পূর্ব মেদিনীপুর। চন্ডিপুরে নেমে যেকোনো টোটোকে বললে আমাদের হবিচকে পৌঁছে দেবে। ওখানে যে ৪০ – ৪৫ টা পরিবার রয়েছে তার মধ্যে ১০ থেকে ১২ টা পরিবারই পট এর সাথে যুক্ত। আমার বড় ছেলে নুরদিন চিত্রকর এবং বৌমা কল্পনা চিত্রকর রাষ্ট্রপতি পুরস্কার প্রাপ্ত। আমি নিজেও রাজ্যপাল থেকে পুরস্কার পেয়েছি। “
সত্যি আজও আমাদের কাছে কত কিছু অজানা, কত মানুষ মানুষ অজানা । গোলাপ চিত্রকর তার নাতিকে নিয়ে এসেছেন হাতে আঁকা কিছু জিনিস বিক্রি করতে। মানুষ আসছে, দেখছে, ছবি তুলছে, চলে যাচ্ছে। এই মানুষজনের খোঁজ কেউ রাখে না। এভাবেই এমন অনেক শিল্পী ও শিল্প ধীরে ধীরে কালের নিয়মে হারিয়ে যাচ্ছে। আদৌ কি বাংলা ফিরবে তার পুরোনো ছন্দে!!!
